এক্সক্লুসিভ *বৈমানিকের পান্ডুলিপি*১৩*বৈমানিকের মনে কি খেলা করে * বাঙ্গালি বৈমানিক রেহমান রুদ্র।

11
249


বৈমানিকের মনে কি খেলা করে।

মনের অবস্থান কোথায়। কাব্য করে বলতে গেলে বলা যায় মনের আবার জানালা রয়েছে। এটা সুন্দর কথা তবে এই জানালাটা কোথায়। ছোটবেলায় টিচারকে ঠিকমত পড়া দিতে না পারলে বলতেন মনটা কোথায় তোমার। পড়াশুনায় মনযোগী হও। সেই থেকে ভেবে আসছি আসলে মন কোথায় থাকে। এই এয়ারলাইনে জয়েন করার পর নানারকমের কোর্স ঘামিয়ে তুলেছিল। সারা বিশ্ব থেকে আসা সব পাইলটকে রাতদিন ব্যস্ত করে রেখেছিল কোর্স ক্যারিকুলাম। এর মধ্যে একটি কোর্সের ইন্সট্রাকটর ছিল ডাক্তার। পেশায় নিয়রো সার্জন। ক্লাসে বললেন উনার দক্ষতা হচ্ছে ব্রেইন সার্জারি। শুরু হয়ে গেলো মানুষের মগজ নিয়ে পড়াশুনার জিমন্যাস্টিকস। পাইলট মানুষ তাই ডাক্তারি বিষয় নিয়ে নাড়াচাড়া করতে হিমশিম খাওয়া স্বাভাবিক। অনেক কথার মাঝে বারবার একটা বিষয়ে বেশ জোর দিয়ে বলছিলেন তা হোল ব্রেইন ভুল সিগন্যাল দিতে সক্ষম। মন কি বলে না বলে তা যাচাই করা প্রয়োজন। মনের অস্তিত্ব ব্রেনের ভিতরেই অবস্থান করছে। কোর্সের মেইন উদ্দেশ্য ছিল ব্রেইনের ভুল সিগন্যাল হতে কিভাবে উদ্ধার পাওয়া সম্ভব তার পূর্ণ বিচার বিশ্লেষণ। বিমান চালনায় সামান্য ভুল ডেকে আনতে পারে ভীষণ বিপদ। আজ পর্যন্ত যত এয়ারক্রাফট এক্সিডেন্ট হয়েছে তার একটি প্রেক্ষাপটের সাথে অন্যটির মিল নেই কিন্তু সব ঘটনায় একটি বিষয় কমন ছিল তা হচ্ছে বিমানকে সেইফ ফ্লাইং জোনে ফিরিয়ে নিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে পাইলট। বিমান কি করে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল সেটার অসংখ্য কারন থাকতে পারে যার রহস্য প্রতিটি দুর্ঘটনার সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। পাইলট তো মানুষ তাই সিরিয়াস অবস্থায় তার মনের ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছে বহুদিন ধরে। দুর্বলতা সম্পর্কে সচেতন থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সুবিধা হয়।

আকাশে বিমানের অবস্থান নির্ধারণে এরোডিনামিক্স এর থিয়োরি বুঝতে হয়। প্রতিটি মুহূর্তে উড়ন্ত বিমান প্রকৃতিগত ভাবেই এসব থিয়োরির মধ্যে থেকে নিরাপদ এক বলয়ে অবস্থান করে। ককপিটের বিভিন্ন ইন্সট্রুমেনট দেখে পাইলট এই সেইফটি বলয় নিশ্চিত করে। প্রতিনিয়ত পাইলটের সাথে এয়ারক্রাফটের বুঝাপড়া চলতে থাকে। আমরা বলি হিউম্যান ভার্সেস ফ্লাইং মেশিন। অতীতে এমনও হয়েছে টেকঅফ করার পরপর দেখা গেল যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে বিমানের কন্ট্রোল কাজ করছেনা। অথবা হাজারো ফুট উঁচুতে বিমান তার ক্লাইম্ব রেট কন্ট্রোল করতে পারছেনা। এধরনের পরিস্থিতিতে পড়ে শতশত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যান্ত্রিক সফলতার জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছেন গবেষকগণ।

একটা ঘটনা আজ শেয়ার করছি। বহুদিন আগে ঢাকা থেকে এয়ারক্রাফট নিয়ে চট্টগ্রাম যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ওটা শিডিউল কোন ফ্লাইট নয়। ঈদের মৌসুম। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা যাত্রিরা চট্টগ্রাম যাবার অপেক্ষায়। এয়ারপোর্টে মানুষ উপচে পড়ছে। কতৃপক্ষ যাত্রিদের কথা ভেবে ঐ এয়ারক্রাফট হ্যাঙ্গার থেকে এনে পার্ক করেছে। একটা সীট খালি নেই। বেশীরভাগ যাত্রী বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে ফ্লাই করছে। রাত আটটায় ডিপারচার। ঐদিন আমার ডিউটি ছিলোনা। বিকেলে ফ্যামিলির সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। অপারেশন সেন্টার থেকে ফোন করে পুরো বিষয়টি জানালো। রিকোয়েস্ট করলো ফ্লাইটটি অপারেট করার জন্য। পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাজি হলাম। অপারেশনে এসে দেখি সময় বাচাতে কো পাইলট বিমানে চলে গেছে ককপিটে সবকিছু রেডি করার জন্য। আবহাওয়া তেমন সুবিধার নয়। ঢাকার এয়ারপোর্ট কুয়াশায় ঢেকে যেতে শুরু করেছে। কিছুক্ষনের মধ্যে টেকঅফ না করলে ফ্লাইট বাতিল করতে হবে। কুয়াশার কারনে বিমান উঠানামা বন্ধ হয়ে যাবে। চট্টগ্রামের আবহাওয়া তখনও মোটামুটি তবে রাত দশটার পরে ওখানেও ল্যান্ড করা যাবেনা। সাথের কো পাইলট একেবারে নতুন। ট্রেনিং শেষ করেছে কিছুদিন আগে।

আনুসাঙ্গিক কাজ শেষ করে রাওনা হলাম। জেট এয়ারক্রাফটের থ্রটল বাড়াতেই বাতাসের সাথে কুয়াশার হাল্কা আবরন সামনের জানালায় এসে লেপটে যাচ্ছে। বিমান বোঝাই যাত্রী নিয়ে টেকঅফ করে গেলাম। সবেমাত্র রানওয়ে থেকে আকাশে উঠেছি হয়তো একশ ফুট হবে। ও মুহূর্তে প্রথম কাজ হচ্ছে বিমানের চাকাগুলো এয়ারক্রাফটের বেলিতে ঢুকিয়ে ফেলা। কো পাইলট চাকা তুলতেই অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটলো যা আমার ক্যারিয়ারে কখনো ঘটেনি কিংবা কারো কাছে শুনিনি এমন অবস্থায় কেও পড়েছে। ককপিটের সব ন্যাভিগেশন ইন্সট্রুম্যানটে রেড ফ্ল্যাগ। অর্থাৎ সবকিছু ফেইল করে গেছে। পাইলট এসব প্যারামিটার দেখে বিমানের ন্যাভিগেশন করে। এগুলো ছাড়া সে পুরোটাই অন্ধ। সেন্ট্রাল জাইরস্কপ থেকে কোন সিগন্যাল আসছেনা। এটা দিনের বেলা নয় যে মাটি দেখে বাইরে তাকিয়ে বিমান উড়ানো যাবে। প্রতিনিয়ত যে সমস্ত রেফারেন্স দেখে বিমান চালিয়ে আসছি তার সবকিছুই উবে গেছে। টেকঅফের ঐ মুহূর্তটা অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল। কুয়াশাছন্ন ঢাকায় ল্যান্ড করা যাবেনা। এদিকে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার আমাদের ডাকছে রুটিন রিপোর্ট করার জন্য। পাইলট একটা ব্যাসিক ফর্মুলা ফলো করে। তা হচ্ছে ফ্লাই নেভিগেট কমুনিকেট। অর্থাৎ সবার আগে বিমান নিজের নিয়ন্ত্রনে রাখা। এরপরে কোন ডাইরেকশনে যেতে হবে তা ঠিক করা তারপরে হচ্ছে সমস্যা মোকাবেলা করে বিমানের অবস্থান সম্পর্কে যোগাযোগ করা। ইঞ্জিনে তখনো এক্সট্রা পাওয়ার। এয়ারক্রাফট আকাশে উড়বার প্রতিটি ধাপে পাউয়ার সেটিং থাকে ডিফারেন্ট। এটা ঠিকমত সেট না করলে ওভার কিংবা আন্ডার স্পীডের কারনে বিমানে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আমাদের প্রাথমিক ক্লিয়ারেন্স ছিল তিনহাজার ফুট পর্যন্ত। একটা মাত্র ক্ষুদ্র ইন্সট্রুমেন্ট তখন শেষ ভরসা। ককপিটের ছোট্ট আরটিফিসিয়াল হরাইযন যার সাইজ টেনিস বলের সমান। ইমারজেন্সি পাওয়ার দিয়ে চলে। সত্যিকার অর্থে ওটা দিয়ে দ্রুতগতির জেট বিমান ফ্লাই করা সহজ নয়। নানাবিধ কারনে ওর মধ্যে অনেক ত্রুটি রয়েছে। আর অবশিষ্ট রয়েছে দুর্বল একটি কম্পাস। ওটারও রয়েছে অনেক সীমাবদ্ধতা। বাইরের অন্ধকার আর ককপিটের আলোআঁধারি পরিবেশে কৃত্তিম হরাইযন আর ক্ষুদ্র এই কম্পাসের দিকে তাকিয়ে কো পাইলটকে বললাম কন্ট্রোলারের সাথে কথা বলতে। টেকনিক্যাল সমস্যার কথাও জানাতে বললাম। দেখি তার কোন রেসপন্স নেই। এদিকে বিমান ম্যানুয়ালি ফ্লাই করছি। বহু প্রতিকূলতার মাঝে বিমানকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি। এগুলোর লোড ব্রেইনের কেপাসিটিকে ক্রস করে যেতে পারে। কো পাইলটকে আবারো বললাম কন্ট্রোলারের সাথে কথা বলতে। এবার একটু জোরেই বললাম। এধরনের অবস্থাকে সাটল ইনকেপাসিটেশন বলে। ঘটনার আকস্মিকতায় কিছু করার ক্ষমতা হারিয়ে যায়। জোরে কথা বলায় কাজ হোল। যোগাযোগ করতেই পরিস্থিতির বিবেচনায় অন্য আর একটি খারাপ সংবাদ পেলাম। কন্ট্রোলার জানালো চট্টগ্রাম যাবার নর্মাল রুট একটু আগে বন্ধ করে দিয়েছে। ওখানকার ডেঞ্জার জোন এখন একটিভ। দুরের একটি রুট দিয়ে যেতে হবে। আমাদেরকে সতেরো হাজার ফুট উঁচু দিয়ে উড়ে যেতে বলল। ক্যাবিন স্টাফদের জানালাম যত দ্রুত সম্ভব সার্ভিস শেষ করতে। অবস্থার অবনতি হলে ওদের যথাসময়ে জানানো হবে। রেডিও দিয়ে অপারেশন সেন্টারে এয়ারক্রাফটের বর্তমান অবস্থা জানিয়ে দেয়া হল। অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অনুমান নির্ভর ন্যাভিগেশনের মাধ্যমে এগিয়ে গেলাম। প্রতিটি পাওয়ার সেটিং করতে হচ্ছে খুব সূক্ষ্মভাবে। তা না হলে বিমানকে স্বাভাবিক ও নিরাপদ বলয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। এত বিপদের মধ্যে সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ বুঝি প্রাপ্য ছিল। সম্পূর্ণ মনোযোগ কাজে লাগিয়ে জেট বিমানকে নিয়ন্ত্রনে রাখার চেষ্টা করছি। যাত্রার প্রায় শেষ পর্যায়ে। আকাশ থেকে আলোআঁধারি রানওয়ে কোথায় রয়েছে তা খুঁজতে কো পাইলটকে কাজে লাগিয়ে দিলাম। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারকে জানানো হোল রানওয়ে লাইট ও বিকন লাইটের যতটা সম্ভব উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে রাখতে। রাতের বেলায় ন্যাভিগেশন ইন্সট্রুমেনট ছাড়া মাটিতে বহুরকম আলোর মাঝে রানওয়ে খুজে পাওয়া চাট্টিখানি কাজ নয়। শেষমেশ সাগরের উপর দিয়ে উড়ে গিয়ে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে জেট নিয়ে অবতরন করলাম। মাটি স্পর্শ করতেই টানটান হয়ে থাকা শরীরের সব ফিলিং যে সরে যাচ্ছে তা ভালমতই টের পেলাম। বিমান পার্ক করে মনকে স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে কমুহূর্ত চুপ করে থাকলাম। সাইড উইন্ডো দিয়ে তাকিয়ে দেখি দেশে ফিরে আসা উৎফুল্ল যাত্রিরা সবাই টার্মিনালের দিকে যাচ্ছে। ভাবছিলাম কোন যাত্রী টের পেলনা গত একঘণ্টায় কি ঘটে গেল। প্রতিটি মুহূর্ত ছিল চেলেঞ্জিং। এতবছর এভিএশন ক্যারিয়ারের মধ্যে এই ঘটনাটি মাইলস্টোন হিসাবে মেমোরিতে গেথে আছে।

পুরো বিষয়টির কারন বিশ্লেষণ করছি। পাইলটকে মানসিক ভাবে ইমারজেন্সি মোকাবেলা করার জন্য প্রতিনিয়ত ট্রেনিং দেয়া হয়। অ্যারোডিনামিক্স এর জ্ঞান কাজে লাগিয়ে এ ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি কিভাবে সামাল দেয়া যায় তা শেখানো হয়। প্রতিটি মিশন ভিন্ন তাই পরিস্থিতিও ভিন্ন। একটি বিমান আকাশে কিভাবে উড়বে তা তৈরি হয় এক বিশেষ নির্মাণশৈলীর উপর। তাছাড়া রয়েছে উচ্চতা ও গতির প্রকারভেদ। রয়েছে অপারেশনের সীমাবদ্ধতা। কত দ্রুত সে যেতে পারবে কত উচ্চতায় উড়তে পারবে অথবা কোন পরিস্থিতিতে সে তার উড্ডয়ন ক্ষমতা হারাবে এসব শতশত বার পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দেয়া হয়। তাই প্রতিটি বিমানের রয়েছে এয়ারক্রাফট ফ্লাইট ম্যানুয়াল। টেস্ট পাইলটরা বিমান নিয়ে আকাশে এসব পরিক্ষা চালায়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিমানের যন্ত্রাংশের ত্রুটি কিংবা মধ্য আকাশে অন্য বিমান দ্বারা সৃষ্ট প্রবল ঝাকুনির মাত্রা কতটুকু পর্যন্ত নিরাপদ তা পরিক্ষা করা হয়। এয়ারক্রাফট এর ক্যাটাগরি অনুযায়ী তার আচার আচরনে ভিন্নতা রয়েছে। ফ্লাই করার টেকনিক ভিন্ন। আকাশে উড়বার কৌশলে বেসিক ফিজিক্স হচ্ছে সব বিমানের মূলমন্ত্র। এই যেমন লিফট ফর্মুলায় ডানার উপরে বাতাসের চাপের মাত্রা কতখানি হলে বিমান মাটি থেকে আকাশে উঠতে সক্ষম তার ফর্মুলা দিয়ে দেয়া হয়েছে। মাটি থেকে আকাশে উড়তে এই বিশেষ ফর্মুলা কাজ করে। এগুলো প্রতিক্ষণ বাস্তব সময়ের আবহাওয়ার উপরে নির্ভর করে। বাতাসের দিক, বেগ, ঘনত্ব, তাপমাত্রা, রানওয়ের উচ্চতা, ডানার সাইজ ও তার ডিজাইনসহ এমন নানাবিধ উপকরন রয়েছে যা নিশ্চিত করে বিমান কিভাবে নিরাপদে আকাশে উড়তে পারবে। এ ক্ষেত্রে মুলত তিনটি এনার্জি কাজ করে। ভেসে থাকার জন্য পটেনশিয়াল এনার্জি গতির জন্য কাইনেটিক এনার্জি থ্রাসট অর্জন করতে কেমিক্যাল এনার্জির সমন্বয় ঘটাতে হয়। এয়ারক্রাফট যদি সেইফ জোন অপারেশনের অদৃশ্য সীমানার বাইরে চলে যায় তাহলে কোন থিয়োরি আর কাজে লাগেনা। বিপদ অনিবার্য হয়ে ওঠে।

এয়ারক্রাফট প্রতিটি ফ্লাইটে তার ওজন ও অন্যান্য বাহ্যিক পরিবেশের দ্বারা নির্ধারিত হয় সে কত উচ্চতায় আজ ফ্লাই করতে পারবে। এটাকে আমরা বলি কফিন কর্নার। এটা স্পীডের সাথে সম্পর্কযুক্ত। বিমানের কোনখানে ইনভিযিবল সেন্টার অফ গ্রেভিটি অবস্থান করছে যা জানা অত্যাবশ্যক। এর অবস্থান সামনের দিকে হলে বিমান বেশ স্থির থাকে। পেছনের দিকে হলে পাইলটের পক্ষে মেনুভার করা সুবিধাজনক। এর একটা গ্রাফ রয়েছে যেটার বাইরে যাওয়া যাবেনা। বিপদ থেকে বাঁচার জন্য এসব থিয়োরি পাইলটের মনে গেঁথে রাখতে হয়।

আধুনিক বিমান অটোপাইলট কাজে লাগিয়ে ইলেকট্রনিক সিগ্ন্যাল দিয়ে কন্ট্রোল সার্ফেসের মাধ্যমে উড়ানো হয়। এগুলো বেশ সুবিধাজনক। এই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিমানকে সবসময় নিরাপদ বলয়ে রাখে। আমরা বলি ফ্লাই বাই ওয়্যার। এসবের সমস্যা দেখা দিলে পাইলটকে ম্যানুয়ালি টেকওভার করতে হয়। পাইলট একজন রক্তমাংসে গড়া মানুষ। ভালমন্দ সকল হিউম্যান ক্যারেকটার তার মধ্যে বিদ্যমান। ইমারজেন্সিতে তাই প্রতিটি পাইলটের রেসপন্স ভিন্ন। জরুরী ঘটনার আকস্মিকতা যে কোনো মানুষকে প্রথম কয়েক মুহূর্ত টোটালি ব্ল্যাংক করে দেয়। বিশেষ করে যেখানে রয়েছে জীবন মৃত্যুর প্রশ্ন। এটাকে স্টারটল এফেক্ট বলে। ঐসময়ে কোনকিছু করা থেকে বিরত থাকা ভালো। তৎক্ষণাৎ ভুল একশনের কারনে বিমান কন্ট্রোলের বাইরে চলে যেতে পারে। ওভার রিয়াকশন যেমন খারাপ তেমনি আন্ডার রিয়াকশনও বিপদের কারন। হিউম্যান ফ্যাক্টরের দুর্বলতা কাটাতে পাইলট নানা ধরনের ট্রেনিং নিয়ে থাকে। পাইলট যদি বিমান নিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে তখন কি করে বিমানকে নিরাপদ বলয়ে ফিরিয়ে আনতে পারে তা এয়ারলাইনগুলো প্রশিক্ষন দিয়ে যাচ্ছে। এসব ট্রেনিং আর এডভান্স টেকনোলজি অতীতের সব এক্সিডেন্টের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে থাকে। একারনে এভিএশন রাজ্যে বর্তমানে দুর্ঘটনার পরিমান আশ্চর্যজনকভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে। পাইলটের মনে হিউম্যান আর জায়ান্ট বিমানের মাঝে একধরনের বোঝাপড়া সৃষ্টি করা হয়। এতে করে একে অন্যের ভাষা বুঝতে পারে। যেকোনো মানুষের জন্য পারিপার্শ্বিক অবস্থা জানা যেমন জরুরী এয়ারক্রাফটের বেলায়ও তাই। এ ধরনের উপলদ্ধি থাকলে বিপদে পড়ার আগেই ওখান থেকে উদ্ধার পাওয়া সহজ।

হাজার বছর ধরে হিউম্যান ব্রেইন পর্যায়ক্রমে ডেভেলপ হয়েছে। স্ট্রেস সবসময় চিন্তাকে বাধাগ্রস্ত করে। মানসিক শক্তি কাজে লাগিয়ে দুর্বলতা কাটাতে সঠিকভাবে ব্রেইন প্রসেসিঙ্গের প্রয়োজন হয়। দীর্ঘ ট্রেনিং এর অভিজ্ঞতা পাইলটের লংটার্ম মেমোরিতে স্টোর করা থাকে। কি ঘটতে যাচ্ছে তা এই মেমোরি সেলগুলো পাইলটের মনে আগেভাগেই সঙ্কেত পাঠায়। তাই টেকনিক্যাল ইনফরমেশন সঠিকভাবে যাচাই করে পরিক্ষিত প্রসিজিউর ফলো করা খুবই জরুরী। বিপদ কাটানো সহজ হয়। এসব একদিনে সম্ভব হয়নি। মানুষের ব্রেইন যুক্তিবিদ্যা, ইমোশন, মেমোরি, সোশ্যাল বিহেভিয়ার কিংবা বুদ্ধিমত্তা অর্জন করেছে ধাপে ধাপে।

কিছু বেসিক জিনিষ আছে যা মানুষের নিয়ন্ত্রনের বাইরে। এই যেমন বিপদের সম্মুখীন হলে হার্ট রেইট বেড়ে যায়। চোখের পাতা উঠানামা করে। বিজ্ঞান প্রমান করেছে ঘটনার আকস্মিকতায় ধাতস্ত হতে কমপক্ষে পাঁচ থেকে দশ সেকেন্ড সময় দিতে হয়। পরিক্ষা করে দেখা গেছে এমন পরিস্থিতিতে মানুষ পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে সহজ শব্দ লিখতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে হটাৎ করে কিছু করা বিপদজনক। এই বিষয়টাকে উপেক্ষা করায় ২০০১ সালে একটি বিমানের ২৬০ জন যাত্রি,পাইলট ও ক্যাবিন স্টাফ আর এদের সাথে ভূমিতে পাঁচজনের করুন মৃত্যু হয়। টেকঅফ করার পরপরেই বিমান ওয়েক টার্বুলেন্সে পরে। সামনের উড়ন্ত বিমান থেকে এ ধরনের ঝাঁকুনির সৃষ্টি হয়। পেছনের বিমান সীমার বাইরে হেলে পড়ে। বিমানের স্পীডও ড্রপ করে যেতে পারে। কোপাইলট বিমান পরিচালনা করছিল। সে তক্ষুনি চেয়েছিল রাডারের মাধ্যমে মাত্রাতিরিক্ত হেলে পড়া বিমান সোজা করতে। তাতে ওভার কন্ট্রোলে চলে যায়। স্বল্প সময়ে বারবার কন্ট্রোল সার্ফেস ব্যবহারের ফলে এয়ারক্রাফটের ভারটিক্যাল কন্ট্রোল সার্ফেস বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিমানটি মাটিতে ক্র্যাশ করার আগেই দুটো ইঞ্জিন খসে পড়ে। এই এক্সিডেন্টটি প্রমান করে মানুষের মধ্যে বিরাজমান স্টারটেল এফেক্টের দুর্বলতা ও তা অনুধাবন করার জন্য পর্যাপ্ত সময় না দেয়া। বিজ্ঞানে স্টারটেল এফেক্টকে বলা হয় এমিগডালা হাইজ্যাক। মানুষের ব্রেইনে এর অবস্থান। কাজু বাদামের মতো আকৃতির এগুলো মগজের দুইদিকে দুটা থাকে। যুক্তি, শর্ট টাইম মেমোরি, চিন্তার ধারাবাহিকতা, বুদ্ধিমত্তা অথবা সামাজিক ব্যবহার কিংবা চালচলন সবকিছুই এই এমিগডালা নিয়ন্ত্রন করে থাকে।

ইলিউশন হচ্ছে ব্রেইনের আর একটি দুর্বলতা। দেখা গেছে রাতের বেলায় রানওয়ের আশেপাশে কোন লাইট নেই অথবা ও ধরনের এরিয়াতে রাস্তা বা বাড়িঘর নেই যা দিয়ে পাইলট কোন রেফারেন্স নিতে পারে। বেশিরভাগ রানওয়েতে মাঝবরাবর নির্দিষ্ট দূরত্বে লাইটের সারী থাকে। কিন্তু কোনটাতে আবার থাকেনা। তখন ইলিউশন হয়। রাতের বেলায় রানওয়েকে মনে হয় বেঁকে গেছে। ল্যান্ডিঙের আগেই বিমান রানওয়ে বরাবর সোজা রাখতে হয়। ব্রেইনের সেন্সরি অরগ্যান ভুল সিগ্ন্যাল দিয়ে বলে বিমান ঠিকমতো এগুচ্ছেনা। এমনও দেখা গেছে খারাপ আবহাওয়ায় ব্রেইন ভুল তথ্য দিচ্ছে। অতীতের ঘটনা আছে যেখানে প্রচণ্ড বৃষ্টির কারনে পাইলটের ভুল জাজমেন্টে বহু ট্র্যাজিক এক্সিডেন্ট হয়েছিলো। রানওয়ের কিছু আগে ব্রেইনের ভুল সিগন্যালের কারনে পাইলট সঠিক জায়গায় বিমান ল্যান্ড করাতে ব্যর্থ হয়। ভেবেছিলো ওটাই রানওয়ে। অতীতের এসব ঘটনা আজ ট্রেনিং এর অন্তর্ভুক্ত। এই ক্যারিকুলামকে বলে এভিড্যান্স বেইযড ট্রেনিং। এটার সুফল লাভে বেশ কিছু প্রসিদ্ধ এয়ারলাইনে পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিমান দুর্ঘটনার সকল পরিস্থিতি হুবহু সিমুলেটরের মাধ্যমে পাইলটদের প্র্যাকটিস করিয়ে আসছে।

বর্তমান সময়ে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে পাইলটকে এমনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে যেখানে মেশিন আর পাইলটের চিন্তাচেতনার দূরত্ব কমিয়ে আনা হয়েছে। বিপদজ্জনক পরিস্থিতি মোকাবেলায় কারিগরি বিদ্যার সাথে হিউম্যান ব্রেইনকে বুঝতে পারা কিংবা বলা যায় মানুষের মনের দুর্বলতা জানতে পারলে বৈমানিক প্রতিকুল অবস্থাতেও নিরাপদে বিমানকে উড্ডয়নে সক্ষম হবে। অভিজ্ঞতার আলোকে জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর একটি শক্ত নিরাপদ বেষ্টনী তৈরি করে। প্রতিটি পাইলটের পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য মানসিক প্রস্তুতি থাকে। যখন এর সাথে বাস্তব অবস্থার অমিল হয় তক্ষুনি পাইলট এয়ারক্রাফটের অন্যান্য প্যারামিটারের সাথে ক্রসচেক করে সঠিক কারন বের করে আনে। মনের কোনে লুকিয়ে থাকা ব্রেইনের ভুল সিগন্যালকে বেধে রেখে শেষমুহুর্ত পর্যন্ত হাল ছেড়ে না দিয়ে মানুষ ও প্রপার্টির ক্ষয়ক্ষতি থেকে বেঁচে আসাই হচ্ছে একজন পাইলটের সাকসেস।

# মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা রইল ।।
# সুপ্রিয় পাঠক, নিরাপত্তার কারনে আমার লেখায় অনেক কিছুই লিখতে পারি না। বিধি নিষেধ! বিভ্রান্ত না হয়ে আর সেটুকু মেনে নিয়ে সাথে থাকবেন—এই আশা মনে রাখছি । লেখক ।। #
রেহমান রুদ্র । মার্চ ২০২১।
# # রেহমান রুদ্র # #

# রেহমান রুদ্রের লেখাগুলি হ্যালো জনতার কাছে সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত । হ্যালো জনতার সাহিত্য তে সব পাওয়া যাবে ।পড়ুন ।

——
# আপনাদের আরো পড়ার সুবিধার্থে আমাদের hellojanata APP ডাউন লোড করে নিন গুগল প্লে থেকে ।
Android Apps Link:-

https://play.google.com/store/apps/details?id=hello.janata&hl=en&gl=US
———–
এছাড়াও –
# প্রতিদিন “বাঙালির জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম -লেখক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ মাহফুজুর রহমান” পড়ুন ।।

প্রতি বুধবার “ভ্রমন”পড়ুন।। এ সপ্তাহে প্রকাশিত লেখক মুহাম্মদ মনসুরুল আজম এর ” রং টার্ন !!! ওয়ে টু থানচি বান্দরবান “ চলমান~~ আমাদের দেশের খাসিয়া উপজাতি ও ইন্দোনেশিয়ার মানুষ নিয়ে- লিখেছেন খসরু খান । ~~~
# শুক্রবারের রান্নাঘরে,প্রকাশিত হয় বৃহস্পতিবার –এ সপ্তাহে লিখেছেন ফিরোজা বেগম ” লাউের মালাইকারী ” ।। চলমান ~~~~
# শুক্র বারে ” বৈমানিকের পাণ্ডুলিপি” লিখেন বাঙ্গালি বৈমানিক”রেহমান রুদ্র”।”
বৈমানিকের মনে কি খেলা করে।”বৈমানিকের পাণ্ডুলিপি” পর্ব ১৩ । লেখা যথা সময়েই প্রকাশিত হবে ।

# আগামী শনিবার থেকে আমেরিকার বাল্টিমোর থেকে ” সব পেয়েছির দেশে”লিখবেন আবদুল হাকিম । তিনি লিখবেন তাঁর নিজস্ব বানান রীতিতে । প্রতি শনিবার ।

কলামিস্ট ও লেখক দেওয়ান মাবুদ আহমেদের — দুবলহাটি রাজবাড়ি, নওগাঁ — চলমান —

সাহিত্য পেজে পাবেন প্রখ্যাত লেখক এবং সাংবাদিক,সংগঠক দন্ত্যস রওশন এর ১২ টি নতুন অনুকাব্য ।।চলমান~~~

# — এ ছাড়া ” রবিবাসরীয় কবিতা” পাবেন প্রতি রবিবার ।।এ সপ্তাহে “কবি তানজিম_তানিম এর তিনটি কবিতা” প্রকাশিত হয়েছে।
# আসছে ২৬শে মার্চ, স্বাধীনতা দিবসে প্রকাশিত হবে ” মাহবুবা ছন্দার” একটি জীবন ঘেঁষা ছোট গল্প–“দুঃখ রাতের গান” । মনে করিয়ে দেবে একাত্তুরের দিনগুলো ।

# সামনেই যে লেখকরা তাঁদের লেখা আমাদের এখানে নিয়মিত দেবেন বলে কথা দিয়েছেন তাঁরা হলেন — মঈন বিন নাসির , নন্দিনী সাবরিনা খান (কানাডা থেকে)। আমরা তাঁদের স্বাগত জানাই । ।

# একটি হ্যালোজনতা প্রেজেন্টেশন #

।। হ্যালো জনতা.কম ।।

নুপুর ।।

11 COMMENTS

  1. Capt. RR has once again proved his masterly understanding of human limitations. Once, when science was in its nursery, humans took pride upon his “victory” over nature. Nature, in turn, has reminded the humans again and again (Covid being the latest) that nature is never to be won over, but to take advantage of! In short, respect and benefit!
    Overreacting primarily occurs due to over secretion of adrenaline, that causes “fight/flight” instinct. The adrenal glands, capping the kidneys, is responsible for the secretion of this crucial hormone. According to the Traditional Chinese Medicine (TCM) physiology, the emotion of the kidneys are “fear”. Atop the kidneys sits two adrenal gland controlling adrenaline actually plays a vital role in regulating this “fight/flight” emotion. TCM attributes the emotion of “anger” to the liver. A short tempered person has an overacting liver behind his/her temperamental aberrations, he is not to blame, rather his liver is to be treated. In the same manner, all the Zang organs of our body: Lung, Liver, Heart, Spleen, Kidneys have their respective emotions, and a perfect balance among them presents a well-tempered persona. Its a science that the western medicine is yet to aware of. yes, as RR refers, brain may send wrong signals! The Western medicine puts too much import on brain than is desirable. It produces “brainiacs”, a sort of monsters in human form, who are currently ruling the world. Capt. RR has rightly pointed to the vulnerability of human brains. My observation as a senior Cabin Crew, observing pilots silently, is a well balanced personality, not a super brain, makes a safe pilot, of whom Capt. RR is obviously one! Thanks Captain: Fly even higher with a humble submission to almighty Allah! Thanks for sharing your invaluable experience! May Allah protect you and your passengers!

  2. তোমার লেখা থেকে অনেক অজানা বিষয়ের সন্ধান পাওয়া যায়।
    “ওয়েক টারবুলেন্স” ।
    It must be something like the effect of high speed movement of water craft in the water bed which we often see in the river.
    The wake turbulence around an airport upto certain distance especially during take off and landings be a business of ATC??
    Very unfortunate incident.
    Your journey to Chittagong………….
    May Allah be with you and all pilots always for Our Safety.

  3. খুব সুন্দর করে লিখেছেন ক্যাপ্টেন সাহেব। অনেক অজানা তথ্য জানলাম অনেক কিছু শিখলাম। লেখাটা আমি শেয়ার করতে চাই। জনগণ উপকৃত হবে।

    • ধন্যবাদ । শেয়ার করুন । আমাদের আপত্তি নাই । আর আমি যত দূর জানি ক্যাপ্টেন রুদ্রের ও কোন আপত্তি থাকার কথা নেই -কেননা সে জানে যে সে সবার জন্য লিখছে । লেখার প্রথম ভাগে আমাদের এমন কথাই হয়েছিল ।
      আবারো ধন্যবাদ ।
      সম্পাদক ।
      হ্যালো জনতা ডট কম ।।

  4. ” পাইলটের মনে হিউম্যান আর জায়ান্ট বিমানের মাঝে একধরনের বোঝাপড়া ” বাহ ভীষণসুন্দর এই ব্যাখ্যা …। আজকের এই লেখা পড়ে আমি এখন মগজের গভিরে কোয়ানটাম পদ্ধতি প্রয়োগ করে “কাজু বাদাম ” এর অস্তিত্ব খুঁজে বেড়াচ্ছি । ভিসুয়ালাইজ করছিলাম যাত্রিদের প্রাণবন্ত নেমে যাওয়া … এই ধরনের অনেক ঘটনার সাক্ষি আমিও … লেখকের সার্থকতা পাঠকদের প্রতিক্রিয়াতেই বোঝা সম্ভব । শুভকামনা নিরন্তর ।

  5. A breathtaking episode that has overwhelmed me from the deep touched emotions! One factor was very frightening- the Captain was called unscheduled; this is one very common symptoms of big mishaps and misfortunes! The pilot truely had controlled himself in expression and possibly intentionally made a superfluous commentary and did take lot of care not to pass down the poison of the moment when he was toying nearly 300 lives! His success gifted many smiles, hardly anyone knew that none of those loved ones should at all smile that day! It was a travel never to return home! The captain very truely connected a few words এত বিপদের মধ্যে সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ বুঝি প্রাপ্য ছিল। It was a gifted safety without doubt and indeed a true return from the world from where return is unlikely! You indeed can call it a success; but any incident is a success when it is backed by the Omniscient! Captain Rahmam experienced one success of that kind!

    A pilot is a true warrior in real time! There are sorrows, surprises, smiles, solace, seeings, suspects, seductive situations- all pass through the psychs of a pilot most of which are unknown, unshared, unseen, unmeasured, unthought, undetected and even unfelt though many events to the pilot are unforgettable! A pilot when fights – he fights for others! He does much beyond than what his self can do! Captain Rahman was observing silence after successful landing for that! It was not the joy that became the most focal point; it is always what the face of reality he had to face – absolutely alone and for everyone!

  6. Apner lekha porte porte shob kichui chokher shamne vheshe uthe ! Shob lekhokhoker ei vhasha khubi birol ! Ami moteo baire bolci na ! Eta amar moto onek pathok ek mot hoben ! Apner r o lekhar opekhai roilam !!!!!

  7. মানুষ আর যন্ত্র নিয়ে আমরা যতই এগিয়ে যায়না কেন ,শেষ মুহুততে পাইলটের সিদ্ধান্তই চরম সিদ্ধান্ত।আর হুট করে কাজে ডেকে নিয়ে আসাটা বোধ হয় সমীচিন নয় এখানে একটু ঝুঁকি থেকে যায় , অনেক ধন্যবাদ পাইলটকে ।

  8. স্যার রুদ্র
    অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ।আপনার মন থেকে আসা কথা গুলো যেমন পাইলটের জন্যে বলা,তেমনি আমাদের জীবন যাপনের জন্যেও দরকার প্রতিটা ক্ষেত্রে ।কথা গুলো শিক্ষণীয় ।
    এভিডেন্স বেইযড ট্রেনিং এর সফলতায় ,মেশিন আর পাইলটের চিন্তা চেতনা দুরত্ব কমিয়ে এনে পরিস্তিতি মোকাবেলা,একজন পাইলটের সাকসেস ।আরো কিছু জানতে পারবো সেই অপেক্ষায়,শুভকামনা থাকলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here