‘বৈমানিকের পাণ্ডুলিপি’২৭- জুরিখ লেইক ও স্মৃতির আলপনা-বাঙালি বৈমানিক রেহমান রুদ্র ।।

11
587

জুরিখ লেইক ও স্মৃতির আলপনা।

রেহমান রুদ্র।

অতীত হাতড়াতে গিয়ে দেখি স্বাধীন সত্ত্বা আর নিজের মাঝে কে যেন দাড়িয়ে কি সব বলছে। কুয়াশার চাঁদরে ঢেকে থাকা গোলাপের বাগানে দাড়িয়ে আছে কিছু নারীমূর্তি। ভাবনার মিনারে কারা যেন কথা বলছে ফিসফিস করে। কিছু সুন্দর মুহূর্ত হারিয়ে যেতে চাইলেও কিভাবে যেন প্রতিধ্বনিত হয় স্মৃতির বিবর্ণ দেয়ালে।
সুইযারল্যান্ড। দুপুর বেলাটি মাত্র গড়াতে শুরু করেছে। মনোরম তাপমাত্রা। পনের ডিগ্রি সেলসিয়াস। আকাশে মেঘের ছিটেফোঁটা নেই। ফ্লাইট শেষে সবাই উঠেছি জুরিখের গ্ল্যাটব্রুগ এলাকার হোটেলে। ছোট এ শহরটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪০০ ফুট উপরে।
শ্রীলঙ্কার মেয়ে অগ্নিশ্রেষ্টা আর তিউনিসিয়ান আম্রাত এর অনুরোধ এড়ানো গেলনা। ওদের ইচ্ছে লেইক জুরিখের পাড়ে চমৎকার এই দিনে ঘুরে বেড়াবে। আম্রাতের আবার ঠাণ্ডা লেগেছে। চোখমুখ লাল হয়ে আছে। মনে হয় মেয়েটার জ্বর আসবে। বললাম ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা করাও। না, শুনলনা। সরাসরি বলে দিল,
“ জ্বর এলে তখন ডাক্তার দেখাব। এখন বাইরে যেতে চাই। এত সুন্দর বিকেল হারাতে চাইনা।“
কি আর করা। রওনা দিলাম জুরিখলেইক। গাড়ীতে বিশ মিনিটের পথ।
অগ্নিশ্রেষ্ঠা ক্যান্ডিতে বড় হয়েছে। নিখুতভাবে বোঝাল কিভাবে ক্যান্ডি যেতে হয়।
“ আচ্ছা, বাইরোডে কঘণ্টার জার্নি।“ জানতে চাইলাম।
অগ্নি বেশ আগ্রহ নিয়ে বলল,
“কলম্বো থেকে এসি বাসে উঠলে তেমন ট্র্যাফিক না থাকলে সাড়ে তিন ঘণ্টায় পৌঁছে যাবে। ওখানে দেখার অনেক কিছুই আছে। চাইলে আমাদের বাড়ীতে ঘুরে আসতে পারো। ক্যান্ডি শহরের উপরেই বাসা।“

ওর সাথে পরিচয় প্রথম যেদিন ঢাকা ত্যাগ করি। সেদিন যাত্রি হিসাবে বিযনেস ক্লাসে ট্র্যাভেল করছি। নতুন এয়ারলাইনে যোগ দেবার জন্য এ যাত্রা। মনটা খুব খারাপ ছিল। নিজের অজান্তেই বহুকিছু নিরলসভাবে মনের ভেতরে জাল বুনছিল। এই প্রথম দেশ ছেড়ে বিদেশী সংস্থায় কাজ করতে যাচ্ছি। এয়ারলাইনের সুবাদে দেশের বাইরে সাময়িক যাওয়া আসা একটা রুটিনের মধ্যে ছিল কিন্তু এবার মনে হচ্ছে সবাইকে ছেড়ে যাচ্ছি। বহুবছর নিজদেশের এয়ারলাইনে কাজ করে গেলাম। এখন ভিনদেশে নতুন আবাস নতুন ঠিকানা গড়তে যাচ্ছি।
অনবোর্ড মুভি স্ক্রিনে মন বসাতে পারছিলাম না। ক্যাবিন স্টাফ ব্রেকফাস্ট সারভ করছে। কোনকিছু খেতে ইচ্ছে করছিলনা। সেদিনই অগ্নির সাথে দেখা। বিজনেস ক্লাসের দায়িত্বে ছিল। খাবার দিতে নিষেধ করায় জিজ্ঞেস করছিল অন্যকিছু দেবে কিনা। কাস্টমার সার্ভিসের অংশ হিসাবে এভাবে সবাই জিজ্ঞেশ করে থাকে। আরও জানতে চাইল শরীর ঠিক আছে কিনা।
বললাম, “শরীর ঠিক আছে কিন্তু মনটা ভাল নেই”।
অগ্নি সম্ভবত মানসিক সাপোর্টের জন্য বলেছিল, তারও নাকি দেশ ছেড়ে এসে এমন লেগেছিল। মনটা শুধু শুধুই খারাপ হয়ে থাকত। সময়ের সাথে সবকিছু সয়ে গেছে। সান্ত্বনার সুরে বলল,
“একদিন মনকে গুছিয়ে আনতে পারবে। এ এয়ারলাইনে সারা বিশ্ব থেকে মানুষজন আসছে। তুমি একা নও”।

ওই মুহূর্তে কথাগুলো ভাল লেগেছিল। জীবনের অজানা ধাপগুলো পেরিয়ে যেতে সাহসী হতে হয়। ও বুঝি ওটাই ইঙ্গিত করল। আবেগ অনুভুতি আর মায়ার ত্রিভুজে মানব মনের অবস্থান। তবে ক্লাসিফাইড কিছু প্রফেশন থাকে যার উন্নতি লাভের ইচ্ছা থাকলে এই ত্রিভুজ থেকে ছুটে আসা ভাল।
বেশ কিছুক্ষণ জুরিখ লেইকের পাড় ধরে হাটছি। খুবই মনোরম পরিবেশ। লেইকের পানিতে ডাইভ দিয়ে পাখিরা মাছ শিকার করছে। ঠোঁটের মধ্যে জীবন্ত মাছ নিয়ে গাছের ডালে গিয়ে বসছে। একঝাক হাঁস পানিতে সাবলীলভাবে ভেসে বেড়াচ্ছে। মানুষের আনাগোনা কম নয়। বহু কাপল জড়াজড়ি করে বসে আছে। প্রকৃতিকে অনুভব করছে। কি চমৎকার আমুদে বিকেল।
অনেক্ষন হাঁটা হল। এবার একটু বসা দরকার। গাছের ক্ষতি না করে বড়বড় সিমেন্টের ব্লক বসানো হয়েছে লেইকের পাড়ে। মেয়ে দুটা ওখানেই বসে পড়ল। গুনগুন করে গান গাইছে। নির্মল পরিবেশে উচ্ছল দুটি প্রান। এ ফাঁকে লিখালিখির প্লট নিয়ে চিন্তার ভুবনে হারিয়ে গেলাম। ভাবনা নিয়ে গেল অবারিত সম্ভাবনার দ্বার প্রান্তে। যে সংস্থায় জয়েন করেছি তা মাত্র কবছর আগে এভিএশনে হাত দিয়েছে। সে তুলনায় এদের অগ্রগতি দেখে অবাক হতে হয়। প্রতিটি বিজনেস স্টেপ হিসেব করে চলে। শুরুতেই এরা এই উপমহাদেশের যাত্রি নিয়ে উন্নতির পথে এগিয়ে চলেছে। চেলেঞ্জিং অনেক ফিউচার প্ল্যান আগে থেকেই করে রেখেছে।
পেছনে ফিরে তাকালে কষ্ট অনুভব করি। বিজনেস আর এয়ারলাইনের হিসাব মিলাতে পারিনা। ক্ষেত্র তৈরি হয়ে আছে অথচ ব্যাটে বলে সংযোগ হচ্ছেনা। এমন সুন্দর এক বিকেলে সুইজারল্যান্ডে এসে এসব কি ভাবছি জানিনা। হয়ত শেকড়ের টান।

আম্রাত দেখি উঠে দাঁড়াল। চিপ্স স্যান্ডউইচ আর কোক আনতে যাচ্ছে। ওকে ছেড়ে যেন এখান থেকে মুভ না করি। আমরা এখানেই আছি, কোথাও সরছিনা এই বলে আশ্বস্ত করলাম। অগ্নি তখনও আকাশে পাখীদের উড়ে বেড়ানো দেখে সময় পার করছে। এই সংস্থায় জয়েন করার আগে থেকেই আঁচ করতে পারছিলাম এয়ারলাইনটি বহুদুর এগিয়ে যাবে। কথায় বলে মর্নিং শওয দ্য ডে, সেরকম।
প্রথম যাত্রার ঘটনা শেয়ার না করে পারছিনা। দেশ ছেড়ে আসার সময় ইমিগ্রেসনে লাইন দেখে ভেবেছিলাম আজ বুঝি ফ্লাইট মিস করব। ধীর গতিতে এগুচ্ছে সবকিছু। হৃদয়ে প্রবাস সংগ্রামের সংকল্প। কোন নিরাশা যেন মনকে কাবু করতে না পারে সে ব্যাপারে কনফিডেন্ট ছিলাম।
“ কি নাম। কোথায় যাবেন। দেশের বাড়ি কোথায়।“ ইমিগ্রেশন অফিসারের প্রশ্ন।
পাসপোর্ট বোর্ডিংপাস এম্বারকেশন কার্ড সব তো দিলাম। সবকিছু পুঙ্খানপুঙ্খভাবে লিখে দিয়েছি। কিছু বাদ পড়ল নাকি। যাই হোক কথার উত্তরে ওনাকে সন্তুষ্ট করতে পেরেছিলাম।
গন্তব্যে পৌঁছে যাত্রীদের সাথে এরাইভেল টার্মিনালে চলে এলাম। সুশ্রী এক তরুনি, হাতে প্ল্যাকার্ড। ওখানে দেখি বড় প্রিন্ট করে নাম লিখা। পরিচয় দিতেই নিয়ে গেল স্পেশাল লাউঞ্জে। হাতে একটা খাম দিয়ে জানালো ওখানে সব ইনফরমেশন দেয়া আছে। কিছুক্ষন অপেক্ষা করতে বলে ইমিগ্রেশনের কাজগুলো শেষ করতে পাসপোর্ট নিয়ে চলে গেল। এনভেলপ খুলে দেখি কোম্পানির দেয়া ফ্ল্যাটের চাবি আর আগামি দুদিন কি করনীয় তার বিবরণ দেয়া দুটা কাগজ। আশ্চর্য হলাম, মেয়েটি দশ মিনিটেই ফিরে এল। পাসপোর্টে ইমিগ্রেশনের ক্লিয়ারেন্স স্ট্যাম্প দেয়া। লাইনে দাড়িয়ে থাকতে হলনা। এরাইভেল বেল্ট থেকে ব্যাগেজ কালেক্ট করে লিমুযিন পর্যন্ত এল মেয়েটি। তারপর বিদায় জানিয়ে বলল গাড়ী চালককে ইনফরম করা আছে কোথায় ড্রপ করবে। কি চমৎকার গোছানো কাজ। মুগ্ধ হলাম। নিয়ম মেনে চললে সবার জন্য সুবিধা। বিমান থেকে নেমে নতুন ঠিকানায় পৌছা পর্যন্ত একটা মুহূর্ত সিস্টেমের কোন ব্যত্যয় ঘটেনি। সবকিছুই নিখুত। তখনই মন বলছিল এই এয়ারলাইন অনেক দূর পর্যন্ত যাবে। শেষমেশ তাই হল। কবছর যেতে না যেতেই বিশ্বব্যাপী সুনাম অর্জন করল।
শুরুতে ট্রেনিং সেন্টার তখনো পুরোপুরি গড়ে উঠেনি। সংস্থাটি বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে বৈমানিকদের প্রশিক্ষন করিয়ে নিয়ে আসছে। পরবর্তী একমাসের ক্যারিকুলাম শেষ করে আরো প্রশিক্ষনের জন্য যেতে হল সংযুক্ত আরব আমিরাতের এভিএশন কলেজে। ওখানে টানা পঁয়তাল্লিশ দিন সবধরনের কারিগরি প্রশিক্ষনের ধাপগুলো ক্রমান্বয়ে কৃতকার্য হয়ে সোনালি রঙ্গের চমৎকার এক সার্টিফিকেট পেলাম। এভিএশন কলেজের অনুষ্ঠান শেষে সবাইকে নিয়ে গেল বৈমানিকদের জন্য নির্ধারিত এন্টারটেইনমেন্ট লাউঞ্জে। দেড়মাসের পরিশ্রমের পর মনটা খুব উৎফুল্ল ছিল। ওদের ট্রেনিং ম্যানাজার বিযনেস কার্ড দিয়ে বলল যেহেতু ওখান থেকে সাক্সেস্ফুলি কোর্স কমপ্লিট করেছি তাই ভবিষ্যতে কখনো প্রয়োজন হলে যেন যোগাযোগ করি। সবধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। কি চমৎকার ও অমায়িক আচরন। এসব অরগেনাইজেশনে ম্যানাজার অধিকাংশ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। বড় খেতাবধারী পোস্টের প্রয়োজন হয়না। কাজ নিয়ে কথা। তাছাড়া প্রত্যেকেই পরিশ্রমী ও নিজের কাজ পুরোটাই বুঝতে সক্ষম।

বিশাল লাউঞ্জ। লেদারের অজস্র সোফাসেট। বেশ কটা অত্যাধুনিক টিভি, মিনি বিযনেস সেন্টার, আর একদিকে ককটেল লাউঞ্জ সাথে স্যান্ডউইচ ও পিযা বার। অন্যদিকে টি কফি পেস্ট্রি ও নানাধরনের ফলের সমাহার। পরিচয় হল ওদের এয়ারলাইনের কিছু বৈমানিকের সাথে। নিউজিল্যান্ডের এক পাইলট জানালো এই প্রথম সে বাংলাদেশী কোন পাইলটের সাথে পরিচিত হল। তার ধারনা ছিলনা আমাদের দেশের বৈমানিক এধরনের লুক্রেটিভ এয়ারলাইনে পাইলটের জব করে। মনে হল এটা তার সরল উক্তি অন্যকিছু মীন করে কথাটা বলেনি।
গত দিনগুলোতে প্রশিক্ষনের সময় কিভাবে কেটে গেল বুঝতে পারিনি। প্রতিটি দিন এভারেজ ষোল ঘণ্টা পরিশ্রম করেছি। শুধুশুধু তো আর সাক্সেস আসেনা। কথা প্রসঙ্গে ম্যানাজার বলেছিল আমাকে প্রশক্ষনের জন্য এয়ারলাইন তাদেরকে পঞ্চাশ হাজার মার্কিন ডলার দিয়েছে। সার্টিফিকেট নেয়ার সময় সকল বইমানিক পরিচয় দেবার সময় নিজেদের দেশের কথা উল্লেখ করছিল। গর্বভরে বলেছিলাম, আমার দেশ বাংলাদেশ। মনের মাঝে খুশির বন্যা। জীবনে সাকসেসের আনন্দটা বোঝাতে পারবোনা। সে এক অন্যরকম অনুভূতি। দায়িত্ববোধ থেকে উপলদ্ধি করলাম ভিনদেশের সিভিল এভিএশন তাদের জাতীয় এয়ারলাইনের কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের এয়ারক্রাফট চালানোর লাইসেন্স প্রদান করল।
অগ্নি বুঝি নাম ধরে ডাকল। তাকিয়ে দেখি লেইকের সাইডগুলোর বাধানো পাথর গুলোকে ডিঙ্গিয়ে হাঁটু পানিতে নেমে গেছে সে। কাছে যেতেই বলল,
“পানি ভীষণ ঠাণ্ডা”।
বললাম, “তোমাকে কেউ বাধ্য করেনি। নিজে নেমে গেছ। সমস্যা হচ্ছে ওখান থেকে সে উঠবে কি করে। পুলিশ দেখলে হৈচৈ শুরু করে দেবে”।
এমন আগ্রহের জন্য দেখা গেল ঝামেলায় পড়ে গেছি। তাড়াতাড়ি উঠে আসতে বললাম। অবাক ব্যাপার, কোন টেনশন নেই, মিটিমিটি হাসছে। এখানে হাসির কি হল বুঝলাম না। আবারো বললাম উঠে আসতে। এবার জোরে হেসে বলল, উঠবো কি করে। আশ্চর্য, মনে হচ্ছে সমস্যাটা আমার। এদিকে আম্রাতের দেখা নেই। শেষমেশ পাথরের সাইডে উপুড় হয়ে ঝুকে হাত বাড়িয়ে টেনে তুলতে হল। একেবারে হাল্কা শরীর। বেশি জোর খাটাতে হয়নি। উঠিয়ে দেবার পর খুব নিচু স্বরে বলল, থ্যাঙ্ক ইউ।

আম্রাত চিপস স্যান্ডউইচ আর ড্রিংকস নিয়ে এসেছে। অগ্নির দিকে তাকিয়ে বলল,
‘তোমার একি হাল। ট্রাউযার ভিজল কি করে’।
‘ও পানিতে নেমেছিল। হাত দিয়ে লেইকের পানি ছুয়ে দেখার ইচ্ছা হয়েছিল। পুলিশ দেখলে সত্যি সত্যি ফাইন করে দিত। এই লেইক অনেক ডীপ। সেন্টারে প্রায় সাড়ে চারশ ফুট গভীর’। এটুকু বললাম।
‘ও মাই গড’ বলে আম্রাত খাবারের প্যাকেট আর ড্রিংকস ধরিয়ে দিল।
অগ্নিশ্রেষ্ঠাকে মনে হয় ভাবনার ছোঁয়াচে রোগে ধরেছে। ওর দৃষ্টি অনুসরন করে দেখি একঝাক উড়ে যাওয়া পাখিরদের ট্র্যাক ফলো করছে। আমাদের দিকে ফিরে বলল, জায়গাটা অনেক সুন্দর। অজানা কোন রোমান্স তার চোখের ভাষায়। হয়ত স্বপ্নের রাজকুমারকে কল্পনা করছে সে। পায়ে স্কেটিং পরা এক তরুণী পুশচেয়ারে ছোট্ট এক বাচ্চাকে নিয়ে পাশ দিয়ে চলে গেল। বাহ, এ বুঝি বেবি সিটিং আর স্কেটিং, দুটোর নতুন কম্বিনেশন।

আয়োজন দেখে মনে হচ্ছে আম্রাত আর অগ্নি আরও কিছুক্ষন এখানে সময় কাটাবে। প্রিন্টেড প্লাস্টিকের রোল খুলে ঘাসের মধ্যে বিছিয়ে ওখানে খাবারদাবার নিয়ে বসেছে। আমার প্ল্যান ভিন্ন। একবারে ফিরে গিয়ে ডিনার করার ইচ্ছা। এসব টুকটাক খাবারের প্রতি কখনও আগ্রহ ছিলনা। আম্রাত প্রায় জোর করে ক্রিম মাশরুম স্যান্ডউইচ ধরিয়ে দিল।
শরীর ও মন রিচার্জ করতে এর চেয়ে সুন্দর পরিবেশ আর হয়না। আম্রাতের বুঝি সত্যিই খিদে পেয়েছিল। কথা বলার সময় নেই। চিপস স্যান্ডউইচ আর কোক একসাথেই চলছে। এর আগেও দেখেছি, অনেকেই স্যান্ডউইচের সাথে ক্রিস্পি চিপস খেতে পছন্দ করে। অগ্নি আধভেজা কাপড়ে ক্রস লেগ করে বসে আছে। আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেশ করল,

“ তুমি কি সারাক্ষন ভাবনাচিন্তার মধ্যেই থাক।“
একটু অস্বস্তিতে পড়ে গেলাম। বললাম, না তেমন কিছু নয়। বুঝতে পারলাম ধরা পড়ে গেছি। আমার কি দোষ। এভাবে থাকতে পছন্দ করি। পরিবেশের সাথে মনের ভাবাবেগ উঠানামা করে। মেয়েটা এসবের কি বুঝবে। কল্পনার একটা নিজস্ব শক্তি আছে যা অনেক প্রখর। মাঝেমধ্যে ভাবনার আরও গভীরে পৌঁছুলে আশপাশের সব শব্দ থেমে যায়। চোখ মেলে আছি ঠিক কিন্তু কি দেখছি তা বুঝা যায়না। আবার এমনও হয়, সামান্য গাছের পাতা ঝরে পড়লে কষ্টটা বুকে গিয়ে লাগে। এসব অগ্নি কি করে বুঝবে। কিভাবে এক্সপ্লেইন করব তা জানা নেই। তাই ভাবলাম চুপ থাকাই শ্রেয়, বেশিকিছু না বলাই উত্তম।
কল্পনার রেশ তখনো টেনে নিয়ে যাচ্ছে সুদূরের পানে। এমন গুছানো পরিবেশ দেখে দেশের কথা ঘুরেফিরেই মনকে নাড়া দিয়ে যায়। যদি এমন একটা সেমিনার হত, “মানব কল্যাণ ও জাতীয় উন্নয়ন” তাহলে খুব ভালো হত। গুণীজনদের কথা শুনতে ওখানে যেতে পারতাম। বিদেশে এসে দেখলাম, সভাসেমিনার বেশ গুরুত্ত বহন করে। তাছাড়া যেখানে কাজ করছি এরা এমপ্লইদের কনফিডেন্স ও পারসোনালিটি ডেভেলপ করার ক্ষেত্রে অনেক প্রোগ্রাম ও সেমিনারের আয়োজন করে। বলা যায়, সোশ্যাল থ্রিলিং প্রগ্রেস। আলটিমেটলি সমাজ ও দেশের উন্নয়ন। এরা বিশ্বাস করে, সিনিয়ারদের দায়িত্ব জুনিয়ারদের গড়ে তোলা। এর জন্য অরগেনাইজেশন সবধরনের সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত।
সুইযারল্যান্ডের জুরিখ লেইক ও আশপাশের পরিবশ চিন্তারজগতে কোন ব্যত্যয় ঘটায়নি। বরঞ্চ ভাবনাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। বর্ণীল প্লাস্টিকের চাঁদরে শরীর বিছিয়ে দিলাম। লেইকের ভেজা বাতাসের সাথে খুব কাছ থেকে আসা বনফুলের হিপ্নটিক গন্ধ মিশে একেবারে মস্তিস্কের ভেতরে গিয়ে ধাক্কা খেল।
# সুপ্রিয় পাঠক, নিরাপত্তার কারনে আমার লেখায় অনেক কিছুই লিখতে পারি না। বিধি নিষেধ!বিভ্রান্ত না হয়ে আর সেটুকু মেনে নিয়ে সাথে থাকবেন—এই আশা মনে রাখছি । লেখক ।। #
রেহমান রুদ্র ।
# রেহমান রুদ্র # # রেহমান রুদ্রের লেখাগুলি হ্যালো জনতার কাছে সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত । হ্যালো জনতার সাহিত্য তে লেখকের সব লেখা পাওয়া যাবে ।পড়ুন ।
আগস্ট ২৭ ২১ ।।
# বৈমানিকের পাণ্ডুলিপিতে ব্যবহৃত ছবি সমুহ লেখকের সংগ্রহ এবং নিজের তোলা # হ্যালো জনতা ডট কম।

## আমরা দেখছি দূরবীন চোখে – আর পড়াচ্ছি আপনাদের — পড়ুন মন ভরে ” দূরবীন চোখ ” ##

# আমাদের সপ্তাহের লেখা গুলি — দিন মেনে —
# শনিবার –আবদুল হাকিমের – সব পেয়েছির দেশে (ধারাবাহিক- )।
# রবিবার — আকরাম উদ্দিন আহমেদ – প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় ।
# সোমবার — আনিসুর রহমান লিখবেন – এক বিমান কেবিন ক্রূর আত্মচারিত ।
# নন্দিনী সাবরিনা খান লিখেন সোম/মঙ্গল/বুধ বারে। লেখা এলেই ছেপে দেই আমরা ।
# শুক্রবার লিখেন বৈমানিক রেহমান রুদ্র- ।

# goggle play store থেকে hellojanata.com লিখে হ্যালো জনতার app টি আপনার মোবাইলে install করে নিন। এক ক্লিকে পাবেন সব লেখা । Iso তে হবে না আপাতত।

#টিকার বিকল্প নেই।টিকা নিন।মাস্ক পড়ুন। আসুন সমবেত হই।কমপক্ষে ২ জনকে টিকার নিবন্ধন করে দেই,সমাজ বাঁচাই,দেশ বাঁচাই,মানুষ বাঁচলেই সব বাঁচবে#
করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া অধিকাংশ মানুষই টিকা গ্রহণ করেননি-জো বাইডেন।

একটি হ্যালো জনতা প্রেজেন্টেশন

11 COMMENTS

  1. অনেক শ্রদ্ধায় ,
    স্যার আপনার প্রথম ঢাকা ছেড়ে নতুন ঠিকানায় নিজেকে নিয়ে যাওয়ার সময়টা শেয়ারে আমাকেও পেলাম,নতুন jobশুরুর আনন্দ । ডিপ লূক দিয়ে আপনি প্রকৃতির রূপ দেখে লিখে জানিয়ে দেন,পড়তে পড়তে চলে যাই সেখানেই ।
    আপনার কাছে কবিতা আশা করতে পারি বৈকি🙂।
    ক্রিম মাশরুম স্যান্ডউইচ কিন্তু awesome testy ,
    লেকের ধারে বসে খেতে খুবি লোভনীয় ।
    অনেক শুভকামনা,গরম এক কাপ চা এর সাথে আর আপনার ভাললাগার,কথাগুলো।

    • রুদ্র ,
      কবিতা চায় পাঠক , লেখার মাঝে কিছু লাইন গুজে দিন(দে) কম করে হলেও ।
      আমার মনে পরে আপনি(তুই)পারেন(পারিস)সেটি ।
      @ভাবনা !!!
      হ্যালো জনতা ডট কম ।।

  2. Absolutely beautiful writing. Reading this shot up my fascination to see the beautiful nature of Switzerland. Thank you for sharing!

  3. জুরিখকে আবার মনে করিয়ে দিলো ,আমারো খুব ভালো লেগেছিলো লেখক খুব সুন্দর ভাবে ফুঠিয়ে তুলেছেন।ধন্যবাদ।

  4. The Factral Mind of Captain Rahmam depicts the brilliance of human feeling in the regulated frame that by its own nature tells many things untold! His loneliness amidst the bustle of livelihoods tells about a saint within him! That sage is at home in the beauties of the wild; nature ceases him in her serine! Love and emotions though is a most natural outcome – our Captain needs to hide and burry those emotive feelings and he has to chastise him with a hammer of rock due to the responsibility and sense if servitude! Untold emotions tells of the cost of life and meanings of life-tales not told! A life that is away from loved ones always and the life that takes him to the horizon of time and feelings have to be placed out of the triangle of love, emotions and feeling – a fugitive mind in the lagoons of love running away from softness of love indeed is a painful burden the Captain requires to carry as an all time language with him!
    Captain Rahmam created a lonely pilot within who flies his mind in missions to many heavens in seatbelts tight, no movement; though loves lurk in abundance at every spot yet not to be seen, not to be felt, not to be touched!

    This beautiful episode presents us his sage mind in strict saint-discipline!

    It’s amazing!!

  5. হিপ্নোটিক প্ল্যাস্টিক চাদর … অথবা জুরিখ লেইকের ঠাণ্ডা জল ? শুভকামনা অশেষ ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here