‘অনুকরন’-লেখক ও বাঙ্গালি বৈমানিক রেহমান রুদ্রের শুক্রবারের লেখা।

15
486


।। ‘শোকের মাস,আগস্ট মাস ‘।।
।। হ্যালো জনতা ডট কম ।।

।। অনুকরন ।।

রেহমান রুদ্র।
আনন্দের অনুভূতিগুলো প্রস্ফুটিত হচ্ছে মনের মাঝে। সে অনেক আগের কথা। বাতাসে গাছের পাতা দোলার শব্দগুলো যেমন ভাল লাগে ঠিক তেমনি এক বয়স। চট্টগ্রাম শহরে থাকি। দাদা বাড়ি চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যেতে মাঝামাঝি স্থানে। স্কুল ছুটি হলে ত্বর সইত না কারো। সবাই মিলে ছুটে যেতাম ওখানে। দাদার সাথে সখ্যতা ছিল অনেক বেশি। বলতে গেলে পুরো ছুটিতেই উনার সাথে আঠার মতো লেগে থাকতাম। দুরন্ত শৈশবের সৃতিগুলো মনের ভেতরে জ্বলজ্বল করছে।

বাড়ীর পুরোটা ভিটে জুড়েই ছিল অসংখ্য গাছ। গামারি আর সেগুনের মাঝে নানা ধরনের ফলের গাছ দেখলে মন ভরে যায়। সব মিলে অন্তত শ খানের প্রজাতির গাছগাছলিতে ভরে আছে ভিটে বাড়ী। বিশেষ করে দালানের চারদিকে হাসনাহেনা, চামেলি, কাঁঠালিচাঁপা আর কাঠগোলাপ। দুটা পুকুরের চারদিকে নারকেল আম কাঁঠাল আর বাঁশঝাড়ের ঘন বেষ্টনী। বাড়ীর সাথে লাগানো টিউবঅয়েলের পাশেই জামগাছের সাথে বেতফলের লতাগুলো জড়িয়ে উপরের দিকে উঠে গেছে। পেছনের দিকে বাতাবী লেবুর গাছ গুনতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। টিউবঅয়েলের পানি কি যে সুস্বাদু তা বলে বুঝানো যাবেনা। দাদীর প্রিয় দুটো আতাগাছ ওখানেই ছিল। একবার আতা পাড়তে গিয়ে বিশাল এক কালো মৌমাছি কপাল কামড়ে দিয়েছিল। কান্না আর দেখে কে। লেবুর সাইজ আকারে ফুলে উঠেছিল। একঘণ্টার মধ্যে গায়ে জ্বর এসে গিয়েছিল। দাদি বাসক পাতা কচলে ওখানে লাগিয়ে দেয়াতে শান্তি পেয়েছিলাম। আর কোন ওষুধের দরকার হয়নি। পরদিন সকালে পুরোপুরি সুস্থ। মনেই হচ্ছিলনা ব্যথায় জ্বর এসেছিল আর ফোলা জায়গা সম্পূর্ণ উধাউ। কোন চিহ্ন নেই হুল ফোটানর।

দাদা দীর্ঘ আয়ু লাভ করেছিলেন। আশ্চর্য লাগে ওনার শতবছর জীবনে একবারের জন্য কোন ধরনের ওষুধ কিনে খাননি। এমনকি একটা প্যারাসিটামল ও নয়। নিজের চিকিৎসা নিজেই করতেন বাড়ির গাছগাছড়া থেকে। আমি দাদাকে গাছেদের সাথে কথা বলতে দেখেছি। এক একটি গাছ ওনার কাছে সন্তানের মতো। কারো সাধ্য ছিলনা ওনার উপস্থিতিতে কেউ গাছের একটি পাতা ছিঁড়ে। যদি কখনো কোন গাছের ডাল ভাঙ্গা দেখতেন তাহলে চিৎকার করে পাড়া মাথায় তুলতেন। জীবনে এমন গাছপাগল মানুষ দেখিনি। আমাকে সাথে নিয়ে সব ধরনের গাছের বর্ণনা করতেন। তারই ধারাবাহিকতায় এখনো কাউকে গাছ কাটতে দেখলে হৃদয়ের ভেতরে গিয়ে লাগে, কষ্ট হয়।

বাবার সাথে কি কারনে জানি দাদার সম্পর্কটা ছিল ফর্মাল। আমাকে নিয়ে দাদা হাটে মাঠে ঘাটে ঘুরে বেড়াতেন। বাবা উনার আশেপাশে থাকতেন না। যদি কখনও উনার দাদাকে প্রয়োজন হতো তাহলে দেখতাম মেহমানের মত একটা চেয়ার টেনে বসে বাবা তার কথা শেষ করে উঠে যেতেন। কখনও দাদার সাথে তাকে গল্প করতে দেখিনি।

সেই আমলে দাদা ছিলেন পোস্টমাস্টার। তার কাছে অনেক বিচিত্র অভিজ্ঞতার গল্প শুনেছি। অবাক লাগে, প্রতিটি ঘটনার দিনক্ষণ ছিল তার মুখস্ত। কোন সালের কোন তারিখ বা কি বারে কি ঘটেছিল সেসব ঘটনা আমাকে শুনাতেন। জীবনে প্রথম চা খাওয়ার গল্পটা বেশ মজা করে শুনিয়েছিলেন। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে এসেছিল সেই গাড় সবুজ রঙের চারকোনা চা পাতার টিন। পাড়ার কারো ধারনাই ছিলনা কিভাবে চা বানাতে হয়। এর আগে ওখানে কেউ দেখেনি চা পাতা। সরকারী কর্মকর্তাদের বিনামুল্যে এগুলো দেয়া হয়েছিল। বাসায় অনেক পরীক্ষানিরীক্ষা করে শেষমেশ দাদীর বুদ্ধিতে গুড় মিশিয়ে খেয়েছিলেন। ব্যস, সেই থেকে চা খাওয়া থেমে থাকেনি। বন্ধুবান্ধবদের দাওয়াত দিয়েছেন আর দাদীর ব্যস্ততা বেড়েছে। এসব কাহিনি শুনাতে গিয়ে দাদার মুখে নির্মল আনন্দের প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠত।

একবার দাদাবাড়ী বেড়াতে এসে মহাকাণ্ড ঘটে গেল। এর জন্য কেউ প্রস্তুত ছিলনা। সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এক ঘটনা। হৈচৈ আর দাদার চিৎকারে পুরো বাড়ীতে এক বিচ্ছিরি অবস্থা। চাচাত ভাইকে নিয়ে পুকুরে সাতার কাটছিলাম। পিঠাপিঠি বোন এসে খবর দিল বাড়ীতে অনেক হইচইৈচৈ হচ্ছে। ওর ফর্শা মুখ উত্তেজনায় লাল হয়ে আছে। পড়িমরি করে সাতার বাদ দিয়ে ভিজে শরীরে ছুটলাম। মা কে খুজতে গিয়ে দেখি উনি কাঁদছেন। বাবা নিশ্চুপ বসে আছেন। দাদা চিৎকার করেই চলেছেন। কি ঘটেছে তখনো কিছু আঁচ করতে পারিনি।

একটা বিষয় বলা দরকার তা হল বাবার সখের মধ্যে ছিল ফার্নিচার বানানো। আজ যে অঘটনটা ঘটল তা হচ্ছে দাদাকে না বলে উনি লোকজন ডেকে এনে একটি সেগুন গাছ কেটে ফেলেছেন ফার্নিচার বানাবেন বলে। যা হবার তাই হল। দাদার হার্টফেল করার অবস্থা। এই হৈচৈ এর মধ্যে বাবা মা কে বললেন সবকিছু গুছিয়ে নিতে। আজই এখান থেকে চলে যাবেন। ফুফু চাচি সবাই এসে বাবাকে বুঝানোর চেষ্টা করছেন এভাবে রাগ করে চলে না যেতে। ওদিকে দাদি ব্যস্ত রয়েছেন দাদাকে সামলাতে কিন্তু কে কার কথা শুনে। এমন অবস্থায় আমরা ভাইবোন কান্না শুরু করে দিলাম। কেউ এখন দাদা বাড়ী ছেড়ে যেতে রাজি নই। বাবা একাই সবাইকে রেখে ঘর ছেড়ে চলে গেলেন। আমরা রয়ে গেলাম। অনেকদিন পর্যন্ত বাবা দাদাবাড়ী যাননি। পরে বিষয়টা বড় চাচা সেটল করেছিলেন।

বাবা তখন সরকারি এক গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। মানুষজনের সাথে বেশি একটা মিশতেন না। ছুটির দিনে ফার্নিচার বানানো নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। আমি ছিলাম তার কাজের হেল্পার। করাত দিয়ে উনি কাঠ চিরে দিতেন আর আমার কাজ ছিল শিরিষ দিয়ে ঘষে মেজে পালিশ করে দেয়া। ঘরের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ডিজাইন নিজেই আবিষ্কার করতেন। কমাস পরপর দেখা যেত বাড়ীর সব ফার্নিচার বদলে গেছে। বেসিনে শেভ করতে গিয়ে বাবার হাত থেকে একবার রেজর পড়ে গেল। ব্যস উনার মাথায় নতুন আইডিয়া এসে গেল। ওদিন বিকালেই বেসিন বরাবর একটা রেক বানিয়ে ফেললেন। হাত ফস্কে এখন কিছু পড়লে ঐ রেকের মধ্যে পরবে। ফ্লোর থেকে কষ্ট করে তুলতে হবেনা তাছাড়া ভেঙ্গে যাবার আশঙ্কা দূর হল।

গাছ কাটা নিয়ে বিরোধের পর একটা মজার বিষয় লক্ষ্য করলাম। শহরের বিভিন্ন নার্সারিতে বাবা ঘুরাঘুরি শুরু করলেন। বারান্দা ভরে গেল ফুলের গাছে। একদিন বিশাল এক টিনের ড্রাম এনে বারান্দায় রেখে বললেন এটাতে নিচ থেকে মাটি এনে ভরে ফেলতে হবে। ব্যস কাজ বেড়ে গেল। মাটি আনতে গিয়ে কাহিল হয়ে গেলাম। বাবা ওখানে শুকনা গোবর মিক্স করে তাতে বোম্বাই মরিচ আর ধানি মরিচের চারা লাগালেন। অল্প কদিনেই গাছগুলো ফড়ফড় করে বেড়ে উঠল। গাছে যেন ম্যাজিকের ছোঁয়া লেগেছে। ফুল ফুটছে হরেক রকমের সাথে অসংখ্য লাল সবুজ মরিচে ছেয়ে গেল টিনের ড্রাম। বাবার কি খুশি, আগ্রহ বেড়ে দ্বিগুণ হোল আর সাথে আমার কাজের পরিধিও দিগুন হয়ে গেল। গাছে পানি দেয়া, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা সব দায়িত্ব কাধে এসে পড়ল।

বাসার সামনে বেশ বড় খালি জায়গা। একদিন জন দশেক মুজুর এনে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে দিয়ে বাগান বানিয়ে ফেললেন। বাবার দেখাদেখি অন্যান্য পড়শিরাও শুরু করলেন ফুল আর সবজি বাগান। মনে আছে অজস্র লাউ, সিম, টম্যাটো, ঢেঁড়স, বেগুন বরবটি সহ আরও কতকিছুইনা পেতাম ঐ বাগান থেকে। কে কার চেয়ে কত ভাল করছে এ নিয়ে সবার মাঝে প্রতিযোগিতার ভাব ছিল।

ছোটবেলা থেকেই ছিলাম ক্রিকেটের পোকা। খেলা থাকলে মাথায় আর অন্যকিছু স্থান পেতনা। বল ব্যাটের বাঁক আর গতি নিজেকে অন্য এক মানুষ বানিয়ে ফেলত। স্কুল ক্রিকেট টীমে অবস্থান ভালো। সে বছর ইন্টার ডিসট্রিক্ট স্কুলের মধ্যে শুরু হোল টুর্নামেন্ট। যারা খেলোয়াড় তাদের জন্য আধাবেলা স্কুল। সবাই প্র্যাকটিস নিয়ে ব্যস্ত। একসময় অনুশীলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেলাম। প্রথম খেলা হবে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল মাঠে। খেলার নেশায় বাবার ফার্নিচার আর গারডেনিং মাথা থেকে উধাউ। কোনরকমে সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছি। এমনি এক সময়ে একদিন স্কুল থেকে এসে দেখি অনেকগুলো নতুন ফুলের চারা বাসার বারান্দায় জড় করে রাখা। বুঝলাম বাবা নার্সারি থেকে নিয়ে এসেছেন বাগানে লাগানোর জন্য। যতদূর জানি এগুলোর জন্য ফ্লাউয়ার বেড বানাতে হবে। ভাবছিলাম এটা কে করবে। অবাক ব্যাপার হচ্ছে বাবা অন্য ভাইদের এসবে জড়াতেন না। ঘুরেফিরে আমাকেই এসব কাজ করতে হতো।

সন্ধ্যাবেলা হুকুম এসে গেল, কাল সকালে ফজরের আজানের আগেই উঠতে হবে। ওটা ছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিন। বাগানে মাটি কেটে বেড বানিয়ে বাবাকে খবর দিতে হবে। এটা বেশ সময় সাপেক্ষ কাজ তাই সাহস করে ক্রিকেট ম্যাচের কথা বলে ফেললাম। ঐদিন টুর্নামেন্টের প্রথম খেলা। উনি সিদ্ধান্ত দিলেন কাজ শেষ না করা পর্যন্ত ছুটি নেই। বাগানে কাজ করতে গিয়ে যতটুকু অভিজ্ঞতা হয়েছে তাতে বলা যায় এ কাজ শেষ করতে ক্রিকেটের সময় পার হয়ে যাবে। ভাবলাম রাতের বেলা চেষ্টা করবো কিছু কাজ এগিয়ে নিতে, তারপর দেখি কি হয়। গেইম টিচার বলেছেন সকাল ছটার মধ্যে স্কুলে থাকতে হবে। খেলার সব সরঞ্জাম গুছিয়ে যেন আটটার মধ্যে কলেজিয়েট স্কুলে পৌছাতে পারি। সাড়ে আটটায় খেলা শুরু হবে।

যে সাইডে ফুলের চারাগুলো লাগানো হবে সে দিকটা বাবা বলে দিলেন। রাতের বেলা বাগানে গিয়ে দেখি ঐ সাইডে মাটি শুকিয়ে পাথর হয়ে আছে। ঘণ্টাখানেক পরিশ্রম করে বাসায় ফিরে মা কে পুরো বিষয়টা বললাম। খেলা শেষ করে পরদিন করে দিতে পারবো, সেটাও জানালাম। সকালের মধ্যে এই কাজ শেষ হবেনা। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন বাবা রাজি না হলে উনি কিছুই করতে পারবেন না। বাবাকে যতটুকু চিনি তা নিয়ে ভাবতে গিয়ে রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারলাম না।

ফজরের আজানের আগেই বিছানা ছেড়ে উঠে গেলাম। বাবা সকাল সাতটার আগে উঠবেন না। ছুটির দিনের বাড়তি ঘুম। নাস্তা শেষ করে উনি বাগানের কাজে হাত দেবেন। ফুলগাছের চারাগুলো ঠিকমত লাগাতে পেরেছি কিনা তা দেখবেন। ফাইনাল টাচ উনার হাতে হবে। বাথরুমে গিয়ে হাতমুখ ধুয়ে কাজে লেগে গেলাম। এদিকে সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। সকালের আলোতে চারিদিকে পাখিরা শব্দ করে স্বাধীনভাবে উড়ে বেড়াচ্ছে। কাজে ঠিকমত মন বসাতে পারছিনা। অনেক তপস্যায় ঘণ্টা খানেক কাজ করলাম। এখনও অর্ধেক কাজ বাকি। সময়ের মনে হয় এক্সট্রা হাত পা গজিয়েছে। সকাল প্রায় সাড়ে ছটা। একটা শালিক পাখি এসে সামনেই কেটে রাখা মাটির ভেতর থেকে ঠোট ঢুকিয়ে কি যেন তোলার চেষ্টা করছে। একটু পরেই বাঁকানো তুলতুলে এক কেঁচো নিয়ে উড়ে গিয়ে কার্নিশে বসলো। ওখানে বসে কেঁচোটাকে খেতে ব্যস্ত হয়ে গেল। সিদ্ধান্ত নিলাম যা হবার হবে। বাসায় এসে দেখি কাজের ছেলেটা তখনো নাস্তা বানায়নি। আব্বা ঘুমের মধ্যে আছেন। মাটি কাটার কোদাল, নিড়ানি এসব রেখে হাতমুখ ধুয়ে স্কুলে রাওনা দিলাম।

প্রায় দু কিলোমিটার পথ হেটে স্কুলে পউছে দেখি দলের সবাই এসে গেছে। গেইম টিচার আমাকে দেখে হাফ ছেড়ে বাঁচল। ক্ষমা চাইবার সুযোগ পেলাম না। গাড়ীতে উঠার জন্য হুইসেল বাজিয়ে ইশারা করলেন। তখনকার সময়ে ট্রাফিক জ্যাম কি জিনিষ তা কারো ধারণার মধ্যে ছিলনা।। কলেজিয়েট স্কুল যেতে বেশিক্ষন লাগলো না। গাড়ীর মধ্যেই টিচাররা নাস্তার প্যাকেট ডিস্ট্রিবিউট করে দিলেন। অনেক খিদে পেয়েছিল, প্যাকেটের সবকিছু খালি করে ফেললাম।

সময় মত খেলা শুরু হল। স্কুল জীবনে ওটা ছিল আমার শ্রেষ্ঠ ক্রিকেট ম্যাচ। বোলিং এ লেগস্পিন ছিল ফেভারেট। মাত্র চল্লিশ রান দিয়ে পাঁচটা উইকেট তুলে নিলাম। সেই সময় কালো কাঠের মাঝে সিলভারের পাত দিয়ে নকশা করে শিল্ড বানানো হত। আমাদের স্কুল জিতেছে। শিল্ড নিয়ে সন্ধ্যাবেলা স্কুলে ফিরে এলাম।

বাসায় পৌছুতে রাত আটটা বেজে গেল। ঘরে ঢুকতেই বুঝলাম অবস্থা ভাল না। বাবা বেডরুমে ছিলেন। বোনকে আদেশ দিয়েছিলেন ফিরলেই যেন উনাকে জানানো হয়। বোনটি তাই বাবাকে জানাতে দেরি করলনা। লিভিং রুমে দাড়িয়ে ছিলাম কপালে কি আছে তা জানার জন্য। বাবা রুম থেকে বের হলেন। হাতে তার লম্বা এক কাঠের সটীক। ওটা দিয়ে কোন কথা ছাড়াই প্রচণ্ড ভাবে মারলেন। কারো সাধ্য নেই উনাকে থামাবার। সটীকটি একসময় ভেঙ্গে গেল। হাত পা ফুলে একাকার। একদিকে হাত কেটে রক্ত বের হয়ে গেছে। মা বেচারি যতই বলছে ওকে আর মেরো না, ছেড়ে দাও। কোন কথাই বাবার কানে যাচ্ছিল না। উনি খালি বললেন আমার এত সাহস কোত্থেকে হোল, কাজ শেষ না করে খেলতে চলে গেলাম।

সারারাত জ্বরে ভুগলাম। সাতসকালে মাটি কাটা থেকে শুরু করে খেলার ধকল আর মারের যন্ত্রণায় শরীর বুঝি সারেন্ডার করে দিয়েছে। স্কুলে খেলায় ভালো করার জন্য সকালে প্রাইজ বিতরনের অনুষ্ঠান ছিল কিন্তু যাওয়া হলনা। মনে হচ্ছিল সে আনন্দ আমার জন্য নয়। পরদিন বিকালে গায়ে জ্বর নিয়ে কাউকে না জানিয়ে বাসা ছেড়ে দাদাবাড়ী চলে গেলাম।

# প্রিয় পাঠক, নিরাপত্তার কারনে আমার লেখায় অনেক কিছুই লিখতে পারি না। বিধি নিষেধ! বিভ্রান্ত না হয়ে আর সেটুকু মেনে নিয়ে সাথে থাকবেন—এই আশা মনে রাখছি । লেখক ।। #
রেহমান রুদ্র । আগস্ট ২০২১।
# রেহমান রুদ্র #
# রেহমান রুদ্রের লেখাগুলি হ্যালো জনতার কাছে সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত । হ্যালো জনতার সাহিত্য তে সব পাওয়া যাবে ।পড়ুন ।

# সামনের তিন/চার দিনে পাবেন —
# শুক্রবার — রেহমান রুদ্রের – অনুকরন( প্রকাশিত ) ।
# শনিবার –আবদুল হাকিমের – সব পেয়েছির দেশে (ধারাবাহিক)।
# রবিবার — আকরাম উদ্দিন আহমেদ – প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় ।
# নন্দিনী সাবরিনা খান লিখেন মঙ্গল বারে ।
# goggle play store থেকে hellojanata.com লিখে হ্যালো জনতার app টি আপনার মোবাইলে install করে নিন। এক ক্লিকে পাবেন সব লেখা । Iso তে হবে না আপাতত।

#টিকার বিকল্প নেই।টিকা নিন।মাস্ক পড়ুন। আসুন সমবেত হই।কমপক্ষে ২ জনকে টিকার নিবন্ধন করে দেই,সমাজ বাঁচাই,দেশ বাঁচাই,মানুষ বাঁচলেই সব বাঁচবে#
করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া অধিকাংশ মানুষই টিকা গ্রহণ করেননি-জো বাইডেন।

একটি হ্যালো জনতা প্রেজেন্টেশন

15 COMMENTS

  1. এই গল্প বলতে গেলে শেষ হওয়ার নই। ছোটবেলার শৈশব আর কৈশোরের জীবনের গল্প গুলো হয়তো এভাবেই অপুর্ণতা থেকে যাই।

  2. ভীষন রোমাঞ্চকর একটি পান্ডুলিপি। খারাপ লাগছে যে শেষ হয়ে গেল। শত‍্যি আমি মুগ্ধ। অনেক দোয়া রইলো।

    • ধন্যবাদ । সম্ভবত শেষ হয় নাই পাণ্ডুলিপিটি । অপেক্ষায় থাকুন ।
      হ্যালো জনতা দট কম।

    • সত্যিই শৈশবের কাহিনী গুলি পড়ে অনেক মজা লাগল।সামনে আরও এইরকম শৈশবের কাহিনী পড়তে চাই।।

  3. স্যার রুদ্র,
    শ্রধার সাথে বলি যদি আপনার সোনালী শখের ইচ্ছের দিন গুলো ফিরিয়ে নিয়ে আনা যেতো।অনেক কঠিন সময়ের সাথে আপনার যুদ্ধ ছিল,আপনি জিতে গেছেন।যিনি কিনা সারা পৃথিবীতে পায়ের চিহ্ন দিয়েই আসছেন,মাটি থেকে আকাশ পেরিয়ে,
    রূপকথার গল্পের রাজকুমার আপনি,সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে ছুটছেন তো ছুটছেন।
    হয়ত বাবার সেই কঠিন শাসনে আজ একজন দক্ষ বৈমানিক❤❤❤
    আমাদের গর্ব,আমাদের অনেক বড়ো ভরসা।
    নেক্সট জেনারেশন কাছে inspiring .
    Always proud of you vaia.

  4. A nostalgic account of this scale with so brilliant ability to express the truth as truth in so simple and fluid language reminds me the account Ravindranath made about his own life; if I were a teacher charged to give scores to Captain Rahman & Ravindranath for writing about own childhood – I would have preferred to giving excellent score to our Captain over the best star of our literature! This is because, Ravindranath’s writing I felt was biased with his serving the family heritage and Captain Rahman’s writing has been adorned with truth and simplicity! Anything true is beauty and anything simple is another beauty; it’s a double beauty in case of this article! I also think Captain Rudra expressed more language than Ravindranath for this volume of words!
    I prefer to dream strongly that our Captain will make some marks that will one day say – he lived, once he will not live anymore!

  5. You deserrve it all.
    To look mirror and think”yes,I’m exactly who I want to be”.
    Be proud of your self, to brave and open.
    সুইট মেমরি পড়তে পড়তে হারিয়ে যাই দাদার বাড়ি,যা আমাদের সব্বার প্রিয় আশ্রয়।
    ধন্যবাদ আপনার জীবন গল্প শেয়ার করার জন্য ।

  6. অবাক লাগছে একনো খুটি-নাটি বিষয় গুলো মনে আছে লেখকের।দাদাবাড়ি কখনো যাওয়া হয়নি কিন্তু পান্ডুলিপিটি পরে মনে হল ঘুরা টা যেনো হয়েই গিয়েছে। শুভ কামনা অনেক অনেক ভালোবাসা আর দুয়া রইলো।💕

  7. আজ লেখক বর্ণনা করেছেন তার সোনালী দিনগুলোর কথা। দাদু, বাবা-মা, ভাই-বোনদের সাথে কাটানো সময় গুলো। বাধ্যগত ভাবে বাবার সকল কাজে সাহায্য করা, সেখানে কাটানো শৈশব, মজার স্মৃতি, ক্রিকেট খেলাও আছে। লেখক তার দাদার বাড়ি – নানার বাড়ি স্মৃতিকথা (হ্যালো জনতায় প্রকাশিত # ঈদ স্পর্শ – ঈদের লেখা ১ তারিখ ২৩/০৭/২০২১) আলাদা করে বর্ণনা করেছেন। লেখক এর লেখা সত্যিই টেনে নিয়ে গেছে আমায় তার রঙিন শৈশবে। ধন্যবাদ।

  8. লেখকের সৃতিচারন আমাদেরকেও অনেক পিছনে টেনে নিয়ে যায়, অতীতের সব কিছু চোখের সামনে ভেসে উঠে ,সোনালি দিনগুলি আহা কি সব দিনগুলি ফেলে এসেছি।আবারো ফিরে পেতে চাই সেই হারানো দিনগুলো তবে সেই শাসন ফিরে পেতে চাই না যেটা লেখক বর্ননা করেছেন যে শাসন মানুষের মনের সমস্ত স্বপ্ন গুলোকে মুকুলেই মেরে ফেলে।ধন্যবাদ।

  9. সোনালী অতীত … স্মৃতিচারণ
    ভালো লেগেছে … শুভকামনা 😊

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here