ভ্রমন- সাগরে ভাসাই জীবনতরী- লিখেছেন মুহাম্মদ মনসুরুল আজম।

0
86

সাগরে ভাসাই জীবনের তরী ।।

কিছুদিন আগে হ্যালো জনতা টিম এর সাথে গিয়েছি কক্সবাজার, টেকনাফ, সেইন্ট মারটিন আর মহেশখালী। এই সফরের একটি বিষয় ছিল দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলেদের জীবনচিত্র। তাই আজ আপনাদের শোনাবো জেলেদের জীবনসংগ্রামের কিছু গল্প।

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলার অসংখ্য মানুষ এখনো পেশাগতভাবে সামুদ্রিক জেলে। সেই আদিকাল থেকেই তারা সমুদ্রে ছুটে যায় মাছ ধরতে। এদের অনেকেরই নিজেদের কোন জাহাজ বা ট্রলার নেই। মহাজনের ট্রলার নিয়ে জীবন বাজি রেখে বেড়িয়ে পড়েন সমুদ্রপানে। বঙ্গোপসাগর ও তার মোহনা–সংলগ্ন নদী ও গভীর সমুদ্রে জেলেদের জালে ধরা পড়ে রূপচাঁদা, লইট্টা, কোরাল, লাক্কা, চিংড়ি, সুরমা, ছুরি, ফাইস্যা সহ আরো নানা সামুদ্রিক মাছ। এছাড়া প্রতিবছর মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চলে ইলিশ ধরার মৌসুম। আবার এ সকল মাছের একটা অংশ রেখে দেওয়া হয় শুটকি প্রস্তুত করার জন্য।

জেলেদের এমন অনেক পরিবার রয়েছে যাদের পুরুষেরা সমুদ্রে গিয়ে আর ফিরে আসেননি; ফেরত আসেনি তাদের লাশও। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় মাঝে মাঝেই আমরা তাদের নিহত হওয়ার খবর পাই। জেলেরা সবচেয়ে বেশী যে দুর্ভোগে পড়েন তার নাম হলো নিউমোনিয়া যা জেলেদের অকালে শেষ করে দেয়। ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ছাড়াও রয়েছে ডাকাতের আক্রমণ। ডাকাতদল আক্রমণ করলে তারা কেড়ে নেয় সব মাছ,কখনোবা শারীরিক ভাবেও আঘাতপ্রাপ্ত হয় জেলেরা। জোর করে ছিনিয়ে নেয় জেলেদের জাল, টাকা, ট্রলারের মোটর ইত্যাদি। আবার কখনো জেলেদের জলে ফেলে দিয়ে ট্রলার নিয়ে উধাও হয়ে যায় নিমিষে। জীবন যেখানে অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর আরেক নাম।

জেলে পল্লীগুলোতে গেলে মনে হবে এখানে আধুনিকতার ছোয়া লাগেনি এখনো। চারদিকে জালের আঁশটে গন্ধ আর অল্প জায়গায় ছোট ছোট খুপরি ঘর। সমুদ্র উত্তাল থাকলে নৌ-দুর্ঘটনা তো আছেই, আছে মহাজনের নজরদারি, তাদের টাকার খবরদারি, আছে পেটের ক্ষুধা আর ভাতের টান। সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে যখন উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি আর ফিরে আসে না,দিনের পর দিন মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও স্বজনেরা যখন আর নিখোঁজ জেলের সন্ধান পায়না তখন সংসারের পুরো বোঝা এসে পড়ে জেলে বঁধুর ঘাড়ে। ফলে বাধ্য হয়েই মানবেতর জীবন যাপন করতে হয় তাদের।

এখানে অথই পানি ।বঙ্গোপসাগরে ভারত, মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের তাদের নিজ নিজ সীমানা রয়েছে। মাছেদের কোনো সীমানা নেই। আর অধিক মাছ আহরণের জন্য জেলেরা প্রায়ই নিজেদের সীমানা পার হয়ে ঢুকে পড়ছে অন্যের জলসীমায়। তাই সাগরে জেলেদের মধ্যে সংঘাত এখন নৈমিত্তিক ঘটনা।
সাগরে এখন প্রচুর পরিমানে বড় বড় মাছ ধরার জাহাজ নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই মৎস আহরণ করছে। এতে মৎস সম্পদের উপরে পড়ছে বিরুপ প্রভাব। স্থানীয় জেলেরা জানান প্রশাসন এসব ব্যাপারে জানলেও কোনো পদক্ষেপ প্রায়শই নেয় না। তাই সরকারকে তার মৎসজীবিদেরকে এ সংক্রান্ত আইন-কানুন ও অন্যান্য বিধিনিষেধ সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।
আবার চিত্র টির অন্য পিঠ ও আছে !

গভীর সমুদ্র থেকে ফিরে আসা মাছভর্তি ট্রলারগুলো ঘাটে সারিবদ্ধভাবে নোঙর করতে থাকে। তখন জেলে, আড়তদার ও মাছ ব্যবসায়ীদের দম ফেলার ফুরসত থাকেনা। সবাই ব্যাস্ত থাকেন বিভিন্ন কাজে,কেউ মাছের ঝুড়ি টানছেন, কেউ প্যাকেট করছেন, আবার কেউ কেউ সেই প্যাকেট দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে তুলে দিচ্ছেন ট্রাকে। সবার চোখেমুখে থাকে তখন দেখা মেলে আনন্দের ছায়া।

এখানে অনেক কষ্ট, টানাটানি- হতাশা-সমুদ্রের দিকে বাকহীন চোখে চেয়ে থাকা,হা এখানেই সেই যাপিত জীবন। ভদ্র মহাশয়দের ডাইনিং টেবিলের দৃশ্যের সাথে যে মেলে না কিছুই !

এভাবেই শত কষ্ট আর বেদনার মাঝেই,বেয়ে নিয়ে যান এখানকার জেলেরা তাদের জীবন তরী।

লিখা ও ছবি – মুহাম্মদ মনসুরুল আজম। ৪/৪/২১

# আপনাদের আরো পড়ার সুবিধার্থে আমাদের hellojanata APP ডাউন লোড করে নিন গুগল প্লে থেকে ।
Android Apps Link:-

https://play.google.com/store/apps/details?id=hello.janata&hl=en&gl=US
———–
এই পোর্টালে যারা লিখে্ন নিয়মিত —

# পড়ুন #
# # প্রিয় লেখক,বন্ধু মঈন বিন নাসিরের ইন্তেকালে হ্যালো জনতা শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছে ।
# # আজ ( প্রতিদিন) রাত দশ টায় পাবেন একটি গান। আমাদের বিনোদন পেজে ।
# প্রতিদিন— “বাঙালির জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম -লেখক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ মাহফুজুর রহমান”।
# বুধবার— “ভ্রমন”পড়ুন।। লেখক মুহাম্মদ মনসুরুল আজম , খসরু খান এবং অন্যান্য লেখক রা লিখেন এ খানে — । ~~~
# বৃহস্পতিবার — শুক্রবারের রান্নাঘর প্রকাশিত হয় বৃহস্পতিবার –লিখেন ফিরোজা বেগম লুনা । ~~~~
# বৃহস্পতিবার — খেলা ধুলা বিভাগে লেখক ইহতিশামুল হক জাওয়াদ কবি লিখবেন ” ক্রিকেটের সোনালী প্রান্তরে ” নামে তার কলাম ।
# শুক্র বার-” বৈমানিকের পাণ্ডুলিপি” লিখেন বাঙ্গালি বৈমানিক”রেহমান রুদ্র”।শুরু হোল “সোফিয়া ও পাহাড়চূড়ায় পিরামিড”-ধারাবাহিক। আজ প্রথম অংশ।
# শনিবার—আমেরিকার বাল্টিমোর থেকে ধারাবাহিক লিখেন লেখক আবদুল হাকিম। তিনি লিখবেন তাঁর নিজস্ব বানান রীতিতে । প্রতি শনিবার ।
# রবিবার— ” রবিবাসরীয় কবিতা” পাবেন প্রতি রবিবার । এখানে লেখক মাহবুবা ছন্দা, তাসলিম_তামিম, মেহের সরকার নিয়মিত লেখেন আর লিখবেন ।
# কলামিস্ট ও লেখক দেওয়ান মাবুদ আহমেদ লিখেন এখানে হরহামেশাই ।
# সাহিত্য পেজে পাবেন প্রখ্যাত লেখক এবং সাংবাদিক,সংগঠক দন্ত্যস রওশন এর নতুন অনুকাব্য । ~~~
# সামনেই যে লেখকরা তাঁদের লেখা আমাদের এখানে নিয়মিত দেবেন বলে কথা দিয়েছেন তাঁরা হলেন–ইহতিশামুল হক জাওয়াদ কবি লিখবেন বৃহস্পতিবার ~~

নন্দিনী সাবরিনা খান (কানাডা থেকে)তিনি লিখবেন প্রতি মঙ্গলবার — লিখেছেন

হ্যালো জনতা ডট কম লেখা লেখির ভুবনে তাঁদের স্বাগতম জানাচ্ছে।

# একটি হ্যালোজনতা প্রেজেন্টেশন #

।। হ্যালো জনতা.কম ।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here