ভ্রমন- রং টার্ন !!! ওয়ে টু থানচি বান্দরবান লিখেছেন মুহাম্মদ মনসুরুল আজম।।

0
129

রং টার্ন !!! ওয়ে টু থানচি বান্দরবান।।

সারাদিন কাজের পরে আমরা কয়েকজন বন্ধুরা মিলে বিকেলে প্রতিদিন আড্ডা দেই। চলে চা কফি ছোলা পিয়াজু ঝাল মুড়ি।আড্ডার মধ্যমনি আমাদের জহির ভাই, ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার। বিভিন্ন যায়গায় ঘুরাঘুরি যার নেশার মতো। সেদিন বিকেলের আড্ডায় জহির ভাই ঘোষণা দিলেন আমাদের নিয়ে ঘুরতে যাবেন।আমরা তো মহা খুশী। সবাই আনন্দে হই হই করে উঠলো। আমাদের গ্রুপের নাম হলো ” চলো ঘুরি বাংলাদেশ ” গ্রুপের টি শার্টও রেডি করা হলো। আমরা ৭ জনের টিম। ঠিক করা হলো বান্দরবান, নীলগিরি, চিম্বুক এবং থানচি ভ্রমণ করবো।

সবাই যেহেতু চাকুরীজিবি তাই বৃহস্পতিবার আধাবেলা অফিস শেষে বেলা ৪ টায় আমরা চলে গেলাম চট্টগ্রাম বহাদ্দারহাটের বাস টারমিনালে। ভাড়া ১১০ টাকা,
বান্দরবান পৌছতে সময় লাগে ২.৩০ ঘন্টা। ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে এস. আলম, ইউনিক, হানিফ, শ্যামলি, সৌদিয়া, সেন্টমার্টিন ইত্যাদি পরিবহনের বাস বান্দরবানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। জনপ্রতি এসব বাসের ভাড়া যথাক্রমে নন এসি ৫৫০-৬৫০ টাকা ও এসি ৯৫০-১৫০০ টাকা। ঢাকা থেকে ট্রেনে চট্রগ্রাম গিয়ে সেখান থেকে বান্দরবান আসতে পারবেন।শহর ছেড়ে আমাদের বাস ছুটে চললো পাহাড়ি আঁকা বাঁকা পথ ধরে। আড্ডা গল্প হইচই করতে করতেই পৌছে গেলাম বান্দরবান শহরে। হোটেল আগেই বুক করা ছিল। বাস থেকে নেমে হেটেই চলে এলাম হোটেলে। খুব গুছানো ছিমছাম হোটেল,অনেক বড় বড় তিনটে রুম। কিচেন বারান্দা লিভিং রুম সহ একটা এপার্টমেন্ট। ভাড়া ৩০০০ টাকা। হালকা নাস্তা শেষে আমরা বেড়িয়ে পড়লাম,তখন সন্ধ্যা ৭ টা প্রায়। আমাদের খুব সকালে থানচির বাস ধরতে হবে।রাতে বান্দরবান শহরেই ঘুরে ফিরে কাটালাম। ডিনার করতে চলে গেলাম শহরের একটি রেস্টুরেন্টে।
খুবি মজাদার কিছু ডিশ ছিল,যারমধ্যে বাশ মুরগী আর ঝাল শুটকি ভর্তা ছিল অন্যতম। ডিনার শেষ করে রাতভর চলেছে টুয়েন্টি নাইন খেলা।

সকাল ৭ টায় ব্রেকফাস্ট এ ছিল সিম্পল রুটি পরোটা ডিম আর ডাল ভাজি। নাস্তা শেষে থানচি যাওয়ার বাসে উঠে পড়লাম। কিছুদূর যাওয়ার পর দেখতে পেলাম দুই পাশে পাহাড় আর সবুজের মন মাতানো সব দৃশ্য। রাস্তা কখনো খাড়া হয়ে উপরে উঠে গেছে আবার কখনো সোজা নিচে নেমে গেছে,কখনোবা আঁকা বাঁকা ।আমার খুব ভয় লাগছিল, একটু এদিক সেদিক হলেই আমাদের বাস একদম দু তিনশো ফিট নিচে পড়ে যেতে পারে। চিম্বুক পাহাড়ে এসে আমাদের বিরতি দেয়া হলো, এখানে হাল্কা নাস্তা আর চা কফি শেষে আবার রওনা দিলাম। বেলা ১২ টার দিকে আমরা থানচি পৌছালাম।

বান্দরবান জেলার আয়তনে সবচেয়ে বড় উপজেলার নাম থানচি। বান্দরবান শহর থেকে থানচির দূরত্ব প্রায় ৮৫ কিঃমিঃ। মার্মা শব্দ থাইন চৈ বা বিশ্রামের স্থান থেকে থানচি নামটির উৎপত্তি।
যাইহোক বেলা প্রায় ১টা, আমরা প্রশাসনিক অনুমতি পত্র নিয়ে নিলাম ঘুরে বেড়ানোর জন্য। বাজারে বেশ কিছু সংখ্যক খাবার হোটেল আছে খুবই সাধারণ মানের। সেখানে ডাল ভাত আর মুরগীর তরকারী দিয়ে দুপুরের খাবার শেষ করলাম।

বাজারের সাথেই সাংগু নদী। সর্পিলাকার এই নদী মিয়ানমার সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার মদক এলাকার পাহাড়ে এর উৎপত্তি। আমরা এই নদী পথে ঘুরে বেড়াবো। দুই পাশে পাহাড় আর মাঝখানে একে বেকে বয়ে চলেছে এই নদী। এই পথেই যেতে হয় রেমাক্রি। নাফাখুম আমিয়াখুম সহ সুন্দর অনেক জলপ্রপাত রয়েছে এখানে। আছে অসংখ্য নাম না জানা ঝর্ণা। যেহেতু আমরা সন্ধ্যার মধ্যে আবার বান্দরবান ফিরবো তাই আমাদের গন্তব্য বেশী দূর নয়। আমরা কাছাকাছি বড় পাথর আর কুমারী ঝর্ণা পর্যন্ত যাব বলে ঠিক করলাম। নদীতে চলাচলের জন্য এখানে রয়েছে চিকন সরু লম্বা ইঞ্জিনের নৌকা।
আমরা একটি নৌকা ভাড়া করলাম ৪ হাজার টাকা দিয়ে। লাইফ জ্যাকেট পরে নৌকায় উঠে গেলাম।

অসম্ভব সুন্দর এই সাংগু নদী, আপনি এখানে না আসলে কখনো বুঝতেই পারবেন না। প্রকৃতি যেন নিজেকে মেলে ধরেছে অপরূপ সাজে। যতই সামনে এগিয়ে যাচ্ছি ততই অবাক হচ্ছি। মনে হচ্ছে এইটি বাংলাদেশ নয়,যেন থাইল্যান্ড বা ইউরোপের কোন দেশে চলে এসেছি। নদীতে ছোট বড় অসংখ্য পাথর। পাহাড়ের গায়ে চলছে জুম চাষ। অসাধারণ সব দৃশ্য। যতই দেখছি ততই মুগ্ধতার আবেশ ছড়িয়ে পড়ছে মন প্রানে। দূর পাহাড়ের গায়ে মেঘেদের লুকোচুরি। সাদা মেঘের ভেলায় আদিবাসীদের ঘর গুলো যেন এক একটি প্রশান্তির ছায়া। আমাদের গ্রুপের সবাই ছবি তুলতে ব্যস্ত, কেউবা ভিডিও ধারন করছে। ডানে বায়ে সবই সুন্দর,যত ইচ্ছে ছবি তুলতে পারবেন।

চারদিকের অপরূপ সব ল্যন্ডস্কেপ দেখতে দেখতে আমরা চলে এলাম কুমারী ঝর্ণার কাছে। এত সচ্ছ জল আর মিষ্টি পানি দেখে আমরা সবাই প্রান ভরে পান করলাম। এরপর ঝর্ণার জলে গা ভিজিয়ে কিছুক্ষণ দাপাদাপি করে চলে গেলাম বড় পাথর। নদীর মাঝখানে বিশাল আকৃতির একটা পাথর। আমরা সেখানে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে ফিরে যাওয়ার জন্য রওনা দিলাম। বেলা তখন চারটে বাজে। সন্ধ্যার পর থানচি থেকে বান্দরবান যাওয়ার কোন গাড়ি নেই। বাশের ভেলায় চড়ে পাহাড়ি লোকজন বিভিন্ন ফলমূল নিয়ে বাজারের দিকে যাচ্ছে সে এক অসাধারণ দৃশ্য। এতসব দেখতে দেখতে আবারো ফিরে এলাম থানচি বাজারে। অল্পের জন্য শেষ বাসটি মিস করলাম। উপায় না দেখে ৫ হাজার টাকা দিয়ে চাঁদের গাড়ি ভাড়া করলাম। দামটা একটু বেশীই ছিল। রাতের অন্ধকারে সেই জীপে করে বান্দরবান শহরে এসে পৌছালাম।

পরদিন সকালে নীলাচল আর স্বর্ণমন্দির দেখতে গেলাম। আরো কিছু সুন্দর স্পট ঘুরে বিকেল ৫ টার বাসে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। বাংলাদেশ যে এতো সুন্দর তা কখনো বান্দরবান না এলে কল্পনাও করতে পারবেন না।

লিখা ও ছবিঃ মুহাম্মদ মনসুরুল আজম।

——

# আপনাদের আরো পড়ার সুবিধার্থে আমাদের hellojanata APP ডাউন লোড করে নিন গুগল প্লে থেকে ।
Android Apps Link:-

https://play.google.com/store/apps/details?id=hello.janata&hl=en&gl=US

———–
এছাড়াও –
# প্রতিদিন “বাঙালির জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম -লেখক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ মাহফুজুর রহমান” পড়ুন ।।

# আবার বেড়াতে যাবেন? আইডিয়া দরকার ??প্রতি বুধবার “ভ্রমন”পড়ুন।। এ সপ্তাহে প্রকাশিত লেখক মুহাম্মদ মনসুরুল আজম এর ” রং টার্ন !!! ওয়ে টু থানচি বান্দরবান “ চলমান~~ আমাদের দেশের খাসিয়া উপজাতি ও ইন্দোনেশিয়ার মানুষ নিয়ে- লিখেছেন খসরু খান । ~~~
# শুক্রবারের রান্নাঘরে,প্রকাশিত হয় বৃহস্পতিবার –এ সপ্তাহে লিখেছেন ফিরোজা বেগম ” পুরান ঢাকার হাজীর বিরিয়ানি ” ।। চলমান ~~~~
# শুক্র বারে ” বৈমানিকের পাণ্ডুলিপি লিখেন বাঙ্গালি বৈমানিক ” রেহমান রুদ্র”। এ সপ্তাহে তিনি লেখা পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন ।
# আগামী শনিবার থেকে আমেরিকার বাল্টিমোর থেকে ” সব পেয়েছির দেশে ” লিখবেন লেখক আব্দুল হাকিম। তিনি লিখবেন তাঁর নিজস্ব বানান রীতিতে । প্রতি শনিবার ।

কলামিস্ট ও লেখক দেওয়ান মাবুদ আহমেদের — দুবলহাটি রাজবাড়ি, নওগাঁ — চলমান —

সাহিত্য পেজে পাবেন প্রখ্যাত লেখক এবং সাংবাদিক,সংগঠক দন্ত্যস রওশন এর ১২ টি নতুন অনুকাব্য ।।চলমান~~~

# — এ ছাড়া ” রবিবাসরীয় কবিতা” পাবেন প্রতি রবিবার ।।এ সপ্তাহে “কবি তানজিম_তানিম এর তিনটি কবিতা” প্রকাশিত হয়েছে।
# আসছে ২৬শে মার্চ, স্বাধীনতা দিবসে প্রকাশিত হবে ” মাহবুবা ছন্দার” একটি জীবন ঘেঁষা ছোট গল্প–“দুঃখ রাতের গান” । মনে করিয়ে দেবে একাত্তুরের দিনগুলো ।

# # পড়ছেন ? আপনিও লিখতে পারেন হ্যালো জনতার পাতায় ।মেইল করে পাঠিয়ে দিন আমাদের –hellojanata350@gmail.com এই মেইলে । আপনার নামে আর আপনার ছবিতে পোস্টটি প্রকাশ হবে লিখা অন্যান্য বিভাগে ।
মাস্ক মাস্ক মাস্ক মাস্ক মাস্ক মাস্ক
মাস্ক পরুন করোনা দূরে রাখুন।টিকা নিলেও মাস্ক পরুন। টিকা নিন।

টিকা নেওয়ার জন্য সুরক্ষা অ্যাপ লিঙ্ক— www.surokkha.gov.bd

# একটি হ্যালোজনতা প্রেজেন্টেশন #

।। হ্যালো জনতা.কম ।।

নুপুর ।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here