“প্রতিরোধ যুদ্ধে চট্টগ্রাম – ১৮ “লিখছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ মাহফুজুর রহমান।।

0
48

মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম ১৮ – ক্যাম্পগুলোর অবস্থা।।

ক্যাম্পগুলোর অবস্থা:
প্রাথমিক দিকে জঙ্গল কেটে পরিষ্কার করে যোদ্ধারাই ক্যাম্পগুলোর পত্তন ঘটিয়েছেন।
থাকা খাওয়া ছিল নিম্নমানের। অবশ্য কিছু কিছু ক্যাম্পের খাবার ছিল উন্নত। প্লেট, গ্লাসের সংখ্যা ছিল আশঙ্কাজনক হারে কম। গভীর জঙ্গলে অনেক ক্ষেত্রে ১০ জনের জন্যে একটি প্লেট বরাদ্দ থাকত। ক্যাম্পগুলোতে সাপের যথেষ্ট উৎপাত ছিল। মশাও ছিল। এছাড়া বৃষ্টির সময় ক্যাম্পের ভিতরই অনেক সময় ড্রেন হয়ে যেত। বৃষ্টির তোড়ে ভাসিয়ে নিয়ে যেত সব জিনিস পত্র। তবে ক্যাম্পগুলোর ব্যবস্থাপনা-থাকা-খাওয়া-ট্রেনিং নিয়ে কোন যোদ্ধা তাদের সাক্ষাৎকারে কোন অভিযোগ করেননি, কারণ অবস্থা তাদের ধারণাতীত ছিলনা।

ক্যাম্প নয়, থাকার জায়গা:
সীমান্ত এলাকার প্রতিটি স্কুল, হাসপাতাল, বাজারে মুক্তিযোদ্ধারা বা যুদ্ধে যোগ দিতে ইক্ষুক যুবকরা ইট মাথায় অনায়াসেই শুয়ে যেতেন। বৃষ্টি বা রোদ, গরম বা শীত তাদের কাবু করতে ব্যর্থ হয়েছে।

চট্টগ্রামের প্রশাসনিক দিক:
চট্টগ্রাম প্রশাসনিক দিক হতে পূর্বাঞ্চলীয় জোনের অন্তর্ভূক্ত ছিল। প্রথমদিকে এ জোনের পরিচালক ছিলেন এম এ আলম। প্রফেসর নুরুল ইসলাম ছিলেন পরিচালক প্রশাসন, প্রশিক্ষণ অফিসার ছিলেন খালেদ মোহম্মদ আলী, সাপ্লাই অফিসার ছিলেন বজলুর রহমান ও সার্ভিস অফিসার ছিলেন মোশাররফ হোসেন।

৫ই মে জোনাল উপদেষ্টা পরিষদ হয় যুব শিবির সমূহের জন্যে আহমদ আলীকে চেয়ারমান করে। এ সময় প্রশাসনিক কাজের সুবিধা ও কাজের সমন্বয় করার জন্যে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি হয়। কমিটির কাঠামো ছিলঃ
প্রজেক্ট কো অর্ডিনেটর- মাহবুবুল আলম, ট্রেনিং কো অর্ডিনেটর- ডঃ আবু ইউছুপ, প্রশাসক- প্রফেসর নূরুল ইসলাম চৌধুরী, পরিচালক চলাচল- মোজাফফর আহমদ, পরিচালক মোটিভেশন-খালেদ মোহাম্মদ আলী। উপ পরিচালক- বজলুর রহমান, উপ পরিচালক অর্থ-মোশাররফ হোসেন। উপ কো অর্ডিনেটর রাজনৈতিক- দেবব্রত দাশগুপ্ত।

জুনে পূর্বাঞ্চলীয় জোনে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি কমিটি করা হয়। এ কমিটির নাম ছিল “Bengal Liberation Council” এর সদস্যরা ছিলেন জহুর আহমদ চৌধুরী, নুরুল হক, শামসুদ্দোহা, আবদুল কুদ্দুস মাখন, জহুরুল কাইয়ুম, মিজানূর রহমান চৌধুরী প্রমূখ। এ কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদিত ডাক্তার ছিলেন ডাঃ মোশাররফ হোসেন, ডাঃ এম এ মান্নান, ডাঃ কাজী সিরাজ। এ কমিটির আহবায়ক ছিলেন জহুর আহমদ চৌধুরী।

জুন মাসেই রাজনৈতিক কমিটি বিভিন্ন সদস্যদের বিভিন্ন দায়িত্ব ভাগ করে দেয়। এম আর সিদ্দিকীকে অর্থ দফতরের দায়িত্ব দেয়া হয়। পূর্বাঞ্চলীয় জোনের জোনাল অফিসার ছিলেন এইচ টি ইমাম।

সেপ্টেম্বরে ট্রানজিট ও যুব শিবির দেখার জন্য লিবারেশন কাউন্সিল আলী আহমদকে চেয়ারম্যান, গাজী গোলাম মোস্তফা, মোঃ ইলিয়াস, খালেদ মোহাম্মদ আলী, আবদুল্লাহ আল হারুনকে সদস্য করে একটি কমিটি করে।

অক্টোবরে পূর্ব জোনাকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে চট্টগ্রাম পাবর্ত্য চট্টগ্রামকে দঃ পূর্ব জোন এর অধীন করা হয় এবং নভেম্বরের দিকে নির্বাচনের মাধ্যমে (এম এন এ, এম পি এ দের ভোটে) প্রফেসর নুরুল ইসলাম চৌধুরী এর চেয়ারম্যান হন। এমপি, এম এম এ রা এর সদস্য হন। দক্ষিণ পূর্ব জোনের এর প্রশাসনিক কাঠামো ছিল। প্রশাসনিক অফিসার এম এ সামাদ, অতিরিক্ত প্রশাসনিক অফিসার মোঃ ইসহাক, স্বাস্থ্য অফিসার ডাঃ এ কে এম আবু জাফর, স্টাফ অফিসার এ কে এম আমিন, তথ্য অফিসার মাঈনুল আহসান, শিক্ষা অফিসার এম মহিউদ্দিন, পুলিশ অফিসার বিমলেশ্বর দেগন্তান, একাউন্টস অফিসার এম সাহাবুদ্দিন, এস হাফিজ আহমদ, এম এ মতিন। এ অঞ্চলের একাউন্টস অফিসার আরো ছিলেন মাইনুদ্দিন আহমদ। অনা কর্মকর্তারা ছিলেন কৃপাসুক চাকমা, ভবানী প্রসাদ মজুমদার, গোলাম মোস্তফা চৌধুরী, মজিবুল হক, শফিকুর রহমান, নির্মল কুমার মল্লিক, নারায়ণ চন্দ্র মজুমদার, মতিন লাল কর্মকার, বিমলেন্দু দেওয়ান।

সমসাময়িক সময়ে দক্ষিণ পূর্ব জোন-১ এর জন্যে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়৷ জনাব এম এ ওহাব এমপিকে চেয়ারম্যান করে। এর সদস্যরা ছিলেন ডাঃ এম এ মান্নান, তালেব আলী, ডাঃ ফয়েজুর রহমান।

নভেম্বরের দিকে এ জোনে বেশকিছু অনাকাঙ্খিত লোকের অনুপ্রবেশ ঘটেছে সন্দেহে চীফ অব স্টাফ এক চিঠির মাধ্যমে সর্তক করে দেয়ার কথা দলিলে উল্লেখ থাকলেও চট্টগ্রামের যারা সাক্ষাৎ দিয়েছেন তারা কেউই এর উল্লেখ করেননি। সম্ভবত এ সময়ে কিছু পাক অনুচর ক্যাম্পগুলোতে অনুপ্রবেশ করেছিল। কিন্তু তারা কোন ধরনের অপপ্রচারের সাহস করেছে বলে জানা যায়নি।

ভারতীয় অফিসারদের কেউ কেউ মেজর সুব্রানিয়াম প্রমূখ এ জোনে তাদের ইচ্ছামত লোকদের ট্রেনিং দিচ্ছিলেন বাংলাদেশ সরকারকে না জানিয়ে। এ কারণে ট্রেনিং কো অর্ডিনেটর হিসাবে খালেদ মোহাম্মদ আলীকে নিয়োগ করা হয়। এ নিয়োগ ও ভারতীয় অফিসারদের সমালোচনা করে পদক্ষেপ গ্রহণ সময়ের প্রেক্ষাপটে ছিল সাহসী পদক্ষেপ। প্রশাসনিক ব্যাপারে প্রধানত গণপরিষদ সদস্য, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ নেতারাই মূখা ভূমিকায় ছিলেন। অন্যান্য দলগুলোর নেতাদের প্রশাসন হতে দূরে রাখা হয়েছে।

ভারত হতে বাংলাদেশে যখন বিভিন্ন গ্রুপগুলো ঢোকার আগে গ্রুপগুলোকে বিফিং দেয়া হত। এফ এফ গ্রুপের ব্রিফিংএর সময় একজন সেনা অফিসার ও ন্যূনতম একজন রাজনীতিবিদ থাকতেন।

বি এল এফ গ্রুপগুলো ঢোকার সময় থাকতেন বি এল এফ নেতারা। অনেক ক্ষেত্রে নেতারা অনেক দূর এগুলোকে এগিয়ে দিতেন। এস এম ইউসুফ, সাবের আহমদ আসগরী, স্বপন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার ইবরাহিম প্রমূখ অসংখ্যবার এ কাজে দেশের অভ্যন্তরে এসেছেন।

ভারতের ক্যাম্প হতে যুদ্ধ পরিচালনা:
সেনাবাহিনী বি ডি আর, পুলিশ ও ট্রেনিং প্রাপ্ত অসংখ্য যোদ্ধাদের নিয়ে গঠিত এফ এফ ভারতীয় ঘাঁটি হতে প্রতিদিনই বিভিন্ন পাক ঘাঁটিতে আক্রমণ চালাত। চট্টগ্রামে এর সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন ক্যাঃ রফিক। তার বইয়ে ও মুক্তিযুদ্ধের দলিলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত উল্লেখিত হয়েছে।

নিজ থানায় যুদ্ধ করতে উৎসাহী:
পাকিস্তানী বাহিনী হতে চলে আসা সশস্ত্র সদস্যদের সাথে যে সব ছাত্র-যুবক এসব অপারেশনে অংশ নিতেন তাদের এক অশে চাইতেন নিজের এলাকায় গিয়ে গেরিলা যুদ্ধে অংশ নিতে।

মিরশ্বরাই এর এফ এফ কমান্ডার নিজামউদ্দিন প্রথম অপারেশন করেন চানগাজী সীমান্তে নিয়মিত বাহিনীর সাথে। পরে তিনি মিরশ্বরাই চলে আসেন। একই থানার বদরুদ্দোজা চৌধুরী প্রথমে যান খাগড়াছড়িতে যুদ্ধ করতে। পরে দাবি করেন তাকে তার থানায় পাঠাতে। কর্তৃপক্ষ রাজী না হলে দলবলসহ এলাকায় গিয়ে নিজামের সাথে কাজ শুরু করেন।

অন্য সেক্টরে যুদ্ধ করতে অনীহা:
ফটিকছড়ির শেখ আবু আহমদ ওমপিনগর ট্রেনিংয়ের পর ২২ দিন ছিলেন দলবলসহ। কর্ণেল ওসমানী সেখানে গিয়ে তাদের সিলেটে পাঠাতে চাইলে চট্টগ্রামের সবাই প্রতিবাদ করেন। এটা নিয়ে তর্কাতর্কি হয়। এরপর চট্টগ্রামের সবাইকে হরিণায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। পরে এরা লেঃ মাহফুজের নেতৃত্ব দীর্ঘদিন সীমান্ত এলাকায় গেরিলা যুদ্ধ করে। প্রতিনিয়ত সীমান্ত হতে এরা ভিতরে ঢুকত।

পৃষ্ঠা: ৩৪৩-৩৪৫
বাঙালির জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম
ডাঃ মাহফুজুর রহমান
প্রকাশ – ১৯৯৩
(২৯-০১-২০২১)

আগামী কাল ভারতে বিভিন্নভাবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পেশার লোক যারা জড়িত ছিলেন:


লেখক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ মাহফুজুর রহমান।।
কৃতজ্ঞতা স্বীকার – দেওয়ান মাবুদ আহমেদ ।

# বাংলাদেশ #
শেষ সংবাদ — দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরো ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯:হাজার ৪৬জনে। নতুন করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫৩৫৮ জন। মোট শনাক্ত ৬ লাখ ১১ হাজার ২৯৫জনে দাঁড়িয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ২২১৯জন এবং এখন পর্যন্ত ৫ লাখ ৪২হাজার ৩৯৯জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

——
# আপনাদের আরো পড়ার সুবিধার্থে আমাদের hellojanata APP ডাউন লোড করে নিন গুগল প্লে থেকে ।
Android Apps Link:-

https://play.google.com/store/apps/details?id=hello.janata&hl=en&gl=US
———–
এই পোর্টালে যারা লিখে্ন নিয়মিত —

# পড়ুন #

# প্রতিদিন— “বাঙালির জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম -লেখক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ মাহফুজুর রহমান”।
# বুধবার— “ভ্রমন”পড়ুন।। লেখক মুহাম্মদ মনসুরুল আজম , খসরু খান এবং অন্যান্য লেখক রা লিখেন এ খানে — । ~~~
# বৃহস্পতিবার — শুক্রবারের রান্নাঘর প্রকাশিত হয় বৃহস্পতিবার –লিখেন ফিরোজা বেগম লুনা । ~~~~
# শুক্র বার— ” বৈমানিকের পাণ্ডুলিপি” লিখেন বাঙ্গালি বৈমানিক”রেহমান রুদ্র”।”
# শনিবার—আমেরিকার বাল্টিমোর থেকে ধারাবাহিক লিখেন লেখক আবদুল হাকিম। তিনি লিখবেন তাঁর নিজস্ব বানান রীতিতে । প্রতি শনিবার ।
# রবিবার— ” রবিবাসরীয় কবিতা” পাবেন প্রতি রবিবার । এখানে লেখক মাহবুবা ছন্দা, তাসলিম_তামিম, মেহের সরকার নিয়মিত লেখেন আর লিখবেন ।
# কলামিস্ট ও লেখক দেওয়ান মাবুদ আহমেদ লিখেন এখানে হরহামেশাই ।
# সাহিত্য পেজে পাবেন প্রখ্যাত লেখক এবং সাংবাদিক,সংগঠক দন্ত্যস রওশন এর নতুন অনুকাব্য । ~~~
# সামনেই যে লেখকরা তাঁদের লেখা আমাদের এখানে নিয়মিত দেবেন বলে কথা দিয়েছেন তাঁরা হলেন — মঈন বিন নাসির-(প্রকাশিত) , নন্দিনী সাবরিনা খান (কানাডা থেকে)। আমরা তাঁদের স্বাগত জানাই ।

# একটি হ্যালোজনতা প্রেজেন্টেশন #

।। হ্যালো জনতা.কম ।।

নুপুর ।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here