“প্রতিরোধ যুদ্ধে চট্টগ্রাম – ১৪ “লিখছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ মাহফুজুর রহমান।।

0
43

আসা-যাওয়ার পথের এবং বিপদের আরো কিছু চিত্র।
* আমার (লেখকের) অভিজ্ঞতার কথা বলি। প্রতিরোধ যুদ্ধের পর্যায়ে মেডিকেল কলেজ হতে বেতার, বেতার হতে
আবার মেডিকেল,সেখান হতে যাই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হতে পটিয়া কলেজ। পটিয়া হতে
পরিচিত সবাই ভারতে রওয়ানা হলে আমি নদীপথে এসে চাকতাই খাল দিয়ে শহরে ঢুকি। তখন এপ্রিলের মাঝামাঝি
হবে। সারা শহরে হাত তোলা অবস্থায় অসংখ্য গলা লাশের মাঝে পাহাড়তলী পৌঁছি। সেখান হতে কাসেম, বাচ্চু,
শরীফ, ফয়েজসহ ১০/১৫ জনকে নিয়ে বাড়বকুন্ড পাহাড় দিয়ে নাজিরহাট বাগানবাজার হয়ে রামগড় যাই। সাবরুম
পৌঁছে বগাফা হতে ৭ দিনের ট্রেনিং শেষে এফ এফ গ্রুপ এর দলনেতা হিসেবে শুভপুর ব্রীজে পৌঁছি শহরে আসার
জন্য। সেখানে উপস্থিত জনতা আমাদের স্পাই সন্দেহে ধরে নিয়ে যেতে উদ্যত হলে ব্রীজের কাছে অবস্থানরত
মেজর জিয়াউর রহমান আমাদের ছাড়িয়ে দেন। দলসহ করেরহাট গিয়ে আবার শুভপুর ব্রীজে চলে আসি। শুভপুর
ব্রীজ পাহারায় ৩/৪ দিন থাকার পর ছাত্রলীগ নেতারা খবর দিয়ে ভারতে নিয়ে যান। সেখানে দেরাদুন হতে ট্রেনিং
শেষে বি এল এফ এর দলনেতা হিসেবে একটি দল নিয়ে শহর ঢুকি। শহর হতে ৪/৫ বারে আমাকে অস্ত্র আনতে,
যোগাযোগ করতে ভারত যেতে হয়েছে। শহরের এফ এফ গ্রুপের ডেপুটি কমান্ডার ও পরে কমান্ডার ফজলুল
হককেও ৫/৬ বার ভারত যেতে হয়েছে একই কাজে। অপর গ্রুপগুলোর নেতা ও প্রতিনিধিরা এভাবে বেশ কিছুদিন
পরপর ভারত যেতেন বিভিন্ন কাজে।
বি এল এফ দলের সাথে যখন ঢুকি তখন আমাদের সাথে আরো ছিলেন বি এল এফ এর দুটি গ্রুপ। একবার আবু
তোরাবের (মিরশ্বরাই) পাশে এক বাড়ীতে আমরা আশ্রয় নিই। সকালে খাওয়া দাওয়ার পর সবাই অস্ত্র পরিস্কার
করছিলেন। অমল মিত্র পরিষ্কার করছিলেন একটি এল এম জি। পরিষ্কার করার পর ট্রিগার টিপবার আগে
ট্রেনিং এর সময় যে শিক্ষা দেয়া হয়েছিল অস্ত্র পরিষ্কার করার পর তা ঠিক আছে কিনা দেখার জন্যে কোন
বস্তুর দিকে লক্ষ্য করে ট্রিগার টিপতে নেই। আকাশের দিকে চেয়ে খালি আকাশ দেখে ট্রিগার টিপতে হয়-
একথাটি তার মনে পড়ল। তার এল এম জির নলের ঠিক বরাবর ২ হাত দূরে বসে ছিলাম আমি। সে ট্রিগার টিপবার
সময় নলটিকে আমার দিক হতে ঘুরিয়ে আকাশের দিকে না করে সামনে খোলা জায়গার দিকে রেখে টিপ দেয়। গুলি
আধা মাইল দূরে এক বাড়ীতে জনৈক রাজাকারের স্ত্রীর গায়ে গিয়ে বিঁধে। অমল মিত্র ট্রেনিং এর অর্ধেক মেনে
চলায় আমার জীবন পুরোটা রক্ষা পায়। না হলে দু হাত দূরে এল এম জির গুলির পর আমাকে চেনাই মুশকিল হত
বাঁচাতো দূরের কথা।
আসার পথে আমরা এক সেন্টার হতে অন্য সেন্টারে আসতাম রাতে। ঘাড়ে করে গোলাবারুদ ও আমাদের নিজেদের
কাঁধে করে অস্ত্র নিয়ে সাগর পার দিয়ে সারি বেঁধে হেঁটে আসতে হত। রাতে হেঁটে আসার সময় সিগারেট বা কোন
ধরণের আগুন দেখে আমাদের অবস্থান নির্ণয় করা সহজ ছিল শত্রুদের। একবার আসার পথে গভীর অন্ধকারে
আমাদের দলের একজন সদস্য সিগারেট ধরালে তাকে পরবর্তী আশ্রয়ে রেখে আমরা হেঁটে শহরে চলে আসি।
পরবর্তীতে সে যোদ্ধা আমাদের দলের হয়ে বেশ কয়েকটি সাহসিক অপারেশনের নেতৃত্ব দেন।
অন্য একবার অন্ত্র আনা ও অন্যান্য যোগাযোগের জন্যে ভারত যাওয়ার সময় এক মারাত্মক দুর্ঘটনা হতে
হতে বেঁচে যাই। ছাগলনাইয়াতে সীমান্তের কাছাকাছি একটি বাজারে চা খাচ্ছিলাম। সাথে ৪৫-৫০ জন লোক সবাই
আমার অচেনা যদিও সে সময় সব অচেনা যোদ্ধাদের নিকট আত্মীয়ের চেয়েও আপন মনে হত। এক সময় গাইডার
এসে সবাইকে রওয়ানা হতে বলল। আমার চা খাওয়া তখনও শেষ হয়নি। তাই সবাই রওয়ানা হলেও আমি গেলামনা।
১০/১২ মিনিট পর হঠাৎ অদূরেই ব্রাশ ফায়ারের শব্দ শুনে থমকে গেলাম। খবর এল আগের দলের সবাই পাক
বাহিনীর এ্যামবুশে পড়ে শহীদ হয়েছেন। রাতে আর খাওয়া হলনা। ভোর হতে হতে আরো ২০/২৫ জন এল ওপার
যেতে। ভোর রাতে রওয়ানা হলাম। কিছুদূর গিয়ে দেখি এক পুকুর পাড়ে ২০/৩০ জনের লাশ পড়ে আছে। কারো মাথায়,
কারো বুকে, কারো পেটে গুলি লেগে মরে রয়েছে। অন্ধকারের মাঝে কেউ কেউ বা হয়তো পালিয়ে গেছে। এভাবে চা
আমার জীবন বাঁচিয়েছে। চা’র কাছে আমি আজীবন ঋণী হয়ে রইলাম।
* সীতাকুন্ডের এফ এফ কমান্ডার আবুল কালাম আজাদ প্রায়ই যেতেন ভারতে। কোন সময় অস্ত্র আনতে, কোন
সময় ছাত্র যুবকদের দিয়ে আসতে। তিনি একবার সীমান্ত পার হওয়ার সময় পাক বাহিনীর এ্যামবুশে পড়ে নিজে
বেঁচে গেলেও সাথে প্রায় ১০/১১ জনের মত ছাত্র যুবক শহীদ হন। একই তথ্য দিয়েছেন মীর মোহাম্মদ শাহরিয়ার,
বশর, ফজলুল হক। ভারতে যাওয়ার পথে তারা অনেক সাথীকে হারিয়েছেন। এভাবে ভারত যাওয়ার পথে পারোয়াতে
এ্যামবুশে পড়ে শহীদ হন পটিয়ার আবুল হাশেম, আনোয়ার, রাসবিহারী নাথসহ অসংখ্য লোক। ভারত যাওয়ার পথে
পাক বাহিনীর হাতে শহীদ হন আবুইল্যা বলি, আনোয়ার, মিন্টুসহ ১০/১২ জন যোদ্ধা। এরা স্থানীয়ভাবে যুদ্ধে
অংশ নেন ও পরে নিরস্ত্র অবস্থায় আরো প্রশিক্ষণের জন্য ভারত যাচ্ছিলেন।
* শহরে ফজলুল হক ভারতে ১৭/১৮ জনকে নিয়ে যাওয়ার পথে পাক বাহিনীর ঘেরাওয়ে পড়ে যান। সবাই সে ঘেরাও
হতে পালাতে পারলেও ২ জন ধরা পড়ে যান। একজন রাজাকারের সহায়তায় এ দুজনকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায় যোদ্ধারা।
মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছে, জেনেও রাজাকারটি তাদের নিরীহ মানুষ বলে সনাক্ত করায় পাক বাহিনী এ দুজনকে
ছেড়ে দেয়।

উল্লেখ করা প্রয়োজন, যুদ্ধের সময় রাজাকারের এক অংশ বিভিন্নভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করত।
* মিরশ্বরাই এর কবির আহমদ চৌধুরী তার ৩/৪ জন সাথীকে নিয়ে ভারত যাওয়ার সময় পাহারারত একজন পাক
সেনাকে মেরে তাদের পার হতে হয়।
* চন্দ্রনাইশের মূদুল গুহ, (পূর্ব বাংলা বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের নেতা) ১০/১২ জন সাথীকে ভারত নিয়ে যাওয়ার
পথে মিরশ্বরাই এ পাক বাহিনী কর্তৃক ধৃত হয়। রাতে একটি খালের পাড়ে নিয়ে সবাইকে গুলি করে পর আবার
বেয়নেট চার্জ করে মারে। মৃত মনে করে সবাইকে ফেলে আসার পর মৃদুল গুহ অসংখ্য বেয়নেট খেয়েও দৈবক্রমে
বেঁচে যান। তিনি পরে জনৈক ব্যক্তির সহযোগিতায় ট্রেনে চড়েন। সেখানে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে থাকেন। পরে ট্রেন
হতে বেহুশ অবস্থায় জনৈক ব্যক্তি তাকে মুসলমান নাম দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তি করে দেয়।
মেডিকেল কলেজে দীর্ঘদিন থাকার পর সুস্থ হন। তার সাথে যারা শহীদ হন তাদের মাঝে ছিলেন অপু চৌধুরী,
ওসমান প্রমূখ।
* ইবরাহিম হোসেন বাবুল, জয়নাল আবেদীন রাজা, প্রকৃতি ভূষণ বড়ুয়া বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের ১৭জন ছেলেসহ,
ফটিকছড়ি, দাঁতমারা হতে ভারতের বৈষ্ণবপুর পৌঁছেন। পথে ছাত্রলীগের ৩ জন ছেলেকে নেন যাতে কোন বিপদ না
হয়।
* ভারতে যাওয়ার সময় যোদ্ধারা সাধারণতঃ খালি হাতে যেতেন। অনেকক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম দেখা যায়।
প্রতিরোধ যুদ্ধের সময় সশস্ত্র বাহিনী সমূহের এক অংশ অস্ত্র সমেত দেশে থেকে যান ও গেরিলা যুদ্ধে জড়িত
হন। এদের অনেকেই সশস্ত্র অবস্থায়ই পরবর্তীতে ভারত চলে যান ও যৌথ বাহিনীর সাথে দেশকে শত্রুমুক্ত
করতে দেশের অভ্যন্তরে ঢোকেন। এ সশস্ত্র গ্রুপগুলোর যাওয়ার পথে পাক বাহিনী আক্রমণ করলে তাদেরও
পাল্টা আক্রমণ করা হত। এ জাতীয় ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন সেনাবাহিনীর বাঙালি সদস্য আবু ইসলাম (বর্তমানে
আগ্রাবাদ হোটেলে কর্মরত)। প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশগ্রহণ শেষে তিনি কিছুদিন শাহাজাহান ইসলামাবাদী, কিছুদিন
সার্জেন্ট আলমের সাথে কাজ করেন। স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষণ নিয়ে কয়েকটি দলও গড়েছেন। সবশেষে পটিয়ার এম
পি সুলতান আহমদ কুসুমপুরীর সাথে কাজ করেন। অসংখ্য অপারেশন শেষে তিনি ভারতের পথে রওয়ানা দেন
সুলতান আহমদ কুসুমপুরীর সাথে। তার সাথে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের আরেক বীর নায়ক সুবেদার টি এম আলী
(মোহাম্মদ আলী)। দলবলসহ সবাই নয়াপত্তন পাহাড়ে আশ্রয় নিলে পাক বাহিনী তা টের পেয়ে যায়। তারা চারদিক
হতে পাহাড়টি ঘিরে ফেলে। মুক্তিযোদ্ধাৱা অসম সাহসিকতার সাথে প্রচন্ড যুদ্ধের মাধ্যমে পাক ব্যুহ ভেদ করে
বেড়িয়ে আসতে সক্ষম হন। কুসুমপুরীসহ অনেকে আহত হন। সুবেদার টি এম আলী (মোহাম্মদ আলী) বীরত্বের
সাথে যুদ্ধ করে শহীদ হন। পাক বাহিনীকে এখানে প্রচন্ড ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।
* ভারত হতে আসার সময় যোদ্ধাদের এক অংশ এসেছেন পুরো পথ পায়ে হেঁটে, অপর এক অংশ কিছু পথ হেঁটে বাকি
পথ এসেছেন বাসে করে। বি এল এফ কে সি-৩ শহরে এসেছে পায়ে হেঁটে। কেসি-১ ও কেসি-২ এর সদস্যরা
সীতাকুন্ড হতে বাসে করে শহরে এসেছেন। কেসি- ৪ নেতা আব্দুল্লাহ আল হারুনের নেতৃত্বে ৬ জন যোদ্ধা
বাঁশবাড়িয়ার কাছে ঢাকা ট্রাঙ্ক রোডে এসে বাসে উঠার অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত সুন্দর। এরা রাস্তার পাশে
বাসের জন্যে দাঁড়িয়েছিলেন। হঠাৎ একটি বাসকে হাত দেখানোর আগেই তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়। কন্ট্রাকটার
অত্যন্ত ত্বরিৎগতিতে তাদের বাসে তুলে নেয়। বাসের যাসীরা অত্যন্ত সম্মানের সাথে তাদের সবাইকে বসতে
দেয় তাদের জায়গা খালি করে। কে আগে তাদের বসতে দেবে এ নিয়ে রীতিমত প্রতিযোগিতার অবতারণা হয়। বাসটি
পাহাড়তলী হাজী ক্যাম্পের কাছে আসলে পাক বাহিনী তা থামায় ও বাস চেক করতে উদ্যত হয়। বাস কন্টাকটার ও
বাস ড্রাইভার চেক করতে আসা পাক বাহিনীর সদস্যদের সামনে অকথ্যভাষায় মুক্তিযোদ্ধাদের গালাগাল করতে
থাকে উর্দু ভাষায়। এদের ভাবভঙ্গীতে পাক সেনারা ড্রাইভার ও কন্টাকটারকে পাকপন্থী মনে করে আর গাড়ী
চেক করেনি। এ সময়ে যাত্রীরাও পাকপন্থী হয়ে যায়। তারা সমানে মুক্তিযোদ্ধাদের লক্ষ্য করে উর্দু ভাষায়
গালাগাল দিতে থাকে। ফলে সম্পূর্ণ সন্দেহমুক্ত হয়েই গাড়িটিকে কোন ধরণের তল্লাশী ছাড়াই ছেড়ে দেয়।
উল্লেখা, যোদ্ধাদের প্রত্যেকের কাছে রিভলবার ছিল। যাত্রীরা সেটা দেখেও ছিল।০

* বাসে করে যোদ্ধাদের আসার অভিজ্ঞতা প্রায় একই ধরণের। শহরে এফ এফ মাহবুব গ্রুপ শহরে আসে
ফটিকছড়ি দিয়ে। নাজিরহাট পার হয়ে ৬ জনের দলটি অস্ত্রসহ বাসে উঠে। ঝুড়িতে অস্ত্র রেখে তার ওপর তরি-
তরকারী দিয়ে ঢেকে তা রাখা হয় বাসের ওপর। দুটি রিভলবার ছিল যোদ্ধাদের কাছে। অক্সিজেনের কাছে এলে পাক
বাহিনী তল্লাশীর জন্য বাসটিকে থামায়। বাস ড্রাইভার ও কন্টাকটর একই পদ্ধতিতে গাড়িটিকে তল্লাশীর হাত
হতে বাঁচিয়ে নেয়।
* আসার পথে অনেক গ্রুপকে রীতিমত যুদ্ধ করতে হয়েছে পাকপন্থী বাহিনীসমূহের সাথে। এফ এফ এর বাঁশখালী-
কুতুবদিয়া-সাতকানিয়া কমান্ডার মোখতার আহমদ দল নিয়ে ঢোকেন ফটিকছড়ি দিয়ে। মাদামবিবির হাটে আসতেই
পাক সেনারা দলটিকে আক্রমণ করে বসে। মুক্তিযোদ্ধারাও পাল্টা আক্রমণ রচনা করে। প্রচন্ড যুদ্ধের পর
পাক বাহিনী এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। এ সুযোগে মোখতার আহমদ দলসহ বাঁশখালীর পথে চলে আসেন।
* আনোয়ারার কাজী ইদ্রিস গ্রুপ ঢোকে ফটিকছড়ি দিয়ে। আসার পথে পাবর্ত্য এলাকায় মিজোদের দ্বারা
আক্রান্ত হন। প্রচন্ড যুদ্ধের পর মিজোরা সরে গেলে তিনি আনোয়ারার পথে চলে আসেন। মিরশ্বরাই এর
ওয়াহিদুর রহমান দলবলসহ পাক বাহিনীর এ্যামবুশে পরেন জিন্নাহর হাটে। সেখান হতে কিছু গোলাগুলি বিনিময়ের
পর দলটি নিজেদের এ্যামবুশে হতে মুক্ত করতে সক্ষম হয়।
* বোয়ালখালীর মাহবুব গ্রুপ খিরাম দিয়ে ঢুকে মীর্জার খামার বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। ওখান থেকে বোয়ালখালী
আসে। আসার পথে তিনিও বিপদের সম্মুখীন হন। দক্ষিণের গ্রুপগুলোর এটি ছিল অন্যতম প্রবেশ পথ।
* ভারত হতে সংবাদ নিয়ে বাসে করে আসার পথে পটিয়ার নুরুল ইসলাম (পরে বি এল এফ কমান্ডার) অক্সিজেনের
কাছে বিপদের সম্মুখীন হন। বাস চেক করে তাকে নামান হয়। জনৈক ব্যক্তি (আলবদর) সনাক্ত করার পর তাকে
বি আর টি সি পাক ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। কখনও পিটিয়ে, কখনও ইলেকট্রিক শক দিয়ে তার ওপর দুদিন
অত্যাচার চলে। দুদিন পর এক রাতে তাকে ঘরের ভিতর রেখে পাক সদস্যরা বাইরে পাহারারত থাকে। ঘরটি ছিল
কাঁচা। জনাব ইসলাম বেড়া কেটে সেখান হতে পালিয়ে আসেন। জনাব ইসলাম এ ব্যাপারে আরো একটি তথ্য বলেন,
– আমাকে এমনভাবে রেখে দেয়া হয়েছিল যাতে পালান যায়। বেড়া কাটার সময় এর শব্দ বাইরে যাওয়া স্বাভাবিক
ছিল। তবু বেড়া কেটে যখন বাইরে যাচ্ছি তখনও পাহারাদারদের কেউ টের পায়নি। হতে পারে পাহারাদাররা কেউই
টের পায়নি। হতে পায় টের পেয়েও কিছু করেনি। তিনি দ্বিতীয় সম্ভাবনার ওপর জোর দিয়েছেন। তাকে টর্চার
করার সময়ও তিনি সেখানে তার প্রতি সহানুভূতিশীল একজন পাক সেনাকে দেখেছিলেন। সে পাক সেনা মারতেন
আস্তে কিন্তু জনাব ইসলামকে চিৎকার করতে বলতেন জোরে।
এ জাতীয় আরো কিছু ঘটনার বিবরণ পাওয়া গেছে (অন্যস্থানে আছে) যাতে এ সত্য বেরিয়ে আসে পাকিস্থানী
সৈন্যদের এক অংশ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল।
* আসার পথে যোইগ্যাছোলাতে রাজেন্দ্র প্রসাদ চৌধুরী, ডাঃ আবু ইউসুফ চৌধুরীসহ অন্যান্য বি এল এক গ্রুপের
সাথে পাক বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে পাক বাহিনী পিছু হটলে গ্রুপগুলো ভিন্নপথে চলে আসে।
* বি এল এফ কে সি-৪ গ্রুপ নেতা আজিজ তার দলবলসহ শ্রীনগর দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকেন। ফেনী নদীতে এসে
দুটো নৌকা ভাড়া করা হয় মিরশ্বরাই যেতে। নৌকায় উঠার পর তারা খবর পান মিরশ্বরাই পাঞ্জাবী নেমেছে। সাথে
সাথে নৌকা ঘুরিয়ে দেন সাগরের দিকে উদ্দেশ্য ছিল সাগরের কাছাকাছি পৌঁছে কোন স্থানে উঠবেন। কারণ
সাগরের দিকে পাক বাহিনীর কোন ক্যাম্প ছিলনা, সাধারণতঃ তারা সেদিকে যেতও কম। নৌকা দু’টো কিছুদুর
একত্রে যাওয়ার পর একটি ঠিকমতই সাগরের কাছে পৌঁছে, অপরটি তীব্র স্রোতে তাল সামলাতে না পেরে
সোনাগাজীতে চলে যায়। পরেরদিন সকালে সোনাগাজী হতে রওনা নিয়ে সাগরের কাছে নৌকা দু টা একত্রিত হয়।
পাঞ্জাবী নামার খবরটি ছিল মিথ্যা। যথাসময়ে নৌকা দুটি বেইজ ঘাঁটিতে না পৌঁছায় মিরশ্বরাই এর বেইজকর্মী ও
যোদ্ধারা চিন্তায় পড়েন। বেইজে তখন অবস্থান করছিলেন বি এল এফ নেতা শওকত হাফিজ খান রুশ্নি। তিনি
বিভিন্ন গ্রুপকে এগিয়ে দিতে এসেছিলেন। সময় মত না আসায় তিনি আরো কিছু যোদ্ধাসহ নৌকাতে উঠেন।
স্রোতের গতি দেখে অনুমান করে নৌকা সাগরের দিকে ঘোরান। অবশেষে সকাল বেলায় সাগরতীর হতে সবাইকে
নিয়ে বেইজে ফিরে আসেন।
যোদ্ধাদের গ্রুপগুলোর আসা-যাওয়া নিয়ন্ত্রিত হত বেইজ কর্মীদের দ্বারা। ফলে কোন গ্রুপ যথাসময়ে না
পৌঁছলে খবর নেয়া শুরু হত ও তাদের অবস্থান বের করার চেষ্টা চলত নিশ্চিত খবর না পাওয়া পর্যন্ত।
পৃষ্ঠা: ৩৩৩-৩৩৫
বাঙালির জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম
ডাঃ মাহফুজুর রহমান
প্রকাশ – ১৯৯৩

আগামী কাল ভারত হতে আসার পথে স্বপন চেীধুরী ধরা পড়ার ঘটনাঃ

——
# আপনাদের আরো পড়ার সুবিধার্থে আমাদের hellojanata APP ডাউন লোড করে নিন গুগল প্লে থেকে ।
Android Apps Link:-

https://play.google.com/store/apps/details?id=hello.janata&hl=en&gl=US
———–
এছাড়াও –
# প্রতিদিন “বাঙালির জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম -লেখক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ মাহফুজুর রহমান” পড়ুন ।।

প্রতি বুধবার “ভ্রমন”পড়ুন।। এ সপ্তাহে প্রকাশিত লেখক মুহাম্মদ মনসুরুল আজম এর ” রং টার্ন !!! ওয়ে টু থানচি বান্দরবান “ চলমান~~ আমাদের দেশের খাসিয়া উপজাতি ও ইন্দোনেশিয়ার মানুষ নিয়ে- লিখেছেন খসরু খান । ~~~
# শুক্রবারের রান্নাঘরে,প্রকাশিত হয় বৃহস্পতিবার –এ সপ্তাহে লিখেছেন ফিরোজা বেগম ” লাউের মালাইকারী “।। চলমান ~~~~
# শুক্র বারে ” বৈমানিকের পাণ্ডুলিপি লিখেন বাঙ্গালি বৈমানিক ” রেহমান রুদ্র”। আজ নতুন পর্ব প্রকাশিত ।
# আগামী শনিবার থেকে আমেরিকার বাল্টিমোর থেকে ” সব পেয়েছির দেশে ” লিখবেন লেখক আব্দুল হাকিম। তিনি লিখবেন তাঁর নিজস্ব বানান রীতিতে । প্রতি শনিবার ।

কলামিস্ট ও লেখক দেওয়ান মাবুদ আহমেদের — দুবলহাটি রাজবাড়ি, নওগাঁ — চলমান —

সাহিত্য পেজে পাবেন প্রখ্যাত লেখক এবং সাংবাদিক,সংগঠক দন্ত্যস রওশন এর ১২ টি নতুন অনুকাব্য ।।চলমান~~~

# — এ ছাড়া ” রবিবাসরীয় কবিতা” পাবেন প্রতি রবিবার ।।এ সপ্তাহে “কবি তানজিম_তানিম এর তিনটি কবিতা” প্রকাশিত হয়েছে।
# আছ ২৬শে মার্চ, স্বাধীনতা দিবসে প্রকাশিত লেখক ” মাহবুবা ছন্দার” একটি জীবন ঘেঁষা ছোট গল্প–“দুঃখ রাতের গান” । মনে করিয়ে দেবে একাত্তুরের দিনগুলো ।

# সামনেই যে লেখকরা তাঁদের লেখা আমাদের এখানে নিয়মিত দেবেন বলে কথা দিয়েছেন তাঁরা হলেন — মঈন বিন নাসির , নন্দিনী সাবরিনা খান (কানাডা থেকে)। আমরা তাঁদের স্বাগত জানাই । ।

# একটি হ্যালোজনতা প্রেজেন্টেশন #

।। হ্যালো জনতা.কম ।।

নুপুর ।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here