“প্রতিরোধ যুদ্ধে চট্টগ্রাম – ১৫ “লিখছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ মাহফুজুর রহমান।।

0
19

ভারত হতে আসার পথে স্বপন চেীধুরী ধরা পড়ার ঘটনাঃ

নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে বি এল এফ এর চট্টগ্রাম মুক্তকরণের অংশ হিসেবে রাঙ্গুনিয়া, রাউজান,
হাটহাজারী, ফটিকছড়িতে বি এল এফ এর বিপুল সংখ্যক যোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার ইবরাহিমের নেতৃত্বে ফটিকছড়ি
দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকে। তার সাথে রাঙ্গুনিয়া রাউজান কমান্ডের দায়িত্ব নিয়ে আসেন স্বপন কুমার চৌধুরী।
স্বপন তখন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক। নিউক্লিয়াসের সদস্য ছিলেন তিনি। ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয়
সংসদের সভায় তিনি স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে আন্দোলনের প্রস্তাব তুলেছিলেন।
স্বপন চৌধুরীর সাথে ছিলেন বাঁশখালীর বি এল এফ কমান্ডার ডাঃ আবু ইউসুফ চৌধুরী, ডেপুটি কমান্ডার আ ই ম
জাকারিয়া চৌধুরী, রাউজান বি এল এফ কমান্ডার নাজিমউদ্দিন, আনোয়ারার বি এল এফ কমান্ডার সেলিম
চৌধুরীসহ বি এল এফ এর অসংখ্যা কমান্ডার ও সদস্য। ফটিকছড়ি দিয়ে ঢুকে দলটি দেলামিয়ার খামারে আশ্রয়
নেয়। পরে আশ্রয় নেয় এক পোস্ট মাস্টারের বাড়ীতে। সেখানে থাকার সময় সুলেখা চাকমা নামে এক রাজাকারকে
গুপ্তচরবৃতির অভিযোগে ধরে আনলে বাবু স্বপন তাকে না মেরে কিছু উত্তম মধ্যম দিয়ে ছেড়ে দেন। যাওয়ার আগে
রাজকারটির কাছ হতে একটি মুচলেকা নেন। আশ্রয়দাতা পোস্ট মাস্টারের আত্মীয় বলেই এ দয়া দেখান হয়েছিল।
এ ঘটনার পর আঃ ইউসুফ, রশিদ সহ প্রায় ১০০ জন যোদ্ধার মাঝে ১৮ জন বাদে বাকিরা চলে যান। তাড়াহুড়া করে
ওয়ারলেস সেটসহ বিপুল অস্ত্র নিয়ে স্থান ত্যাগ করা সম্ভব ছিলনা বিধায় ১৮ জনের গ্রুপটি ২ ভাগ হয়
সেখানেই আরো একরাত অবস্থান করবে বলে থেকে যায়। একভাগে থাকেন স্বপন চৌধুরীসহ ৬ জন, অপর ভাগে
থাকেন মাহবুব, ফজলুল করিমসহ ১২ জন। গোটা দলটির পাহাড়ায় ছিলেন ফজলুল করিম। কুয়াশা ঢাকা আবহাওয়ার
সুযোগে শেষরাতের দিকে আশ্রয় স্থানটি যখন পাক সেনারা ঘেরাও করে যোদ্ধারা তখন ঘুমিয়ে। ফজলুল করিম
যখন পাক সেনাদের দেখতে পান তখন দেরী হয়ে গেছে। তিনি দৌড়ে কোনক্রমে তার অবস্থানে খবর দিতে পারলেও
স্বপন চৌধুরীকে খবর দিতে ব্যর্থ হন। পাক সেনারা স্বপনের অবস্থান ঘেরাও করে সেখানে অবস্থানরত ৬
জনকে ধরে নিয়ে যায়। ১২ জনসহ ফজলুল করিম পালাতে সক্ষম হন। স্বপন চৌধুরীর সাথে ধরা পড়েন নুরুন্নবী,
শংকর, সুব্রত, মুকুল সাহা, এডভোকেট ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য। পাক বাহিনী অমানুষিক নির্যাতনের পরে এদের পাঁচ
জনকেই রাঙ্গামাটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। অসংখ্য যোদ্ধা সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন এরা কেউই পাক বাহিনী
কর্তৃক নিহত হননি। বি এল এফ নেতাদের এক অংশই স্বপন চৌধুরীসহ পাঁচজনকে হত্যা করেছে।
নাজিমউদ্দিন শহীদ হওয়ার ঘটনা:
আসার পথে এক দুর্ঘটনায় শহীদ হন রাউজান বি এল এফ নেতা ও ছাত্রলীগ সংগঠক নাজিমউদ্দিন। ভারত হতে
আসার পথে রাউজান কচুয়া পাহাড়ের এক ঘরে নুরুল ইসলাম, নাজিম, দিলীপ কান্তি দাশ প্রমূখ বসে বিশ্রাম
নিচ্ছিলেন। পাশেই এ ঘরে রাইফেল পরিস্কার করছিলেন সমীরণ। পরিষ্কার শেষে নিয়ম না মেনেই ট্রিগার টিপে
দেন। রাইফেলের চেম্বারে যে গুলি ছিল সেটা সমীরণ জানতেন না। এ গুলি পাশের ঘরে বসে থাকা নাজিমের বুকে
বিদ্ধ হয়। শহীদ হন নাজিম। এক ঘর হতে অন্য ঘরের মাঝে দেয়ালটি ছিল পাতার দেয়াল।
* আসার পথে রাউজান এফ এফ নেতা ও ছাত্রলীগ সভাপতি আবু মোহাম্মদ হাশেমের দুটো আশ্রয়স্থল ঘেরাও
হয়েছিল পাকপন্থীদের দ্বারা। দুবারই তিনি দলবলসহ গ্রেফতার এড়াতে সক্ষম হয়েছিলেন।
* চন্দ্রঘোনার এফ এফ লিডার ফারুক ঢোকার পথে গ্রেফতার হন। তিনি ছিলেন ফটিকছড়ির পথে।
বাংলাদেশ হতে মুক্তিযোদ্ধাদের ভারত নিয়ে যাওয়া ও ভারত হতে যোদ্ধাদের নিয়ে আসার গাইড:
প্রতিরোধ যুদ্ধের পর যুদ্ধের প্রশিক্ষণের জন্য যারা ভারত যেতেন ও প্রশিক্ষণ শেষে যুদ্ধ করতে যারা
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঢুকতেন তাদের সাথে অপরিহার্যভাবে যে ব্যক্তিটি থাকা প্রয়োজন হত তিনি হলেন
গাইড। এলাকা সম্পর্কে যাদের জ্ঞান ছিল তারাই সাধারণতঃ গাইড বা পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করতেন।
এলাকায় পাক বাহিনীর ক্যাম্পের অবস্থান, তাদের যাতায়াত পথ, রাজাকার আলবদর ও পাক দালালদের বাড়ী
ঘরের অবস্থান এসবের খবর তাদের জানা থাকতে হত। একই সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্দিষ্ট সেল্টারের
অবস্থান, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকজন সম্পর্কেও তার ধারণা থাকতে হত। বেইজ কর্মীদের কাছ হতে সব
জেনে নিয়ে গাইডকে দল নিয়ে যেতে হত ও আসতে হত। বিভিন্ন গ্রুপ বা দলকে আনা নেয়া করান ছাড়াও যুদ্ধের
গোপন খবরাখবর পৌঁছানোর কাজও কতেন গাইডেরা। শরণার্থীদের যেতেও এরা সহায়তা করতেন।
চট্টগ্রামে যে কয়েকজন গাইড মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ছিলেন তাদের মাঝে অন্যতম
ছিলেন সীতাকুন্ডের নূর মোহাম্মদ (পরবর্তী শ্রমিক লীগ নেতা হন। ১৯৯১ সালে মারা যান) ভারত হতে
অসংখ্যবার শহর পর্যন্ত যোদ্ধাদের নিয়ে এসেছেন, অসংখ্য ছাত্র যুবককে শহর হতে ভারত নিয়ে গেছেন।
শহর–সীতাকুন্ড-মিরশ্বরাই পথে তিনি পথ প্রদর্শনের কাজ করেছেন। সংবাদ আনা নেয়ার জন্য মিরশ্বরাই এর
অধ্যাপক আফসারকে প্রধান ও তাকে (নূর মোহাম্মদ) উপ প্রধান করে একটি সেল ছিল।
সাতকানিয়ার সামসু ভারত হতে কোন সময় সীতাকুন্ড শহর হয়ে দক্ষিণ জেলা, কোন সময় ফটিকছড়ির পথে
দক্ষিণ জেলায় অসংখ্যবার আসা যাওয়া করেছেন।
নুরুল হক (আওয়ামী লীগ অফিসের পিয়ন দীর্ঘদিন যাবত তিনি এ চাকরিতেই আছে), অনেকের মতে কয়েকদিন
পরপরই ভারত হতে শহরে আসতেন কোন সময় দল নিয়ে, কোন সময় সংবাদ দেয়া-নেয়া করতে।

আবুল কালাম আজাদ, সীতাকুন্ড- প্রাথমিক দিকে যোদ্ধাদের ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আসা যাওয়া ও
তথ্য সরবরাহের সাথে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে বি এল এফ নেতা হিসেবে সীতাকুণ্ডের গেরিলা যুদ্ধে যোগ দেন।
সিদ্দিক শহর হতে মিরশ্বরাই হয়ে ভারত পর্যন্ত ডাঃ ইউসুফসহ বিভিন্ন দলকে আনা নেয়ার কাজে জড়িত
ছিলেন।
মিরশ্বরাই থানার মগাধিয়ার আবুল হোসেন মোশাররফ হোসেন এমপির সাথে বিশেষ স্কোয়াডকে তিনি শহর
পর্যন্ত গাইড করেন।
নীলকণ্ঠ চাকমা ফটিকছড়ি এলাকার গাইডার। ভারত হতে বিভিন্ন গ্রুপকে তিনি ভিতরে নিয়ে আসতেন।
নূর আহমদের ছেলে ইদ্রিস- আনোয়ারায় অপারেশনের সময় নৌ কমান্ডোদের গাইডার হিসেবে কাজ করেছেন। এ
অপরাধে পাক বাহিনী তাকে হত্যা করে।
মিরশ্বরাই এর কেফায়েত উল্লাহ বেইজ কাজের পাশাপাশি গাইডের কাজও করতেন।
এছাড়াও মিরশ্বরাই এ ফজলুল হক, বদিউল আলম, চাতুরীর গুরামিয়া চৌধুরী, ছাবের, বাদশাসহ অসংখ্য গাইড
যোদ্ধাদের চলাচলকে নিরাপদ করতে সাহায্য করেছেন।
পারাপারের জন্য নির্ভরযোগ্য গাইড ছিলেন যারা সেসময় সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবার করতেন। যুদ্ধের সময়
এরা আন্তরিকতার সাথে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করেছেন। মোহাম্মদ উল্লাহ, আমিনুল্লাহ, বজলুর রহমান
এরা সে সময় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
যৌথ বাহিনীর সাথে এফ এফ, বি এল এফ যোদ্ধাঃ
যৌথ বাহিনীর সাথে ঢোকার সময় এলাকাভেদে শুধু এফ এফ সদস্যরা, এলাকা ভেদে বি এল এফ, এফ এফ সদস্যরা
যৌথ বাহিনীর সাথে থেকে যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। মূলতঃ সীতাকুন্ড-মিরশ্বরাই এলাকা ও হাটহাজারী-ফটিকছড়িতে
এফ এফ, বি এল এফ একসাথে যৌথ বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেছে। পাবর্ত্য চট্টগ্রামে যৌথ বাহিনীর সাথে ছিলেন
এফ এফ যোদ্ধারা। বি এল এফ ভিন্নভাবে যুদ্ধ করতে করতে ঢুকেছে। এ ব্যাপারে অন্যত্র আলোচনা হয়েছে।
* যৌথ বাহিনীর সাথে আবু ইসলাম- সেনাবাহিনীর আবু মোহম্মদ ইসলাম আনোয়ারা, বাঁশখালী, সাতকানিয়াতে
বিভিন্ন গ্রুপের সাথে বিভিন্ন অপারেশনের নেতৃত্ব দিয়ে সুলতান আহমদ কুসুমপুরীর সাথে ভারত যান। ভারতে
তাকে বীরোচিত সংবর্ধনা দেয়া হয়। পরে তাকে যৌথ বাহিনীর একটি কোম্পানী কমান্ডার করে যুদ্ধে পাঠান হয়।
১৩০ জনের এ কোম্পানীকে তিনটি প্লাটুনে ভাগ করে প্লাটুন কমান্ডার করা হয় আহমদ মিয়া, সুজায়েত আলী ও
আতাউর রহমানকে। আবার বিভিন্ন প্লাটুন হতে নিয়ে একটি বিশেষ স্কোয়াড করা হয় আবু ইসলাম এর নেতৃত্বে।
একইসাথে আক্রমণের জন্যে ভুটানী একটি কোম্পানীকে নিযুক্ত করা হয়। যৌথ এ বাহিনী প্রথম জালিয়নওয়ালা
পাড়া আক্রমণ করে তা দখল করে ও সেখানে একটি হেলিপোর্ট তৈরি করে। এরপর ফাগ বাজারে পাক ডিফেন্স
আক্রমণ করে তা দখল করে। এরপর বরকল আক্রমণ করে পাক সেনাদের বিতাড়িত করে। পরে শুভলং দখল করে
পাক বাহিনীকে আত্মসমর্পন করায়। আবু ইসলামের কোম্পানীর আবু বকর নামে একজন বাঙালি যুবক, যিনি
সেনাবাহিনীকে সহযোগিতার কাজে নিয়োজিত ছিলেন তিনি শহীদ হন। আর কোন ক্ষয়ক্ষতি তার কোম্পানীর হয়নি।
ভুটানী সৈন্যদের মাঝে প্রায় ১৫০ জনের মত শহীদ হন। এ দখল প্রক্রিয়ায় আবু ইসলামের এ কোম্পানীতে আরো

অনেকের মাঝে ছিলেন আব্দুল জব্বার, আবুল কাসেম, আসহাব মিয়া, মোঃ আইয়ুব, মোস্তফা কামাল, মং শিলা
প্রমূখ। এ দলটি শুভলং থাকতেই দেশ স্বাধীন হয়ে যায়।
* ১ নং সেক্টরের ব্যাটানিয়ান হাবিলদার ছিলেন মোঃ হাবিবুর রহমান। পরে যৌথ বাহিনীর সাথে আনোয়ারা
পর্যন্ত যুদ্ধ করতে করতে আসেন।
* যৌথ বাহিনীর সাথে ঢোকেন দামপাড়ার ফজলুল করিম। তিনি যৌথ বাহিনীর সাথে বিলোনিয়া দিয়ে ঢুকে কুমিরা
পর্যন্ত আসেন। কুমিরাতে শহীদ হন রেহানউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ছুটি।
* দেমাগ্রী দিয়ে সুবেদার মেজর শামসুদ্দিনের নেতৃত্বে সাতকানিয়ার রমিজউদ্দিনসহ অনেকে ঢোকেন। আসার পথে
বরকল বাংকারে শহীদ হন আব্দুল কুদ্দুস।
উপরের তথাগুলো নিঃসন্দেহে ঘটনার লক্ষ ভাগের এক ভাগ। এ হতে ভারত আসা-যাওয়া সম্পর্কে ব্যাপক ধারণা
পাওয়া কঠিন মনে হলেও কিছু সত্য ঘটনাগুলো হতে বেরিয়ে আসে তা হল-
প্রতিরোধ যুদ্ধের সময় ব্যাপক সংখ্যক রাজনৈতিক কর্মী সেনাবাহিনীর সাথে সাথে পিছু হটতে হটতে ভারতে
আশ্রয় নেয়। এ সময় ভারতে যাওয়ার পথ ও সেনাবাহিনীর প্রতিরোধের পথ ছিল একই। তখন কোন চেইন ছিলনা।
পরবর্তীতে ভারত যাওয়া আসা হত নির্দিষ্ট পথে। এ যাতায়াতের জন্যে নির্দিষ্ট গাইড ছিল। এ যাওয়া আসা
নিয়ন্ত্রিত হত বেইজ কর্মী দ্বারা। যোদ্ধারা কখন ঢুকছেন, কোন পথে আসবেন, কোথায় উঠবেন, কোন পথে
যাবেন সব কিছু ঠিক করতেন এলাকার বেইজ কর্মী।
যাওয়ার পথে বিপন্ন হলে যোদ্ধা, ছাত্র, যুবকরা হয়তো শহীদ হতেন, নতুবা পালিয়ে যেতেন। তবে উচ্চতর ট্রেনিং
এর জন্য অস্ত্রসহ কোন গ্রুপ যাওয়ার পথে আক্রান্ত হলে পাল্টা আক্রমণ করা হত। যাওয়ার পথে শহীদ
হয়েছেন অসংখ্য নাম না জানা লোক।
আসার পথে বিপদের সম্ভাবনা ছিল বেশী। পাক বাহিনী আসার পথগুলোতে বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করেছে বেশী। আসার
পথে যোদ্ধারা আক্রান্ত হলে যুদ্ধ হত। আসার পথেও শহীদ হয়েছে অনেক।
আসা-যাওয়ার চেইন শক্তিশালী হয় যুদ্ধ শুরুর ৪/৫ মাস পর। ফলে এপ্রিল, মে, জুন মাসের দিকে অনেক
রাজনৈতিক নেতা কর্মীও বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও ভারতে যেতে ব্যর্থ হয়েছেন।
প্রাথমিকদিকে ব্যাপক হারে রাজনৈতিক কর্মী ও নেতারা ভারত গেলেও ট্রেনিং ও যুদ্ধের জন্য তা পর্যাপ্ত
ছিলনা। ফলে সংগঠকদের বারবার লোক পাঠাতে হয়েছে। লোক নেয়ার জন্যে পরিবারসহ যারা ভারত গেছেন তারা
শরণার্থী হিসেবেই থাকতে পছন্দ করেছেন বেশী।
আসা-যাওয়ার পথের কাহিনী নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের কয়েক খণ্ড বই রচনা করা যাবে। এগুলো হতে যে সত্য বেরিয়ে
আসবে তা হল- যোদ্ধাদের সর্বাত্মকভাবে সাহায্যে করেছেন এলাকার জনগণ, বেইজ কর্মীদের মাধমে। জনগণের
সর্বাত্মক সহযোগিতার ফলেই চট্টগ্রাম হতে কয়েক লক্ষ যোদ্ধা ও শরণার্থী গেলেও সে তুলনায় বিপদ হয়েছে
কম। বাসে, ট্রেনে, পথে, গাড়ীতে সবাই সহযোগিতা করেছে যোদ্ধাদের।
মূলত ৯ মাসের এ যুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ। এর ফলেই ভারত আসা-যাওয়ার পথে তুলনামূলকভাবে কম বাঁধার
সম্মুখীন হয়েছেন যোদ্ধারা।

পৃষ্ঠা: ৩৩৫-৩৩৭
বাঙালির জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম
ডাঃ মাহফুজুর রহমান
প্রকাশ – ১৯৯৩

বাঙালির জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম ১৬ আগামী কাল ভারতের ক্যাম্পে চট্টগ্রামের যোদ্ধা।

নোটিশ

——
# আপনাদের আরো পড়ার সুবিধার্থে আমাদের hellojanata APP ডাউন লোড করে নিন গুগল প্লে থেকে ।
Android Apps Link:-

https://play.google.com/store/apps/details?id=hello.janata&hl=en&gl=US
———–
এছাড়াও –
# প্রতিদিন “বাঙালির জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম -লেখক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ মাহফুজুর রহমান” পড়ুন ।।

প্রতি বুধবার “ভ্রমন”পড়ুন।। এ সপ্তাহে প্রকাশিত লেখক মুহাম্মদ মনসুরুল আজম এর ” রং টার্ন !!! ওয়ে টু থানচি বান্দরবান “ চলমান~~ আমাদের দেশের খাসিয়া উপজাতি ও ইন্দোনেশিয়ার মানুষ নিয়ে- লিখেছেন খসরু খান । ~~~
# শুক্রবারের রান্নাঘরে,প্রকাশিত হয় বৃহস্পতিবার –এ সপ্তাহে লিখেছেন ফিরোজা বেগম ” লাউের মালাইকারী ” ।। চলমান ~~~~
# শুক্র বারে ” বৈমানিকের পাণ্ডুলিপি” লিখেন বাঙ্গালি বৈমানিক”রেহমান রুদ্র”।”
বৈমানিকের মনে কি খেলা করে।”বৈমানিকের পাণ্ডুলিপি” পর্ব ১৩ । লেখা প্রকাশিত ।

# আজ শনিবার আমেরিকার বাল্টিমোর থেকে ” সব পেয়েছির দেশে ” লিখবেন লেখক আবদুল হাকিম। তিনি লিখবেন তাঁর নিজস্ব বানান রীতিতে । প্রতি শনিবার ।

কলামিস্ট ও লেখক দেওয়ান মাবুদ আহমেদের — দুবলহাটি রাজবাড়ি, নওগাঁ — চলমান —

সাহিত্য পেজে পাবেন প্রখ্যাত লেখক এবং সাংবাদিক,সংগঠক দন্ত্যস রওশন এর ১২ টি নতুন অনুকাব্য ।।চলমান~~~

# — এ ছাড়া ” রবিবাসরীয় কবিতা” পাবেন প্রতি রবিবার ।।এ সপ্তাহে “কবি তানজিম_তানিম এর তিনটি কবিতা” প্রকাশিত হয়েছে।
# আসছে ২৬শে মার্চ, স্বাধীনতা দিবসে প্রকাশিত হবে ” মাহবুবা ছন্দার” একটি জীবন ঘেঁষা ছোট গল্প–“দুঃখ রাতের গান” । মনে করিয়ে দেবে একাত্তুরের দিনগুলো ।

# সামনেই যে লেখকরা তাঁদের লেখা আমাদের এখানে নিয়মিত দেবেন বলে কথা দিয়েছেন তাঁরা হলেন — মঈন বিন নাসির , নন্দিনী সাবরিনা খান (কানাডা থেকে)। আমরা তাঁদের স্বাগত জানাই । ।

# একটি হ্যালোজনতা প্রেজেন্টেশন #

।। হ্যালো জনতা.কম ।।

নুপুর ।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here