” বন মর্মরের চিঠি -৬”-লিখেছেন মুসা কামাল ।।

8
593

#” বন মর্মরের চিঠি “#
।। মুসা কামাল ।।

মঈন ,
আজ সকালে পুরাতন ছবি ঘাটতে গিয়ে আমাদের সেই ১৯৮১ সালের একটা গ্রুপ ছবি পেলাম ।
আমরা যখন বিমানে জয়েন করেছিলাম সেই সময়ের ট্রেনিং কালিন ছবি ।
ভাল করে তাকিয়ে দেখি সেই সাদাকালো যুগের ছবি ।
তখন বুঝিবা রঙ্গিন ছবির যুগ কেবল আসি আসি করছে ।
আর সেই সাদা কালো ছবির মাঝে হাসি মাখা মুখের তুই মঈন একদম রঙ্গিন ।
হায়রে মঈন আজ সেই দিন – মাসের চার তারিখ —
এপ্রিল মাসের ৪ তারিখে তুই আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছিলি আর এক ভুবনে ।

আমার হোয়াটস আপে এখনো আছে তোকে দেওয়া সেই শেষ মেসেজ ।
লেখা চেয়ে তোকে মেসেজ করেছিলাম — লেখা দে(২ এপ্রিল-২১) ।রেখে দেবো ওই লেখা সেখানেই।
তুই বুঝিবা তখন তোর যাবার পথের পথ যাত্রী ।তুই সে সময় কি ক্লান্ত-শ্রান্ত বোধ করছিলি মঈন? — জানি না!আর জানতেও পারবো না!
তুই আমাকে কোন জবাব দিস নাই ।
তুই তো এমনি ছিলি!জবাব দেবার কি দরকার ই বা আছে ।সরাসরি লেখা পাঠিয়ে দিলেই হল ।
জি মেইল আর ইয়াহু মেইলের চমকে তুই সে সময় চমৎকৃত। তার ক’দিন আগেই তোর বইটা প্রকাশিত হয়েছিল ।


তুই কিন্তু আমাকে জানাস নি তোর সে সময় কি অবস্থা ছিল !আমিও এমনটি ভাবি নাই একটুও ।
জানাস নি ভেবেছিলি হয়তবা, আমি ছুটতে শুরু করবো বা পেরেসান হবো– হা রে এমনি এক ভাবনার জগতের মানুষ ছিলি তুই!
বন্ধুর ব্যাথায় ব্যথিত বা বন্ধুর প্রতি সহমর্মিতা — কোনটার অভাব দেখি নাই কোন দিনই ।
তোর আবার আত্মসম্মান বোধ ছিল প্রচুর ।
তোকে তো বলাই হয়ে উঠে নাই ,
সেই যে করোনা কালে তোকে বেশ একটা সাহায্য পাঠিয়ে ছিলাম সেই ঘটনাটা কি ?
রুদ্র (লেখক রেহমান রুদ্র) আমাকে হোয়াটস আপে গল্প করতে করতে বলেছিল তার এক বন্ধু কাউকে কিছু সাহায্য করতে চাচ্ছে —–করোনা কালে পৃথিবী জুড়ে কতো মানুষ যে কতো কাউকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করছে তা জানি আর শুনেছি, তাই বেশ ইন্টারেস্ট নিয়েই শুনছিলাম —
করোনা কারনে রুদ্রের এক বন্ধু মহাশয় কাউকে সাহায্য দিতে পারে –
তো কাকে দেবে জানে না সে,তাই রুদ্রের শরণাপন্ন হয়েছেন ।
আমার দরকার নেই । কিন্তু মনে হচ্ছিল রুদ্র সেই সাহায্যটি আমাকে নিতে বলবে ।
আমি কথা বেশি হওয়ার আগেই রুদ্রকে গ্রহন সম্পর্কিত বিষয়ে আমার অপারগতার কথা বললাম ।
তবে আমি সে সময় আন্দাজ করতাম তোর বিষয়ে। ধারনা ছিল মনের মাঝে!
তাই আমি রুদ্রকে তোর কথা বললাম ।
কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাধবে কে ? রুদ্র তোকে আমার মতই চেনে ।সে চিন্তিত হয়েছিলো সে দিন ।
বেশ একটা জুতসই প্লান করে ফেললাম আমি আর রুদ্র – তোকে বলা যাবে না প্রথমেই । পরে বললেই হবে।
সেই প্লান মোতাবেক আমি তোকে আমার বাসায় দুপুরে খেতে ডাকলাম । বললাম চলে আয় সকালে দশ টার দিকে । সারাদিন গল্প করবো ।

তুই সেই কথা মতই এসেছিলি সকালেই । চা নাস্তা পরে দুপুরের খানা আর নামাজ(সেদিন ছিল শুক্রবার) হয়ে গেল ।
আমি এদিক ওদিক করি । আসল কথা পাড়তেই পারিনা । বিকাল তিনটার দিকে আমি কথা পাড়লাম ।
বললাম (বানানো কথা)- লন্ডন থেকে আমার এক পরিচিত কিছু সাহায্য পাঠাবে করোনা কালের হেল্প হিসাবে – কাকে যে দেই? কে যে নেবে?
কিঞ্চিত চিন্তিত ভাব দেখালাম তোকে ।
তারপর দ্বিধা দ্বন্দ্ব ঝেড়ে বললাম — নিবি নাকি তুই ?
যা ভয় করছিলাম সেটিই হল– তুই বেমক্কা ভাবেই প্রশ্ন করে বসলি — কে দিচ্ছে সাহায্য টি শুনি!
আমি বললাম — আরে তুই যদি নিস তবে নাম ঠিকানা সবি দিয়ে দিব । তোকে অন্তত পক্ষে সেই মানুষ টাকে ধন্যবাদ জানাতে হবেতো,নাকি !তুই কি ভাবলি কে জানে ? বললি রাতে জানাবো ।
তুই যেতে না যেতেই রুদ্র কে কল দিলাম । বললাম মঈন কে সম্ভবত দেওয়া যাবে ।
রুদ্র শুধু আমাকে প্রশ্ন করল – আমার নাম বলিস নি তো ?
রুদ্র ভয় পেয়েছিল এই ভেবে যে , নাম শুনলে হয়তবা তুই কোন ধরনেরই সাহায্য নিবিই না।
অবশেষে রাতে ফোন করে জানলাম- তুই বললি- আচ্ছা পাঠিয়ে দে-তবে সেই সাহায্য প্রদানকারী ভদ্র লোকের নাম আর মেইল তোকে দিতে হবে ।
আমি বললাম – হা সেটি আমি তোকে দেব । আমার উপর তোর অনেক বিশ্বাস ছিল- সেটি আমি জানতাম ।
তাই আর কথা বাড়ে নাই ।
সাহায্য টি এসেছিল পরের সপ্তাহে ।যথারীতি তোকেও দিয়েছিলাম ।
একমাস যেতে না যেতেই তোর ফোন — কিরে নাম,মেইল দিলি না যে!
আমি সাথে সাথে দিচ্ছি বলে তোকে বিস্তারিত পাঠিয়ে দিলাম ।
সব দেখে তুই সম্ভবত আকাশ থেকে পড়েছিলি!আমাকে ফোনে বললি — “হা রে রুদ্র কে মেইল দিয়ে দিলাম।আরে দোস্ত, তাহলে এই ছিল তোদের মনে !” আমি হাসি!হাসি দেওয়া ছাড়া আমার কি বা করার ছিল?বল!
সেদিন বা পরে তোর আর আমার এই বিষয়ে আর কোন বাড়তি কথা হয় নাই ।
তবে রুদ্র আমাকে হাসতে হাসতে বলেছিল তুই নাকি ওকে মেইল করেছিলি এই লিখে যে —
” এতদিন তো জানতাম মানুষ মানুষের পকেট মেরে পকেট খালি করে দেয়,এবার জানলাম নতুন কিছু, এবার দেখি এই জগতে মানুষ মানুষের পকেট মেরে সাহায্য দিয়ে ভরিয়েও দেয়,ধন্যবাদ দোস্ত “।
এমনি ছিল তোর রসবোধ!নাকি জীবনের প্রতি দৃস্টিভন্গী!
আমি তোর অনুপস্থিতি টা বড়ই অনুভব করি রে মঈন! আমাদের দরকার ছিল যে!
কই যে চলে গেলি ——!!!!!
মঈন রে——— !!!
একা ওই পথ ধরে কোথায় গেলি বলতো ?
# কৃতজ্ঞতা – প্রথম গ্রুপ ছবিটি বন্ধু সরকার খালেদ ইকবালের কাছে থেকে পেয়েছিলাম — লেখক ।
জি এম বিন হোসেন কামাল ।
( মুসা কামাল । )
সম্পাদক ।
হ্যালো জনতা ডট কম ।।

বি দ্র- মুসা কামালের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন মাইনুল ইসলাম ( লেখক মঈন বিন নাসির) এর মৃত্যু দিবস গত ৪ এপ্রিল ২০২১। সেই কারনে এই স্মৃতি চারন । বেচে থাকতে মঈন বিন নাসির মুসা কামাল কে লিখতেন চিঠি – বন মর্মরের চিঠি (১ ও ২) ,এখানে প্রকাশিত হতো । এখন মঈন বিন নাসিরকে লিখেন মুসা কামাল- বন মর্মরের চিঠি – আকাশের ঠিকানায় অবশ্যই !এখানে প্রকাশিত হয় এখন । প্রকাশিত হয়েছে বন মর্মরের চিঠি ৩,৪,৫,৬ । আগামী মাসের ৪ তারিখে আসবে বন মর্মরের চিঠি ৭ । প্রচ্ছদে /সাহিত্যে ক্লিক দিয়ে খুজে পেতে পারেন লেখাগুলি।
“হ্যালো জনতা ডট কম । “

# একটি হ্যালো জনতা প্রেজেন্টেশন । #

8 COMMENTS

  1. হু । পড়লাম । বলার কিছু নেই । শুধু বন্ধুকে স্মরন করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ ।

  2. বন্ধু … ছোটো শব্দ তবে এর ব্যাপ্তি টা বড় । কৃত্রিম সব মানুষ এর ভিড়ে অকৃত্রিম বন্ধু পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার … শুভ কামনা .

  3. বন্ধুত্ব কারে কয় ? সখি বেদনা কাহারে বলে—–

    তন্ময় রহমান ।।
    ঢাকা ।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here