শেষ রক্ষা হলো না টাঙ্গুয়ার হাওর নজরখালী ফসল রক্ষা বাঁধ ।

3
188

চাঁদ দেখা গেছে । আজ প্রথম রোজা । সকলের প্রতি রইল মাহে রমজানের শুভেচ্ছা ।

টানাবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে,নদীতে পানি বৃদ্ধি হওয়ায়,শেষ রক্ষা হলো না টাঙ্গুয়ার হাওর নজরখালী ফসল রক্ষা বাঁধ,এতে একমাত্র বোর ফসল হারানোর হুমকিতে রয়েছে হাওরপারের কৃষক।এই বাঁধটি ভেঙে যাওয়া আরও ৫-৬টি বাঁধ ভেঙে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে। এতে ফসল নিয়ে চরম উদ্বেগে আছে হাওরপারের ৫০টি গ্রামের কৃষক।

D. Diamond BD

জানা যায় গত কয়েকদিন ধরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ তাহিরপুর উপজেলার পাটলাইসহ বিভিন্ন নদীতে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেছে কয়েক ফুট।এতে টাঙ্গুয়ার হাওর নজরখালী বাঁধের কানায় কানায় উঠেছে পানি।কোথাও কোথাও বাঁধে উপচে পড়ে পানি ঢুকছে হাওরে, এমন পরিস্থিতির একপর্যায়ে স্থানীয় শতশত কৃষকদের শতচেষ্টাও শেষ রক্ষা হলনা টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালী ফসল রক্ষা বাঁধ।

( ২এপ্রিল)শনিবার সকালে সরেজমিনে টাঙ্গুয়ার হাওর নজরখালী বাঁধ পরিদর্শন করে এমন দৃশ্য চোখে পড়ছে।

ওইসব এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় প্রতিবছর বাঁধটি টাঙ্গুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়।কিন্তু এ বছর সমিতির কোষাগারে আর্থিক সংকট থাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ২৪নং পি,আই,সি’র সভাপতি নান্টু সরকার এর মাধ্যমে বাঁধের নির্মাণ কাজ করা হয়।

স্থানীয় উপকারভোগী কৃষকদের তথ্যমতে জানা যায় বাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় টাঙ্গুয়ার হাওরসহ আশপাশের গইন্যাকুড়ি, এরালাইল্যাকুনা,লামারগুল, টানেরগুল,মাঝেরগুল,নান্দিয়া সোনাডুবি,সামসাগর হাওরসহ ২০-৩০ হাওরের একমাত্র বোর ফসল পানিতে তলিয়ে যাবে। এছাড়াও ভাঙ্গনের মুখে পড়বে গলগলিয়া,খাইজ্যাউরী,হানিয়া,কলমাসহ ৭-৮টি হাওরের বাঁধ। তারা জানান টাঙ্গুয়ার হাওর নজরখালী বাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় একমাত্র বোর ফসল হারানোর শঙ্কায় আছে হাওরপারের ৫০টি গ্রামের কৃষক।

টাঙ্গুয়ার হাওর পারের রংচি গ্রামের কৃষক বকুল মিয়া বলেন টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীতে পানি বৃদ্ধি হওয়ায় ও বাঁধটি সঠিকভাবে নির্মাণ কাজ না করায় বাঁধটি ভেঙে গিয়ে, আমাদের স্বপ্ন একমাত্র বোর ফসল হারিয়ে আমরা এখন দিশেহারা।

একই গ্রামের কৃষক আব্দুল হাই বলেন বাঁধটি সঠিকভাবে কাজ না হওয়ায়,বাঁধের উপর দিয়ে ঢলের পানি উপচে পড়ে হাওরে প্রবেশ করছে। এতে আমাদের একমাত্র বোর ফসল পানিতে তলিয়ে যাবে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রায়হান কবির বলেন টাঙ্গুয়ার হাওরের বাঁধটি মূলত পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ নয়,বাঁধটি প্রতিবছর স্থানীয় সমিতির অর্থায়নে স্বল্প পরিসরে নির্মাণ করা হয়, এ বছর সমিতির কোষাগারে আর্থিক সংকট থাকায়,স্থানীয় কৃষকদের অনুরোধে স্বল্প পরিসরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়।কিন্তু উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীতে পানি বৃদ্ধি হওয়ায়,বাঁধের উপর দিয়ে ঢলের পানি উপচে পড়ে বাঁধটি ভেঙে যায়।


টাঙ্গুয়ার বিল থেকে
আব্দুল হক ।
হ্যালো জনতা ডট কম ।
hellojanata.com .

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here