আলোকিত মানুষের কথা – একান্তে আলোকচিত্রী মউদুদুল আলম ।

0
1230

আলোকিত মানুষের কথা!
একান্তে আলোকচিত্রী মউদুদুল আলম।
সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন–
মুহাম্মদ মনসুরুল আজম।

আমাদের এই সমাজ যাদের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়েছে তাদেরই আমরা আলোকিত মানুষ বলে থাকি। আমরা হ্যালো জনতা পরিবারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিয়েছি সমাজের বিভিন্ন সেক্টর যেমন ক্রীড়া, শিল্প,সাহিত্য, শিক্ষা, আলোকচিত্র,সংস্কৃতি ইত্যাদি মাধ্যমের আলোকিত কিছু ব্যক্তিত্ব কে তুলে ধরার। যে মানুষদের মহৎ চিন্তা বাস্তবায়নে সমাজে ভূমিকা রাখছে, মানুষের চিন্তাধারার পরিবর্তন আসছে সর্বোপরি দেশ গঠনে যাদের অবদান অপরিসীম।
আমরা তাঁদের জীবনের গল্প শুনব, চেষ্টা করবো তা থেকে শিক্ষা নেবার। ধারাবাহিক এই পর্বের
আজকের অতিথি হিসেবে এসেছেন বিখ্যাত আলোকচিত্রী জনাব মউদুদুল আলম। তার সাথে একান্ত আলাপচারিতায় মুখরিত হয়ে উঠেছিল আমাদের অফিস ডেস্ক।
হ্যালো জনতা পাঠকদের জন্যে সাক্ষাৎকার টি তুলে ধরা হলো।

হ্যালো জনতা ;- প্রথমেই আপনার কাছে জানতে চাইবো ফটোগ্রাফি করার চিন্তাটা আপনার মাথায় কিভাবে এলো?
মউদুদুল আলম ;- ১৯৭৫ সালের কথা, তখন আমি এইচ এস সি তে পড়ি। কলেজ ল্যাবরেটরিতে কাজ করার সময় একটি দুর্ঘটনায় চোখে আঘাত পেয়ে ঘরে শয্যাশায়ী ছিলাম। তখন আমার এক বন্ধু আমাকে একটি বই উপহার দেয়, নাম ছিল আধুনিক ফটোগ্রাফি। এই বই পড়ে আমার ফটোগ্রাফির উপর বেশ আগ্রহ জন্মে। তারপর আমার ইমিডিয়েট বড় ভাই মাসুদুল আলম আমাকে ছবি পরিস্ফুটন করার এনলারজার একটা যন্ত্র কিনে দেয় ওইটা নিয়ে সারাদিন কাজ করতাম এভাবেই ফটোগ্রাফির উপর আকৃষ্ট হয়ে পড়ি।
পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা বিভাগে ভর্তি হয়ে যাই। তারপর একদিন ইত্তেফাক পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপন দেখি ফটোগ্রাফি শেখার। সেখানে ভর্তি হওয়ার জন্য ঢাকা চলে আসি। মঞ্জুর আলম বেগ স্যারের কাছে আমার ফটোগ্রাফির হাতেখড়ি হয়।
উনি আমাকে বাংলাদেশ ফটোগ্রাফি সোসাইটির মেম্বার করে দেন। তখন চট্টগ্রামে ফটোগ্রাফির কোন কিছু ছিলনা, পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে চট্টগ্রাম ফটোগ্রাফি সোসাইটি গঠন করি।
এভাবেই একসময় ফটোগ্রাফিতে জড়িয়ে পড়ি।

হ্যালো জনতা ;-এককথায় বলুন ফটোগ্রাফি কি?
মউদুদুল আলম ;- ফটোগ্রাফি একটা শিল্প,যা মানুষের মনের কথা বলে।ফটো মানে আলো গ্রাফ মানে আঁকা এককথায় আলো দিয়ে আঁকা । সহজ ফটোগ্রাফি’র সংজ্ঞা হলো একটা সময় অথবা একটা মোমেন্ট কে ক্যামেরার মাধ্যমে আটকে ফেলা।

হ্যালো জনতা ;- বাংলাদেশে ফটোগ্রাফির ভবিষ্যৎ কেমন দেখেন?
মউদুদুল আলম ;- ফটোগ্রাফিতে দক্ষিণ এশিয়ার প্রাণকেন্দ্র হলো আমাদের এই বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ছেলেরা অনেক ভালো করছে ফটোগ্রাফিতে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সবধরনের কন্টেষ্টে বাংলাদেশের ছেলেরা পুরস্কার পাচ্ছেন। আমার কাছে পুরো বাংলাদেশ কে একটা ছবি মনে হয় কারন এত রূপবৈচিত্র অন্য কোন দেশের নেই। বাংলাদেশে অনেক সাবজেক্ট রয়েছে ছবি তোলার জন্য যা পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখা যায়না।
এখন ফ্রিল্যান্সার ফটোগ্রাফাররা বিভিন্ন দেশি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করছেন। অনেকে ওয়েডিং বা মডেল ফটোগ্রাফি করছেন। যদি এখন কেউ ফটোগ্রাফিকে নিজের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র পথ হিসেবে নিতে চান তাহলে বিষয়টির ওপর বিস্তর জ্ঞান অর্জন করে তবেই আসতে হবে। এতো বেশি ফটোগ্রাফার হয়ে গেছে যে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে অনেক বেশি সংগ্রাম করতে হবে।

হ্যালো জনতা ;- আমাদের দেশে কি কি আন্তর্জাতিক পুরস্কার এসেছে?
মউদুদুল আলম ;- আকু, ফিয়াপ, নিকন, ওয়ার্ল্ড প্রেস, টিএফএ-সহ আরও অনেক প্রতিযোগিতার আয়োজন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হচ্ছে এবং বাংলাদেশের প্রতিযোগীরা সেখান থেকে পুরস্কার জিতে আনছেন। ওয়ার্ল্ড প্রেসের কনটেস্টে জুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ছিলেন ডক্টর শহীদুল আলম।

হ্যালো জনতা ;-এখনকার তরুণ ফটোগ্রাফারদের উদ্দেশ্যে আপনি কিছু বলেন?
মউদুদুল আলম ;- তরুণ ফটোগ্রাফার দের অনেক অনেক শুভেচছা। অনেক প্রতিভাবান ফটোগ্রাফার তৈরি হচ্ছে। তাদের সবার উচিৎ বেসিক ব্যাপারগুলো নিয়ে গবেষণা করা। বেশী বেশী পড়তে হবে অনেক কিছু জানতে হবে। সবাই এখন দামী ডিভাইসের উপর নির্ভর হয়ে যাচ্ছে। মনে রাখতে হবে ডিভাইস টি অপারেটিং করা শিখতে হবে বুঝতে হবে।গুরুর সান্নিধ্যে আসতে হবে।

আমরা যখন ছবি তুলতাম সেটা ছিল সাদাকালোর যুগ। এখনকার মতো ছবি তুলেই সাথে সাথে দেখার কোন সুযোগ ছিলো না। ছবি তুলতাম সেটি ওয়াশ করে প্রিন্ট নিয়ে দেখতাম ছবি কেমন হয়েছে। রঙিন ছবি প্রিন্ট করতে ভারতেও যেতে হয়েছে। প্রযুক্তি এখন অনেক কিছু সহজ করে দিয়েছে। তাদের সবার উচিৎ বেশি বেশি প্রাক্টিস করা ইউটিউব এ টিউটোরিয়াল গুলো দেখা বিখ্যাত ফটোগ্রাফার দের বই পড়া তাদের ছবিগুলো দেখা ইত্যাদি। এককথায় বিস্তর পড়াশোনা ও ব্যাপক অনুশীলন করতেই হবে।

হ্যালো জনতা ;-ফটোগ্রাফি নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

মউদুদুল আলম ;- ফটোগ্রাফি নিয়ে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি এখনকার তরুণ দের সাথে। শীঘ্রই আমার একটি ওয়েবসাইট আসবে এতে ফটোগ্রাফির বিভিন্ন কলাকৌশল সহ থাকবে ছবির পেছনের গল্প। এর আগে আমি বাংলাদেশের উপর একটি বই বের করেছি বইটির নাম ছিল ” বাংলাদেশ মাই লাভ ” এখানে বাংলাদেশ কে রিপ্রেজেন্ট করার চেষ্টা করেছি। বইটিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন ছবি ও বিবরণ বাংলা এবং ইংরেজিতে লেখা আছে।
ফটোগ্রাফির উপর নিয়মিত ওয়ার্কসপ করে যাচ্ছি,আগামী ১৯ শে আগস্টে ও একটি প্রোগ্রাম রয়েছে। তাছাড়া এবছরের নভেম্বর মাসে ঢাকা ও চট্টগ্রামে আমার একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী হবে ইনশাআল্লাহ।

হ্যালো জনতা ;- আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমাদেরকে আপনার মুল্যবান সময় দেয়ার জন্য।

মউদুদুল আলম ;- আপনাকেও শুভেচ্ছা। হ্যালো জনতা পাঠকদের কেও অনেক শুভেচছা ও ভালোবাসা। আপনাদের সবার সুসাস্থ্য এবং সুখী জীবন কামনা করছি।
শিল্পীর কটি ছবি —-



সাক্ষাৎকার টি নিয়েছেন –
মুহাম্মদ মনসুরুল আজম।
লেখক, পরিব্রাজক, সৌখিন ফটোগ্রাফার ।
হ্যালো জনতা ডট কম।

# বানান সংশোধিত । কৃতজ্ঞতা জনাব জিয়াউল হক কামাল ।Ziaul Huq Kamal. হ্যালো জনতা ডেস্ক ।

# সকলে সাবধান থাকুন । মাস্ক পড়ুন।করোনার বিধি নিষেধ মেনে চলুন। লক ডাউনের সময় সরকারি বিধিমালা মেনে চলুন #

একটি হ্যালো জনতা প্রচারনা ।
সর্বশেষ সংবাদ ।।
১/৭/২০২১ — ।।
# করোনা বিধি ভঙ্গের দায়ে ঢাকায় তিন শতের কাছাকাছি এরেস্ট ।
# লকডাউনের প্রথম দিনে চট্টগ্রাম নগরে ৩৭ মামলায় ১৩ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
# জুলাই মাসে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর করোনা পরীক্ষা বিনামূল্যে করার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।প্রজ্ঞাপন ।
# করোনা পরিস্থিতি- সারা দেশ নাজেহাল। সতর্কতা গ্রহন করুন ।
# আজ দেশে ১৪৩ জন করোনায় মৃত্যু বরন করেছেন । ১/৭/২১।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here