Life:৭২ থেকে ২২-জীবন বহমান-দুই – ঢাকা আমার ঢাকা -মুসা কামাল (এম কে)।

0
101

# আর মাত্র তিন দিন বাকি #

—————
# তাহাঁদের কথা । #
# ফিচার গ্রুপ পোস্ট #
# পদ্মা সেতু নিয়ে লেখকদের লেখা #

৭২ থেকে ২২-
জীবন বহমান-দুই –
ঢাকা আমার ঢাকা –
মুসা কামাল (এম কে)।

ঢাকা আমার ঢাকা ।

ঢাকায় পৌঁছেছিলাম সকাল দশটা বা এগারোটার দিকে । তখন কমলাপুর স্টেশন হয়ে গেছে ।আমরা নেমেছিলাম তেজগাঁও স্টেশনে ।

তখন তো আর এখনকার তেজগাঁও শিল্প এলাকা জুড়ে যে বড় দুই লেনের রাস্তা তা কিন্তু ছিল না । আমরা সোনার গাঁও হোটেলের সামনের পথ দিয়ে মগবাজারের নয়াটোলায় খালার বাসায় গিয়েছিলাম বেশ মনে আছে । বলে রাখি তখন সোনার গাঁও হোটেলও ছিল না । ও দিকটায় লম্বা পানির আঁধার । রামপুরার ওদিকটা দেখা যেত । আজ এত দিন পরেও এই জায়গাটার কথা মনে পরে,তখন ভাল লাগত বেশ । ও দিকটায় অবারিত পানি আর পানি , মিশেছে ওই রামপুরা পেরিয়ে দূরে আকাশের সীমানায় । এখনো চোখে ভাসে ! এই ঢাকা শহরেই সকলের আড্ডা গাড়তে হবে , এমন কথা কি লেখা ছিল কোথাও ? নাকি শহর প্লানারদের দিগগজ মস্তিস্কে সেটি ভাবার যায়গাই ছিল না ? কিন্তু বিকেন্দ্রীকরণের সুত্র তো নতুন কিছু নয় ! আর সেই সুত্র উপেক্ষিত হওয়ার ফলেই আজ ‘ঢাকা আমার ঢাকায় ‘দুই আড়াই কোটি লোকের বাস । সকলেই ঢাকা মুখী । মানুষের উপর মানুষ । জীবন এর মাঝেই বহমান । কষ্ট ,দুঃখ,সংগ্রাম আর যুদ্ধ আর বিজয় এখন জীবনের নিত্য সঙ্গী ।

এখনকার সোনারগাঁও হোটেলের উল্টো দিকেই বেশ বড় একটা খাল ছিল । এখন সেখানে পার্ক করা হয়েছে । ওই খালে বাঁশ দিয়ে উচু করে স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে ‘ দারুল কাবাব ‘ বলে নাম করা একটা কাবাবের দোকান ছিল । বিহারিরা চালাতো । একাতুরের আগে এখানে সবাই খুব ভিড় করেই কাবাব খেত । ভাল সুস্বাদু কাবাব আর রুটি হতো এখানে ।

স্বাধীনতার পরে এবার এসে দেখলাম দোকানটি নেই । শুনেছি যুদ্ধ কালে পাকিস্তানী সেনাদের পক্ষে , বাঙ্গালির বিপক্ষে সহায়তা আর দালালী কারনে ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে । মতান্তরে শুনেছি একাত্তুরে মুক্তিবাহিনী ‘ দারুল কাবাবে’ আক্রমন করে উড়িয়ে দিয়েছিল । কিন্তু কোথায় কোন লেখায় খুঁজে পাইনি । আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আর মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক বীরত্ব ময় কাহিনী লেখা হয় নাই । এ নিয়ে অনেকেই মন খারাপ করেন , অন্তত যারা যুদ্ধটা দেখেছেন তারা তো অবশ্যই । আমিও সেই দলে ।

আচ্ছা আসল কথায় আসি । সে সময় ঢাকা শহরের রাস্তাঘাট চিকন আর এখানে লোকজনের বসতি অনেক কম । অনেক কম বলতে অনেক ই কম । গাড়ী অনেক কম । প্রধানত বাই সাইকেলই প্রধান বাহন ।

# উপরের ছবিটি দেশ স্বাধীন হওয়ার পরের । নিচের ছবিটি উপরের ছবির ১০০ বৎসর আগের । পার্থক্য যে রকম হওয়া উচিত ছিল ততটা নয় বলেই প্রতীয়মান হয় ।

উন্নয়নের কোন ছোঁয়াই তখন ঢাকার উপশহরগুলোতে ছিল না ।বনানী , গুলশান বা ধানমণ্ডি কোথাও না ! তবে একটা কথা মনে পড়লো ।এসময়ে ঢাকার খাবার পানি অনেক ভাল ছিল। স্বাস্থ্য সম্মত । ক’দিন ঢাকায় থাকলেই চেহারা ভাল হয়ে যেত ।

আমরা দুই দিন পরে ঢাকার ফুসফুস খ্যাত ‘রমনা পার্কে’ গিয়েছিলাম । রমনা পার্ক দেখতে নয় । ওই পার্কে ছিল ‘ তখনকার ঢাকার চিড়িয়াখানা । ছোট আর কয়েকটা হরিন,বানর, গুটি কয়েক পাখি,সাপ ইত্যাদি ছিল সেখানে ।
আমরা তাই দেখতে গিয়েছিলাম ।তখনও আজকের মিরপুর গড়ে উঠেনি ।চিড়িয়াখানা তো দুরের কথা ।
ঢাকার রমনা পার্কে এর পরে বেশ কিছু দিন ছিল চিড়িয়াখানা টি ।তাও বেশ ক’ বৎসর তো হবেই । ( অনেক খুঁজেও সেই রমনা পার্কের ‘চিড়িয়া খানার ‘ কোন ছবি পাই নি ।)

# এটি রমনা পার্ক যখন গড়ে উঠে তখনকার ছবি । এখন এখানে দোয়েল চত্বর ।

ঢাকার চিড়িয়াখানাটি ব্রিটিশ শাসনের আমলে গড়ে তুলেছিলেন ঢাকার কালেক্টর ডাউজ্জ । এটি ঢাকার নবাবদের ও একটি কীর্তি । পাকিস্তান আমলে রমনা পার্কের কিছুই করা হয়নি বলেই প্রতীয়মান হয় । কোথায় কিছু লেখা নাই । মনেও পরে না ।

সেই ১৯৭২ সালে আমরা ঢাকার গুলিস্তানে গিয়েছিলাম মীর জুমলার কামান’বিবি মরিয়ম’ দেখতে ।৬৪,৮১৫ পাউন্ড ওজনের এই কামানটি । মীর জুমলা আসাম অভিযানে মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের পক্ষে দুইটি কামান ব্যবহার করেন । সেই জোড়া কামানের এটি একটি । পরে এটি ঢাকার চকবাজারে জামে মসজিদের সামনে , পরে সোয়ারি ঘাটে রক্ষন করা হয়েছিল । পরে এটিকে নিয়ে আসা হয় গুলিস্তান সিনেমার সামনে । গুলিস্তান সিনেমার ঠিক সামনেই ছিল এই কামান টি । এখন এটি আছে ‘ওসমানী উদ্যানে ‘।

# ঢাকার চক বাজারের বড় মসজিদের সামনে’ বিবি মরিয়ম’।

অবাক হয়ে শুনেছি ‘মীর জুমলার ‘ এই কামানটির জোড়া টি হারিয়ে গেছে বুড়িগঙ্গা নদীতে । কোথায় হারালো কে জানে ? তবে তখন চোখ বড় বড় করে শুনেছি এখনো নাকি বুড়িগঙ্গার পানির নিচ থেকে ভেসে আসে সেই হারানো সাথীর গুরুগম্ভীর ডাক । কি জানি কতটা সঠিক ছিল সেই শোনা কথা ।

ঢাকায় তখন কিছুই ছিল না । ছিল শুধু পাকিস্তানীদের ২৩ বৎসরের প্রবঞ্চনার ফলাফলের সাক্ষী । আমরা গেলাম গুলিস্তানের সামনেই ইগলু আইসক্রিমের দোকানে । তবে বেশ মজাই করেছিলাম সেদিন । আসলে তখন তো ঢাকায় বলতে গেলে দেখার মত বা এখন স্মরণ যোগ্য কিছুই ছিল না । তবে এর দুই একদিন পরে আমরা ধানমণ্ডিতে ৩২ নম্বরে স্বাধীনতার সূতিকাগার বঙ্গবন্ধুর বাড়ি দেখতে গিয়েছিলাম ।
————–
ফিচার গ্রুপ পোস্ট —

আজকের লেখা (২১/৬/২০২২)।
## স্বপ্নে ভরা সেই স্বপ্নের পদ্মা সেতু- লেখক খসরু খান ।
## ৭২ থেকে ২২ – জীবন বহমান-দুই – এম কে ( মুসা কামাল) এর সিরিয়াল ।
আগামী কালকের লেখা (২২/৬/২০২২)।
@@ পদ্মা সেতু ,যেন যুগযুগান্তের বাঙালির সাধনার পরিপূর্ণ রুপ- কলকাতা , ভারত থেকে লেখক,কলামিস্ট উৎপল দত্ত ।
@@ ৭২ থেকে ২২ – জীবন বহমান-তিন – এম কে ( মুসা কামাল) এর সিরিয়াল ।
##
ফিচার গ্রুপ পোস্ট ।
ফিচার গ্রুপ ।
হ্যালো জনতা ডট কম
—————–

hellojanata.com

ঢাকা থেকে ফিরেছিলাম সপ্তাহ খানেক পরে ।
তখনো বাংলাদেশের বিধ্বস্ত অবস্থা ।কেবল ঠিক করার প্রস্তুতি চলছে ।
তার মাঝেই বাহাদুরাবাদ ঘাট হয়ে তিস্তামুখ ঘাট ধরে তিস্তা ব্রিজ হেটে /নৌকায় পেরিয়ে কুড়িগ্রামে ফিরে এসেছিলাম ।
একটা উপলব্ধি নিয়েই ফিরে এসেছিলাম সেবার ঢাকা থেকে – আর সেই উপলব্ধি হল – আমরা আসলেই গরিব- আমাদের কিছুই নেই । ভারত ভাগ হওয়ার পরে ২৩ বৎসরে আমরা আসলে কিছুই পাই নাই ।

রাস্তা ঘাট ,মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা আর সংস্কার এ সময়ই শুরু হয়েছিল । সেটি আমরা দেখলাম বেশ পরে যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম তখন( ১৯৭৬)।

এরি মাঝে কিন্তু জীবন কিন্তু বহমান ।

## আগামী কাল পাবেন- নগর বাড়ি ঘাট টু আরিচা ঘাট- জীবন বহমান- ৩ ।

হ্যালো জনতা ডট কম ।
hellojanata.com .
# এখানে প্রকাশিত অধিকাংশ অকৃত্রিম লেখা আমাদের ব্লগে নিয়মিত সম্প্রসারিত হয় ।
কাজেই লেখা ডিলিটের কারনে লেখা এখানে না পেলে ব্লগে পাবেন ।
হ্যালো জনতার ব্লগ সাবস্ক্রাইব করুন।।
কপি অ্যান্ড পেস্ট টু ইওর ব্রাউসার ।
https://hellojanata350.blogspot.com–

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here