Life:৭২ থেকে ২২-জীবন বহমান-তিন –আরিচা টু নগরবাড়ি ঘাট -মুসা কামাল (এম কে)।

0
76

# আর মাত্র দুই দিন পেরিয়ে #

—————
# তাহাঁদের কথা । #
# ফিচার গ্রুপ পোস্ট #
# পদ্মা সেতু নিয়ে লেখকদের লেখা #

৭২ থেকে ২২-
জীবন বহমান-তিন –
আরিচা টু নগরবাড়ি –
মুসা কামাল (এম কে)।

আরিচা টু নগরবাড়ি —

১৯৭৬ সালে চলে গেলাম রাজশাহীতে । জীবনের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ – রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ।
ভর্তি হয়েছি । এবার পড়াশুনার পালা ।
মনে করে বলতে পারছি না তখনো তিস্তা ব্রিজ পুরোই ট্রেনে করে চলাচলের যোগ্য হয়েছিল কিনা । তবে রংপুর থেকে পার্বতীপুর স্টেশন যেতে হত প্রথমে । রাত পেরিয়ে পরদিন ভোরে আব্দুলপুর এসে আবার বসে থাকা । আবার খুলনা থেকে আসা ট্রেন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন অথবা বাসে করে নাটোর যেয়ে বাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুরে(বিশ্ব বিদ্যালয় সংলগ্ন) যেতে হতো আমাদের । মোটামুটি ২৪-৩০ ঘণ্টার ধাক্কা । প্রচুর সময় বেরিয়ে যেত । যাতায়াত টা সে সময়েও অনেক ঝক্কি ঝামেলাময় ছিল । তখনো বাসের আজকের মত এত সম্প্রসারিত ব্যবস্থা গড়ে উঠে নাই । ইন্টারসিটি ট্রেনও স্বপ্নেও ভাবিনি আমরা । তাছাড়া রাস্তা ঘাটের অবস্থা ছিল বেজায় করুন । তখন কেবল রাস্তার দিকে তাকাবার পালা এসেছে । শুরু হবে বা হচ্ছে রাস্তা ঘাটের কার্যক্রম । সম্ভবত ৮০ সাল পর্যন্ত এমনি চলেছিল । আমরা সুখের মুখ দেখি নি । আশির দশকে এসে মোটামুটি যাত্রা পথ কিছুটা সুগম হয়েছিল । কিন্তু আশির দশকের শুরুতেই আমি চাকুরিতে চলে যাই । দেশ বিদেশ, হিল্লি-দিল্লি প্লেনে করে ঘুরতে শুরু করলাম। ফলে আর রাস্তার দিকে তাকাবার ফুরসত কমে গেল ।

অত্যন্ত বিশাল এলাকা জুড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস । আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় । তখন বেশ কিছু হল ( ছাত্রাবাস) ছিল । শেরে বাঙলা হল, মাদার বক্স হল , এস এম হল , নওয়াব আব্দুল লতিফ হল , আমির আলি হল, শহীদ জোহা হল,শহীদ হাবিবুর রহমান হল আর মেয়েদের জন্য মুন্নজান হল ।
সে সময় এই ক’টি হলই ছিল । পরে অনেক গুলি হল হয়েছে । সে সময় সারা ক্যাম্পাস জুড়ে গাছ গাছালি লাগানো হচ্ছিল । বেশ ফাঁকা ফাঁকা ছিল । এখন তো রাজশাহী বিশ্ব বিদ্যালয় ক্যাম্পাস দেখার মতই । বিশাল এক অক্সিজেনের ভাণ্ডার । গাছ গাছালিতে পরিপূর্ণ । ছাত্র ছাত্রীদের কোলাহলে মুখরিত ।

# রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার #

আমরা কোন মতে শহীদ জোহা হলে মাথা গুঁজেছি । আমি,বাদল, তুরান তিনজন । তুরান খুলনার , বাদল ঢাকার । অন্যান্য বন্ধু
রা ?? তাঁরা মাথা গুজলো —— কোথায় —

বাহার ( নোয়াখালী ) আর সিরাজ ( বরিশাল) শহীদ হাবিবুর রহমান হলে, আর মাহবুব (কুমিল্লা) শেরেবাংলা হলে । বুলবুল, মানিক, বাবু , জাকি, সরাফ( জার্মানি ) ওরা শহরের । আমাদের এক বন্ধু ছিল শাহাজাহান সিরাজ । এরশাদ বিরোধী স্কপের হরতালের দিন ( ১৯৮৪) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে গুলিতে শহীদ হয়েছেন । কবি নির্মলেন্দু গুণ সেই হত্যাকাণ্ড নিয়েই কবিতা লিখেছিলেন — লাল সার্ট লাল সার্ট ফায়ার ফায়ার ।

আর করোনা কালে ওই খুব ভাল বন্ধু বাহারটাই আমাদের ছেড়ে চলে গেছে । বাকি সবাই আছি । অনেকেই আছি । সবার নাম আর লিখলাম না।
এবার নিজের কথা বলি —
আর আমি — আমিও ঢাকার । পিতা ছিলেন এক জন সরকারী কর্মকর্তা । চাকরি সুত্রেই তিনি ঢাকায় বদলি হলেন ১৯৭৬ সালের শেষে । ফলে ৭৭ সাল আসতে না আসতেই আমরা ঢাকায় পুরো পরিবার চলে এলাম । কাজেই আমিও ঢাকার । আমার আর বাদলের এখন একসাথে চলাচল । রাজশাহী – ঢাকা- রাজশাহী ।

সে সময় একটা বাসের কথা মনে পরে । আমরা সেই বাসেই ঢাকা- রাজশাহী আসা যাওয়া করতাম । তখন বুঝিবা আরো বাসের ঢাকা যাতায়াত শুরু হয়েছিল । সে গুলি উল্লেখযোগ্য নয় আর আমার মনেও নেই ।

তবে মনে আছে আবাহনীর খেলা থাকলেই সোজা ঢাকা ।বাদল আবার বি জে এম সি
‘র সমর্থক ছিল । তবুই সে আসতো । বাসের বিড়ম্বনা , ফেরির বিড়ম্বনা ইত্যাদি হরেক বিড়ম্বনা ছিল সে সময়ের চলাচলে । তবুও আসতাম ।
আমাদের রাজশাহী শহরে যেয়ে বাসের টিকেট কাটতে হত । আজকের সময়ের মত বাস স্ট্যান্ড বা টিকেট ঘর সে সময় এতো সহজ লভ্য ছিলই না, বলতে গেলে ছিলই না । বিষয় গুলো বেশ দুরহ ছিল ।

এরপরেও ছিল রাস্তার বিপত্তি । একজীবনে তিস্তা ব্রিজের নৌকায় পারাপার ছিল , এবার জীবনে শুরু হল আরিচা – নগরবাড়ির ফেরি পারাপারের ধাক্কা । চলেছিল অনেক সময় জুড়েই ।

———-
ফিচার গ্রুপ পোস্ট —

আজকের লেখা (২২/৬/২০২২)।
## পদ্মা সেতু ,যেন যুগযুগান্তের বাঙালির সাধনার পরিপূর্ণ রুপ- কলকাতা , ভারত থেকে লেখক,কলামিস্ট উৎপল দত্ত ।
## ৭২ থেকে ২২-জীবন বহমান-তিন – এম কে ( মুসা কামাল) এর সিরিয়াল ।
আগামী কালকের লেখা (২৩/৬/২০২২)।
@@ সাদা কথা— আমেরিকার বাল্টিমোর থেকে আব্দুল হাকিম ।
@@ ৭২ থেকে ২২ – জীবন বহমান-চার – এম কে ( মুসা কামাল) এর সিরিয়াল ।
##
ফিচার গ্রুপ পোস্ট ।
ফিচার গ্রুপ ।
হ্যালো জনতা ডট কম
———-

hellojanata.com

# আরিচা- নগরবাড়ি ফেরি #

ফেরি ঘাটের ধাক্কা মনে রাখতেই হয় । কখনো ফেরি নেই ,কখনো ফেরিতে উঠতে যেয়ে বাসের এক্সিডেন্ট ইত্যাদি তো নিত্য দিনের সহচর । পথে খাবারের অসুবিধা । তার উপর গরম কালে প্রচণ্ড গরম , বাতাসের অভাব , শীতে আবার ঠাণ্ডা ।এপার ওপারে যেতে কখনো লাগে দুই আড়াই ঘণ্টা আবার কখনো তিন সাড়ে তিন ঘণ্টা । জীবনের সেই ফেরির যাত্রার দুঃসহ স্মৃতি কি ভুলতে পারা যাবে কখনই ?
নগরবাড়ি থেকে আরিচা বুঝিবা বেশ দুরেই ছিল । টনক নড়েছিল কর্তাদের বেশ পরে । পাটুরিয়া ঘাট চালু হয়েছিল অনেক অনেক পরে । ফলে সময়ের অপচয় কমেছিল । তবে উত্তর বঙ্গের সাথে যোগাযোগ খুব কঠিন ছিল সেই দুই দশকে ।

এর মধ্যে যমুনা সেতুর বিষয়ে কথা এলো ইথারে । জানা গেল যমুনা সেতু তৈরি করবে সরকার । একি কথা ! আমরা আমাদের জীবনের মাঝে যমুনা সেতুর কথা যে ভাবতেই পারি নাই ।সিনেমা টিকেট,বাস ,ট্রেন সবকিছু থেকেই খুব অল্প পরিমানে টাকা কাটা শুরু হল ।

আমরা কিন্তু বরাবরই কোন কিছুই বিশ্বাস করি না সহজেই ।কেন জানি না! প্রায় অনেকেই বলে বসলেন – আরে যমুনা সেতু হবেই না । টাকা মেরে খেয়ে নেবে ।
আমরা এমনি বলি ! আমরা এমনি শুনি !মনের জোর কম বলেই হয়তবা প্রতিবাদ করি না । আর বুঝিবা ব্যক্তি জীবনের অসততাও এর জন্য অনেক ক্ষেত্রেই দায়ী ।

এরি মাঝে একটি প্রশ্ন আমার মাথায় ঘুরতে থাকে সবসময় – আমরা এতো অবিশ্বাসী কেন ? আমরা কি এতটাই অসৎ ?
একসময় পথে রিকসা চালক এক শত টাকা পরে পেলে নিকটের থানায় জমা দিতেন ।সে খবর পত্রিকায় আসত প্রথম পৃষ্ঠায় । সবাই বাহবা দিতেন । এখন সেই গল্প কোথায় উধাও কে জানে?
এখন আর সে সমস্ত খবর দেখি না । হয়তবা থানায় কেউ আর পরে পাওয়া টাকা জমা দেন না !
আমরা কি ভাবে যেন সব খানেই পালটে গেলাম ।
অথচ একদিন চোখের সামনে এসে দাঁড়ালো যমুনা সেতু । তিন তিনটে সরকার মিলেই গড়ে তুলল বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু । সকলকে ধন্যবাদ দিতেই হবে ।

আর এর ফলেই উত্তরবঙ্গে জীবন যাত্রার ব্যপক পরিবর্তন আসতে শুরু করলো । ব্যবসা বাণিজ্য , যোগাযোগ , পড়াশুনা ইত্যাদি সকল বিষয় সামনে এসে গেল । এবার নব্বইএর দশকে এসে রাস্তাঘাটের উন্নতি শুরু হল । ভাল যোগাযোগ ব্যবস্থা যে উন্নতির প্রধান শর্ত =- এই কথাটি বুঝলেন তাঁরা । শুরু হয়ে গেল ।
আমি ভাবি এসব ।

আর এই পাল্টানোর মাঝেই কিন্তু এগুতে থাকলাম ।দেরীতে হলেও নব্বইএর দশকের শেষ ভাগে এসে সকলেই বুঝলেন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিই উন্নয়নের প্রথম সোপান । তাই সে পথেই রওয়ানা হল দেশ আর—-
অনেক নেগেটিভের মাঝে দেশের মানুষের আর আমাদের জীবন কিন্তু বহমান ।

## আগামী কাল পাবেন-৭২ থেকে ২২-জীবন বহমান- ৪ ।


হ্যালো জনতা ডট কম ।
hellojanata.com .
# এখানে প্রকাশিত অধিকাংশ অকৃত্রিম লেখা আমাদের ব্লগে নিয়মিত সম্প্রসারিত হয় ।
কাজেই লেখা ডিলিটের কারনে লেখা এখানে না পেলে ব্লগে পাবেন ।
হ্যালো জনতার ব্লগ সাবস্ক্রাইব করুন।।
কপি অ্যান্ড পেস্ট টু ইওর ব্রাউসার ।
https://hellojanata350.blogspot.com–

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here