গল্প– # ক্ষণিকের মুক্তি দেয় ভরিয়া # মাহবুবা ছন্দা ।।

0
48
# ক্ষণিকের মুক্তি দেয় ভরিয়া   #
দোলে প্রেমের দোলনচাঁপা
হৃদয় আকাশে ।
ঠিক সেই বয়সে পত্রপ্রেমের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েছিলো কল্যাণী। ভেবেছিলো নিছক একটা কল্পনা। ওর ডাকে কী শহরের চৌকস যুবকের সাড়া মিলবে। দ্বিধাসহ ঠিকানা দিয়ে লিখেছিলো ।
শ্রাবণ নামটা দেখেই কেমন একটা আচ্ছন্ন কল্যাণী।
না!
আশাহীন লেখা ।
উত্তর দিলে দিবে না দিলে দিবে না ।
কিন্তু অবাক কান্ড ঠিক সাত-আট দিন পরই ডাকপিয়নের ব্যাগের ভেতর হলুদ খামে ভরা চিঠি এলো শ্রাবণের কাছ থেকেই ।
খাম হাতে নিয়েই কল্যাণী কেমন একটা ঘোরের মধ্যে ছিলো । হাতের লেখাটাই প্রথমে অপছন্দের । মনে মনে নিজের প্রতিই বিরক্ত হলো। কেন যে লিখতে গিয়েছিলো?নিশ্চয়ই পড়া লেখাই জানে কম।
কল্যাণী খুলবে না খুলবে না করে ও ভাবলো, দেখি না ভেতরে কী লেখা আছে ।
কল্যাণী চিঠিটা বেশ কয়েকবার পড়লো। পড়ে মুগ্ধ ও হয়ে গেলো। বাজে হাতের লেখা দিয়ে এতো সুন্দর করে গুছিয়ে লিখতে পারে কীভাবে ছেলেটি?
হৃদয়গ্রাহী করা সমৃদ্ধশালী শব্দের মায়ার জালে ভরা লেখা চিঠিটি ।
সি. এ. পড়ে।
পারিবারিক তথ্যসহ পুরো ইতিহাস বৃত্তান্ত লিখেছে ।
কল্যাণী কেমন একটা ধন্ধে পড়ে গেলো।
শ্রাবণের চিন্তা – ভাবনার সঙ্গে যদি ওর না মিলে তাহলে তো আর বন্ধুত্ব এগুবে না। তবুও সাহস করে কল্যাণীর পারিবারিক বৃত্তান্ত লিখে চিঠির উত্তর পাঠালো।
উত্তর ও এলো আবার ও দিন সাতেক পরেই ।
শ্রাবণ ও পছন্দ করেছে কল্যাণীর সমস্ত কিছুই। এভাবেই লেখা লেখিতেই কত অজানা জানা হলো দু’ জনের। শ্রাবণ ঢাকার সমস্ত কিছুর বর্ণনা দিয়ে লেখে সবসময়ই । কল্যাণীর পড়াশোনা খোঁজ খবর ও নেয় রীতিমতো । ভালো রেজাল্ট করার উৎসাহ এবং ঢাকাতেই ভর্তি হতে হবে – সেই প্রেরণা ও দেয় ।
কল্যাণীর এইচ. এস. সি পরীক্ষার পর বেশ একটা ফাঁক ।
কল্যাণীই লিখে না।
শ্রাবণ পর পর লিখে উত্তর না পেয়ে আপাতত বিরতিতে থাকে ।
কল্যাণী পরীক্ষা শেষ করে বাড়িতেই বসে আছে। কোথাও যায়নি ও। বাড়িতে বসে বসে গল্পের বই পড়ে দিন কাটায়।
বি/ ৪, আজমল হোসেন ।
একটা চিঠি এলো কল্যাণীর নামে ।
লেখাটা খুবই পরিচিত লাগলো কল্যাণীর। হুবহুই শ্রাবণের লেখার মতো ।
এতোদিন ফার্মের ঠিকানায়ই লিখতো কল্যানী।
এবার বাসার ও নিজের প্রকৃত নামটাই দিয়ে লিখেছে।
এখন থেকে বাসার ঠিকানায় লিখতে বলেছে এবং আজমল হোসেন নাম দিয়ে ।
কল্যাণীও নাম না দিয়ে সম্বোধন করেছে ‘ প্রিয়বরেষু’।
কল্যাণী ভর্তিপরীক্ষা নিয়ে আবারও ব্যস্ত। যোগাযোগ বন্ধ হলো অচিরেই ।
পড়াশোনা শেষ। বিয়ে, সংসার এবং বাচ্চা। মাঝখানে দুই যুগ কেটে গেল ।
কল্যাণীর বাবার মৃত্যু বার্ষিকীতে কিছু লিখবে বলে চিঠি – পত্র ঘাটতে গিয়ে পেয়ে গেলো পত্র – মিতালির সেই চিঠিগুলো ।
সেই কবেকার কথা ।
প্রতিটি চিঠি একটার পর একটা পড়তে গিয়ে ঠিকানাটাও পেয়ে গেলো কল্যাণী। বিয়ের আগে ঢাকাতেই থেকেছে কল্যাণী।কিন্তু ভুলেই গিয়েছিলো – একজনের ঠিকানাসহ চিঠিগুলো গচ্ছিত আছে ওর কাছেই । তার কাছে যেতে পারতো এবং যোগাযোগ ও করতে পারতো । এতো ভালো বন্ধুত্ব ছিলো । দাবী না থাকলেও ভালো একটা বন্ধন ছিলো ।
কল্যাণীর মনটা আচমকা খুশিতে ভরে গেছে ঠিকানাটা পেয়ে । প্রায় সময়ই ঢাকা যাওয়া ও থাকা হয়। আজমলের খোঁজ নিয়ে ওকে চমকে দেয়া যায়।
পর মুহূর্তেই আবার দমে যায় কল্যাণী।বেঁচে আছে কিনা! তাই বা জানে কে। কিম্বা ঐ বাড়িটি ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছে কোন্ দেশ-বিদেশে।
তবুও মনের তাগিদে একটা টানে খোঁজ নিতে পথে নেমেছে কল্যাণী।
উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ লম্বা, একহারা । পরণে সাধারন টাঙ্গাইল সুতি শাড়ি । তাতেই অপরূপা সৌন্দর্যে ঝলমল করছে । ঘড়িই শুধু হাতে আছে । গহনা বাহুল্যবোধে বিশেষ নেই । তবু মনে হচ্ছে রাস্তার লোকজন ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। খুব অস্বস্তি হচ্ছে ওর। ও যে ফিরে যাবে, তা-ও পারে না । যার খোঁজে এসেছে , তার সঙ্গে দেখা করতে মন যে চাচ্ছে। কয়েকটা ব্লক পার হয়েছে । সামনেই ‘ ই- ব্লক ‘ কল্যাণীর কপালে ও নাকে বিন্দু বিন্দু ঘামও জমে ওঠে । পৌষ- মাঘের সন্ধিক্ষণে । ও সপ্রতিভ হয়েই এগিয়ে যায়। অনেক বাড়ি নাম্বারই চোখে পড়ে । কিন্তু কল্যাণীরটাই যেনো ওর সঙ্গে লুকোচুরি খেলছে ।
কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে এদিক – ওদিকে তাকায় । চারপাশ দিয়ে কত লোকই যাচ্ছে – আসছে । কিন্তু জিজ্ঞেস করার মতো উপযুক্ত কাউকে খুঁজে পেলো না।
কল্যাণী ভাবে আচ্ছা এমনটা যদি হতো যে সে পথ চলতে চলতেই কল্যাণীর সামনে পড়ে গেলো। কেউ কাউকে চিনতে পারলো না প্রথমে । কিন্তু দু’ জনারই দু’ জনকে চেনা চেনা মনে হচ্ছে । হঠাৎই মনে পড়ে আগে তো দেখাই হয়নি দু’ জনের । কল্যাণীর ভাবনায় ছেদ পড়ে ।
কল্যাণী নাম্বারটি মিলিয়ে দেখলো, এ বাড়িটাই ।
কল্যাণী যেনো এতোক্ষণে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারলো ।
কল্যাণী অতি সন্তপর্ণে গেটের দিকে এগিয়ে যায় । ভাগ্যিস দারোয়ান নেই । গেট ও খোলা ।
আরে!
এতোক্ষণ যে বাড়ি খু্ৃঁজছিলো কল্যাণী-
এ যে স্বপ্ন বাড়ি। চারপাশে কতো কতো ফুলের গাছ,বাগান, বারান্দাটানা,ছিমছাম বাড়ি , নির্জন, বড়ো বড়ো জানালা, মানুষের শব্দ নেই , নিশ্বাস নেই, ছবির মতো সব। অমন বাড়িতে ঢুকতে ও গাটা ছমছম করছে কল্যাণীর।
স্বপ্নের বাড়ি। কল্যাণীর নাকে নানান ফুলের গন্ধ ছড়ায় হঠাৎ। আলো হয়ে ওঠে দিকবিদিক। পৃথিবীর শব্দ মুছে যায় মুহূর্তেই।
কল্যাণীর চমক কেটে যায়। সামনে এক তরুণ আনমনে খবরের কাগজ পড়ছে । বয়স কুড়ি একুশ।
নিশ্চিত জেনে ও কল্যানী জিজ্ঞেস করে , এটা কী আজমল হোসেনের বাড়ি?
হ্যাঁ বলে, তরুণটি মাকে ডাকে ।
তরুণটির মা আসে ।
আবারও জিজ্ঞেস করে কল্যানী,ভদ্রমহিলাকে – এটা কী আজমল সাহেবের বাড়ি ?
হ্যাঁ।
তা আপনি কার কাছে এসেছেন ?
কল্যাণীর দিকে চোখ তুলে জিজ্ঞেস করে ভদ্রমহিলাটি।
কল্যাণী ম্লান হেসে উত্তর দেয় –
আজমল সাহেবের কাছেই ।
ভদ্রমহিলা চমকে তাকায় । কি যেনো ভাবে ।
না।তিনি তো এ সময়ে থাকেন না।বাইরে আছেন ।
চটপটে সুন্দর মহিলাটি জিজ্ঞেস করে, ফোন করে আসতেন ।
কল্যাণী চমকে ওঠে বলে, ফোন নাম্বার তো নেই ।
ভদ্রমহিলাটি হেসে বলে , আপনি ভিতরে আসুন।
বসুন এসে ।
ফোনে কথা বলিয়ে দিচ্ছি ।
কল্যাণী ম্লান মুখে বলে, না থাক। আর না বসি। আর একদিন আসবো । বাড়ি তো চিনেই গেলাম ।
সে কী হয়?
অবশ্যই হয়।
কিন্তু আপনার পরিচয়?
চিনতে তো পারলাম না । উনি এলে বলবো।
কল্যাণী মিষ্টি হেসে বলে, সে অনেক কথা । লম্বা ইতিহাস। এক কথায় সব বুঝবেন না। উনিই ঠিক চিনতে পারেন কিনা কে জানে?
ভদ্রমহিলা হাসতে চায়,কিন্তু পারে না ।
চুপ হয়ে যায় ।
ততক্ষণে কল্যাণী জিজ্ঞেস করে, আজমল সাহেব আপনার কে হয়?
মহিলা মিষ্টি হেসে বলে, উনি আমার স্বামী ।
আচ্ছা।
এতোক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন?
আসুন না। ভিতরে না গেলে বাগানের চেয়ারটায় গিয়ে বসি।
আরো বলেন,ফোন করে দিচ্ছি কথা বলুন ।
কল্যাণী বলে, না।
বরং সামনাসামনিই কথা বলি, আর একদিন এসে।
আর না।
আজ যাই। লঘু পদক্ষেপে কল্যাণী গেটের কাছে চলে আসে।
পিছন ফিরে ভদ্রমহিলাকে হাত নাড়ে । ওরই সমবয়সী মহিলা ।
কিছু দূর চলে আসার পর কল্যাণীর মনে হলো ফোন নাম্বারটা দিয়ে আসলে কিম্বা নিয়ে আসলে ভালো হতো। বাড়িতে না এসে অন্য কোথাও দেখা করা যেতো। নিজের বোকামির জন্য নিজের উপর নিজেই বিরক্ত হলো কল্যাণী।
কি আর করা! এখন বিরক্ত হয়ে লাভ নেই । চলে এসে আবার তো ফিরে যাওয়া আরো অসহ্যকর। আর ভদ্রমহিলাই কী ভাববেন !
তার চেয়ে ভালো সময় করে আবার আসা যাবে ।
কয়েকদিন পর-ই কল্যাণী আবার এসে হাজির হয়। শেষ বিকেলের দিকে বাড়িটা আরো জ্বলমল করছে । গেট পেরিয়ে দেখে বাগানে মালি গাছের পরিচর্যা করছে । একটু দূরে ভদ্রমহিলা দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে নেড়ে পাশের সঙ্গীর সঙ্গে গল্প করছেন ।
কল্যাণী দ্বিধায় পড়ে যায় । ঐ ভদ্রলোকই নিশ্চয়ই আজমল হোসেন। ও তো আগে আজমলকে দেখেনি। শুধু চিঠিতেই পরিচয় । কখনো কেউ কারো ছবি ও বিনিময় করেনি।
ঠোঁটে হাসির বিভা নিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলো কল্যাণী।
ইতিমধ্যেই মালির সঙ্গে ফুলের বর্ণনা শুনছিলো কল্যাণী।
কী একটা কথার স্বরে ভদ্রমহিলা ফিরে তাকায় কল্যাণীর দিকে । উজ্জ্বল হাসিতে ভদ্রমহিলাকে কী যে পবিত্র লাগে কল্যাণীর কাছে ।
ভদ্রলোক ও তাকিয়ে আছে কল্যাণীর দিকে । কল্যাণীর মন অনেক দূর পর্যন্ত চলে গেছে । পুরানো বাংলা উপন্যাসের শেষ কান্ডে এ রকম একটা আবহের ব্যাপার – ট্যাপার লিখতেন লেখকেরা। এখন লেখে না কেউ । কিন্তু কল্যাণী জানে, এখনো লেখা যায় ।
যায় তো।
তবে আবহটা যে কল্যাণীরই।
সেই কবেকার ,
সেই কবেকার কথা ।
স্নিগ্ধ স্বরে কল্যাণী বলে, আজ আবার চলে আসলাম।
ভালো আছেন ?
খোলা চুলগুলোতে হাত বোলাতে বোলাতে ভদ্রমহিলা বলেন ,
হ্যাঁ।
আপনার কথা ওকে বলেছিলাম ।
আসুন ।
কথা বলুন ।
ভদ্রমহিলার কথা – বার্তা, চালচলনে, চেহারায় কী যে মাধুর্যময়। এ বাড়ির ও পরিবেশের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার । সুখ-শান্তি যেনো উপচে উপচে পড়ছে ।
ভদ্রমহিলা হাত ধরে কল্যাণীকে বাগানের পাতা চেয়ারে বসিয়ে দেন ।
কল্যাণী ছোট্ট করে সালাম দেয় ।
ভদ্রমহিলা ক্ষণিক পরেই বাগান পেরিয়ে ঘরে চলে যায় ।
সন্ধ্যার অনুরাগ প্রাণমেশানো উতলা আকাশের দিকে তাকিয়ে কল্যাণী বলে, আমি পত্র মিতালির কল্যাণী।
ফুলের মতো আদরনীয় করে মনের ক্যানভাসে উজ্জ্বল হয়ে ভেসে উঠলো আজমলের মুখ ও।
যেনো অন্ততকাল দু’ জন বসে আছে পাশাপাশি। কারো মুখে কোনো কথা নেই ।
নিস্তব্ধতা ভেঙে কল্যাণী বলে, কী?
আমাকে মনে পড়তে কষ্ট হচ্ছে ?
না তো।
স্মৃতির পাতায় খুঁজে বের করতে করতে আজমল আবার ও উজ্জ্বল হয়।
ভেবেছিলে আমাদের দেখা হবে না কোনো দিনই। ঠিকই বের করে ফেললাম খুঁজে খুঁজে কল্যাণী গর্বিত মুখে বললো।
আজমল বললো,এতোকাল পরে ঠিকানা পেলে কোথায় ?
কল্যাণী মৃদু হেসে বলে, এই ঠিকানায়ই তো পরে চিঠি লিখতাম ।
আজমল অবাক বিস্ময়ে কল্যাণীর মুখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে বলে, ঠিকানাটা মনে রাখলে কী করে ?
কল্যাণী সমস্ত বৃত্তান্ত মুহূর্তেই বলে ভার মুক্ত হয়।
আজমলের বোধের জগতে তোলে প্রবল অনুভূতির আলোড়ন । দু’ জনের সুরেই চাপা দীর্ঘশ্বাসের আভাস । আজমল চমকে ওঠে ।
বেশ কিছুক্ষণ পর আজমলের স্ত্রী ফিরে এলো। খুব কাছে এসে মিষ্টি করে হেসে বললো,কথা কিছু হলো। চেয়ার টেনে ওদের মাঝে বসে মুগ্ধ দৃষ্টিতে কল্যাণীকে দেখলো। অল্পক্ষণ পরেই বেয়ারা ট্রে হাতে হাজির।
ভদ্রমহিলা অনেক যত্ন করে নাস্তাগুলো এগিয়ে দিয়ে বললো, আপনার নামটাই জানা হলো না ।
আমি রুনি।
আর আমি কল্যাণী।
কফি পেয়ালায় ঢেলে কল্যাণীর সামনে তুলে ধরে রুনি।
এ কী?
দুধ কফি তো খাই না বিশেষ ।
তবু খেতে হয়।
কল্যাণী পেয়ালা হাতে নিতে নিতে বলে, আপনারা খাবেন না?
আপনি খান, আমরা পরে খাবো।
ভদ্রতা করে চুমুক দেয় কল্যাণী।
রুনি বেশ সপ্রতিভ ও গল্পবাজ ও। যেনো কল্যাণীর সঙ্গে কতোকালের বন্ধুত্ব ও আপনজন।
আজমল চুপচাপ শুনে যাচ্ছে । কল্যাণী যেনো রুনির কাছেই এসেছে ।
কল্যাণী আজমলের লেখা চিঠিগুলো সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে । দেখিয়ে বলবে কী ছেলেমানুষ তুমি ছিলে?
কত দুষ্টমি করে চিঠি লিখতে ।
লিখতে দেরি হলে মাঝে মাঝে বকা দিতে আবার রাগও করতে !
কল্যাণী মনশ্চক্ষে সব দেখতে পাচ্ছে । সেই তো মাত্র সে দিনের কথা ।
কিন্তু না!
আমরাও চল্লিশোর্ধ্ব । আজমলের ছেলেটা ও বাইরে পড়াশোনা করতে পাঠিয়েছে । এখন ছুটিতে বেড়াতে এসেছে । কল্যাণী পুরো পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে দেখতে পেলো।
শীত বিকেলের আলো স্তিমিত ।
ঝুপ করে সূর্য ডুবে যাচ্ছে । হালকা কুয়াশার গায়ে শীতের কাটা দিচ্ছে
কল্যাণী বুঝতে পারে, আজমলের আর কৌতুহল নেই। একটা ভয় বোধ হয় ভিতরে কাজ করছে। দিন কাল ভালো নয়। কোথা থেকে কী হয়ে যায় ।
কল্যাণী উসখুস করে বলে , এবার যেতে হয়। রাত নেমে এলো যে ।
আজমল নীরব চোখ মেলে তাকায় কল্যাণীর দিকে । কল্যাণীর চোখ জ্বলজ্বল করে । চোখের সেই উজ্জ্বলতার কাছে হার মানে আজমল ।
আজমলের চোখ আর ও উদাস হয়ে পড়ে ।
রুনি চঞ্চল হয়ে বলে, তাই কী হয়!
ভিতরে চলেন। অতিথি কী শুধু বাইরে বসে চলে যায়?
কল্যাণী অপ্রস্তুত হয়ে যায় । হাত ধরে প্রায় জোর করে টেনেই নিয়ে যায় কল্যাণীকে।
ওদের পিছু পিছু আজমল চলে এলো ভিতরে ।
কল্যাণী বসার ঘরে ঢুকে আরো চমকিত হয়। ছিমছাম কিন্তু কী পরিপাটি করে সাজানো গুছানো । কল্যাণীর মনে হয় ও নিজেই সাজিয়ে গুছিয়ে হয়তো কয়েকদিনের জন্য বাইরে গিয়েছিলো ঘুরতে ।
কল্যাণী আনমনা হয়ে ঘুরে ঘুরে বইগুলো নেড়ে চেড়ে দেখছে। হঠাৎ তাকিয়ে দেখে ওর আশে-পাশে আজমল- রুনি কেউ নেই ।
রুনির স্বরে চমক ভাঙে কল্যাণীর। বইয়ের বুঝি খুব নেশা !
হ্যাঁ।
রুনি বলে আমার ও।
কল্যাণী আস্তে করে বলে তা- তো ঢুকেই বুঝতে পেরেছি।
নিশ্চিত জেনে দু’ জনের মুখখানাতে আবছা হাসি ও রচনা করে।
রুনি পাশে রাখা ফলগুলো কাছে এনে বলে, খান।
কল্যাণী বলে , ফল আর বাদাম আমার ও খুব প্রিয়।
হালকা শীতের পোষাক পরে আজমল ও ওদের সঙ্গে বসে টুকটাক খাওয়া শুরু করে ।
রুনি ব্যাকুলভাবে বলে, রাতে আমাদের সঙ্গে খেয়ে যাবেন । আমরা আপনাকে পৌঁছে দিয়ে আসবো ।
কল্যাণী আকুলভাবেই বলে, না।
তা হয় না ।
আমাকে এখন যেতেই হবে ।
রুনি কল্যাণীকে বলে, যে বইগুলো আপনার পড়া হয়নি কিম্বা সংগ্রহে নেই সেগুলো সঙ্গে করে নিয়ে যান। পড়া শেষ করে আবার নিয়ে আসবেন।
কল্যাণী বলে , দুইদিন পর-ই আমি তো চলে যাবো।আবার ঢাকায় কবে আসি ঠিক নেই । যখনই ঢাকায় আসবে তখনই আবার আমাদের এখানে চলে আসবেন ।
লেখক  মাহবুবা ছন্দা।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here